তিন-তিনটি ফাইনালে উঠেও শিরোপা ছোঁয়া হয়নি, স্বপ্নভঙ্গের সেই তিক্ত অতীতকে পেছনে ফেলে অবশেষে আফ্রিকান ফুটবলের শীর্ষ সিংহাসনে বসলো ক্যামেরুনের অদম্য নারীরা!
রোববারের ফাইনালে চমক দেখানো মালাউইকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে ধূলিসাৎ করে নিজেদের প্রথম নারী আফ্রিকান কাপ অব নেশনস ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছে ক্যামেরুন।
প্রথমবারের মতো টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠে রূপকথার জন্ম দেওয়া মালাউই লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞ ও কৌশলী ক্যামেরুনের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।
বিশ্বের ১৫৩ তম ও আফ্রিকার ৩২ নম্বর দল হিসেবে মালাউইয়ের এই ফাইনালে ওঠাই ছিল ফুটবলের অন্যতম বড় চমক। তবে শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে চতুর্থবারে এসে ভাগ্যলক্ষ্মীর কৃপা আদায় করে নেয়
ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে ক্যামেরুন। ম্যাচের ২০ মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর আলগা বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দলকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন তারকা ফরোয়ার্ড ম্যারি নাগ। ঠিক ১০ মিনিট পর, অর্থাৎ ম্যাচের ৩০ মিনিটে নাওমি এতোর দর্শনীয় গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ (২-০) করে নেয় ক্যামেরুন।
বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে মালাউই কোনোমতে ব্যবধান কমানোর আশা করলেও প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে (৪৩ মিনিট) আবারও আঘাত হানেন সেই ম্যারি নাগ।
নাওমি এতোর চমৎকার পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় ও দলের হয়ে তৃতীয় গোল করে প্রথমার্ধেই মালাউইয়ের শিরোপা স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দেন নাগ।
দ্বিতীয়ার্ধে আর গোল না হওয়ায় ৩-০ গোলের দাপুটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ক্যামেরুন। ১৯৯৮ সালে চালু হওয়া নারী আফ্রিকান কাপের ইতিহাসে চতুর্থ নতুন চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নাম লেখালো ক্যামেরুন।
টুর্নামেন্টে রেকর্ড ১০ বার শিরোপা জিতেছে নাইজেরিয়া, দুবার ইকুয়েটোরিয়াল গিনি এবং একবার চিলির দক্ষিণ আফ্রিকা।
এই টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত হয়েছে আগামী বছর ব্রাজিলে বসতে যাওয়া নারী বিশ্বকাপের টিকিট। চ্যাম্পিয়ন ক্যামেরুন ও রানার্স-আপ মালাউই ছাড়াও সেমিফাইনালে ওঠা মরক্কো ও টাইব্রেকারে ব্রোঞ্জ জেতা আলজেরিয়া বিশ্বমঞ্চে আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব করবে।
শিরোপা প্রদান অনুষ্ঠানে সব আলো কেড়ে নেন ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো। কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল (সিএএফ) সভাপতি প্যাট্রিস মোতসেপকে পাশে নিয়ে হাসিমুখে বিজয়ী দলের হাতে মেডেল তুলে দেন তিনি।
সামনের মার্চে পুনর্নির্বাচনের দৌড়ে থাকা ইনফান্তিনোর সঙ্গে ছবি তুলতে ক্যামেরুনের নারী ফুটবলারদের মধ্যে দেখা গেছে তুমুল প্রতিযোগিতা। বিশ্বকাপ বেচাকেনার আগের বিতর্ককে একপাশে সরিয়ে আফ্রিকান ফুটবলের উৎসবে মেতে উঠলেন ফিফা প্রধানও।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা