লা লিগার ষষ্ঠ রাউন্ডে যেন সব রোমাঞ্চ আর নাটকের ঝুলিয়ে রাখা বাঁধ ভাঙল! এলচেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে নাটকীয় এক জয় তুলে নিয়েছে হোসে মরিনহোর রিয়াল মাদ্রিদ। দুই গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও যখন ড্রয়ের লজ্জায় ডুবতে বসেছিল অল-হোয়াইটরা, ঠিক তখনই অতিরিক্ত সময়ে বদলি খেলোয়াড় কার্লোস এস্পির দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মাদ্রিদ। এই জয়ের মাধ্যমে ছয় ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনাকে একাই টেক্কা দেওয়ার চরম বার্তা দিয়ে রাখল গ্যালাকটিকোরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই রিয়ালের দাপট! ২৫ মিনিটে আর্দা গুলেরের নেয়া এক ফ্রি-কিক সামলাতে গিয়ে গোল পোস্টের ভেতরে নিজের হাতেই বল ঠেলে দেন এলচে গোলরক্ষক মাতিয়াস দিতুরো। আট মিনিট পরই দিওমান্দোর ভাসানো ক্রস থেকে চমৎকার হেডে ব্যবধান ২-০ করেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপে।
বিরতির আগেই এমবাপে আরেকটি গোল করলেও অফসাইডের ফাঁদে পড়ে তা বাতিল হয়ে যায়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দৃশ্যপট পুরো বদলে দিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচে ফেরে এলচে।
ম্যাচের ২০ মিনিট বাকি থাকতে দিন হুইসেনকে পরাস্ত করে এরিয়েল ওসোরিও প্রথম গোল শোধ করেন, আর ৮৩ মিনিটে মার্ক কুকুরেয়ার চরম ভুলের সুযোগ নিয়ে ফের নিনো সমতা ফেরান এলচের হয়ে। রিয়াল যখন হারের সমান ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ার শঙ্কায়, ঠিক ৯১ মিনিটে জুড বেলিংহাম ও এমবাপের সাথে চোখধাঁধানো বোঝাপড়ায় ম্যাচের জয়সূচক গোলটি তুলে নেন তরুণ এস্পি।
দিনের অন্য ম্যাচে অবশেষে হারের বৃত্ত ভেঙে প্রথম জয়ের মুখ দেখেছে ভ্যালেন্সিয়া। কোচ কার্লোস বরখাস্ত হওয়ার পর বি-টিমের কোচ অস্কার সানচেজের অধীনে মাঠে নেমে দেপোর্তিভো আলাভেসকে ১-০ গোলে হারিয়েছে তারা। ৭৮ মিনিটে জাভি গুরেরার চমৎকার অ্যাসিস্ট থেকে ভ্যালেন্সিয়ার হয়ে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন লুইস রিওহা, যদিও গোল করার পরপরই ইনজুরির কারণে তাঁকে মাঠ ছাড়তে হয়। প্রথমার্ধে আরনাউত দানজুমা ভ্যালেন্সিয়ার হয়ে একটি গোল করলেও তা বাতিল হয়, অন্যদিকে আলাভেস বারবার সুযোগ হাতছাড়া করে হারের বিষাদ নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
দিনের শুরুর রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে এস্পানিওলকে ২-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের নির্বাসন কাটিয়েছে রায়ো ভায়েকানো। লেগানেসের বুতার্কে স্টেডিয়ামে ম্যাচের মাত্র তিন মিনিটেই আলভারো গার্সিয়া রায়োকে এগিয়ে দেন, আর ২৬ মিনিটে আদ্রিয়া পেদ্রোসা ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় এস্পানিওলের হয়ে ৫৪ মিনিটে রাউল ফার্নান্দেজ একটি গোল করে ব্যবধান কমালেও শেষ পর্যন্ত রায়োর শক্ত রক্ষণে কাটা পড়ে এস্পানিওলের আর পয়েন্ট পাওয়া হয়নি।
তথ্যসূত্র: ইএসপিএন