ম্যানচেস্টার সিটির বেঞ্চে অলস বসে থাকার দিন শেষ! অবশেষে ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ডের ট্রান্সফার ফিতে ইতি টেনে উত্তর লন্ডনের দল টটেনহ্যাম হটস্পারে যোগ দিলেন ২২ বছর বয়সী ব্রাজিলীয় উইঙ্গার সাবিনহো। চুক্তি অনুযায়ী পারফরম্যান্স ও অন্যান্য শর্ত সাপেক্ষে রবার্তো দে জের্বির ‘স্পার্স’ শিবিরকে অতিরিক্ত আরও ১০ মিলিয়ন পাউন্ড গুণতে হতে পারে। অর্থাৎ, দলবদলের বাজারে নতুন করে এক বড় ধরনের মাস্টারস্ট্রোক খেললো উত্তর লন্ডনের ক্লাবটি।
টটেনহ্যামের ডেরায় সাবিনহোর এই আগমন অবশ্য একদিনের গল্প নয়। গত গ্রীষ্মকালীন দলবদলেই তাঁকে দলে ভেড়াতে জানপ্রাণ লড়েছিল স্পার্স কর্তৃপক্ষ, কিন্তু সেবার ম্যান সিটিতেই থেকে যাওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নেন এই ব্রাজিলীয় তারকা। তবে পেপ গার্দিওলার কোচিংয়ে গত মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে মাত্র ৭টি ম্যাচে প্রথম একাদশে সুযোগ পাওয়ায় ইতিহাদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত ত্বরান্বিত হয়।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে উচ্ছ্বসিত সাবিনহো বলেন, একটু সময় বেশি লেগেছে ঠিকই, তবে এখানে আসতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত। বিশ্বের অন্যতম সেরা ম্যানেজারের অধীনে এত বড় একটি ক্লাবে খেলা সত্যিই দুর্দান্ত সুযোগ। কোচের সঙ্গে কথা বলার পরই আমি বুঝেছিলাম যে আমাকে এখানেই আসতে হবে। তিনি আমাকে বিশ্বের সেরা পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
টটেনহ্যামে যোগ দেওয়ার পর নিজের জার্সির নামের ক্ষেত্রেও এক নতুন চমক নিয়ে এসেছেন এই তারকা। ম্যানচেস্টার সিটিতে দুই বছর ‘সাবিনহো’ নামে মাঠ কাঁপালেও টটেনহ্যামের হয়ে খেলার সময় তিনি নিজের প্রথম নাম ‘সাবিও’ ব্যবহার করবেন। স্প্যানিশ ক্লাব জিরোনায় খেলার সময় জার্সির পেছনে সাবিও নামই লেখা থাকত। পরবর্তীতে ব্রাজিল জাতীয় দলে অভিষেকের পর ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় ‘সাবিনহো’ ব্যবহার করলেও, এখন তিনি আবার পুরানো নামেই ফিরে গেলেন।
কোচ রবার্তো দে জের্বি নতুন শিষ্যকে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলেন, সাবিও এমন একজন খেলোয়াড় যিনি উইংয়ে গতি, কল্পনা এবং অসাধারণ গুণমান নিয়ে আসেন। ডিফেন্ডারদের সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানানোর সাহস এবং নিজের সৃজনশীলতা দিয়ে যেকোনো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর রয়েছে।
চলতি দলবদলে যেন টাকার থলে নিয়ে নেমেছে টটেনহ্যাম! সাবিও ছাড়াও চলতি গ্রীষ্মে তারা ওয়েস্ট হ্যাম থেকে মাতেউস ফার্নান্দেস, নিউক্যাসেল থেকে স্যান্দ্রো তোনালি এবং ব্রাইটন থেকে ইয়ান পল ভ্যান হেকেকে রেকর্ড ৩১২ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে উড়িয়ে এনেছে। এখানেই শেষ নয়; ফ্রিতে সাইন করানো হয়েছে দুই তারকা ডিফেন্ডার মার্কোস সেনেসি ও অ্যান্ড্রু রবার্টসন এবং গোলরক্ষক মার্টিন ডুবরাভকাকে।
এখানেই চমকের শেষ নয়! ম্যানচেস্টার সিটি থেকে মিসরীয় ফরোয়ার্ড ওমর মারমুশকেও টটেনহ্যামের কাছে বিক্রি করার বিষয়ে দু'পক্ষের কথাবার্তা প্রায় চূড়ান্ত। ১ সেপ্টেম্বরের ট্রান্সফার ডেডলাইনের আগেই এই চুক্তিও আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়িত হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। সাবিও ও মারমুশের আগমনে জের্বির আক্রমণভাগ আগামী মৌসুমে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে কতটা তাণ্ডব চালায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়!