ইস্তাম্বুলের আলী সামি ইয়েন স্টেডিয়ামের অগ্নিগর্ভ পরিবেশে প্রথমার্ধের কঠিন সময় পেছনে ফেলে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেছে বার্সেলোনা। মঙ্গলবার রাতে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে স্বাগতিক গ্যালাতাসারেকে তাদেরই ঘরের মাঠে ৪-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে কাতালান জায়ান্টরা।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে বার্সেলোনার বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামালের জাদুকরী পারফরম্যান্সে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ পুরোপুরি ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। এই জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ গ্রুপের দ্বিতীয় রাউন্ডের অর্ধেক খেলা শেষে টানা দুই জয়ে পয়েন্ট তালিকার এক নম্বরে উঠে এসেছে বার্সা, আর ঘরের মাঠে হেরে পয়েন্টশূন্য থেকে তলানিতে রয়েছে গ্যালাতাসারে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বার্সেলোনা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করলেও ডান প্রান্তে ১৯ বছর বয়সী লামিন ইয়ামালকে শুরু থেকেই কড়া পাহারায় রাখে স্বাগতিকদের রক্ষণভাগ। ফলে বার্সার বেশিরভাগ আক্রমণ পরিচালিত হয় মাঠের বিপরীত প্রান্ত দিয়ে, যেখানে নেতৃত্ব দেন অ্যান্থনি গর্ডন।
ম্যাচের ২৭ মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে এগিয়ে যায় গ্যালাতাসের। পেনাল্টি বক্সে গর্ডন পড়ে যাওয়ার পর বাঁ প্রান্ত ধরে রাফায়েল লেয়াওয়ের দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বল পেয়ে যান রুশ মিডফিল্ডার আলেক্সেই বাতরাকভ। তাঁর নেয়া শট কানসেলোর গায়ে লেগে দিক পাল্টে জালে জড়ালে স্তব্ধ হয়ে যায় বার্সা শিবির।
এরপর কর্নার থেকে ভিক্টর ওসিমেনের হেড গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়াকে পরাস্ত করলেও বারিস ইলমাজ অফসাইড পজিশনে বল জালে জড়ানোয় বেঁচে যায় বার্সেলোনা। তবে সমতা ফেরাতে বেশি সময় নেয়নি তারা। বক্সের মাথায় ডেভিনসন সানচেজ বলের নিয়ন্ত্রণ হারালে সুযোগ বুঝে দানি ওলমো বল বাড়িয়ে দেন কানসেলোর দিকে, আর নিখুঁত শটে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান এই পর্তুগিজ ডিফেন্ডার।
নাটক জমে ওঠে দ্বিতীয়ার্ধে। ম্যাচের শুরু থেকেই ম্যাচের কেন্ট্রোল নিজেদের মুঠোয় নেন লামিন ইয়ামাল। তার নিখুঁত ও দৃষ্টিনন্দন বাঁকানো ক্রসে দুর্দান্ত হেডে বল জালে জড়িয়ে বার্সাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন ফারমিন। এর ঠিক তিন মিনিট পর ছোট জায়গার মধ্যে অবিশ্বাস্য ড্রিবলিং জাদুতে গ্যালাতাসারের এরেন এলমালিকে একে একে তিনবার পরাস্ত করেন ইয়ামাল। এরপর গোলমুখে দাঁড়িয়ে থাকা অ্যান্থনি গর্ডনের উদ্দেশ্যে বল বাড়িয়ে দিলে আর ভুল করেননি এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-১!
ম্যাচের ৬৫ মিনিটে ইয়ামাল নিজের উইং থেকে বল নিয়ে সোজা বক্সের ভেতরে ঢুকে বদলি খেলোয়াড় গ্যাব্রিয়েল জেসুসের উদ্দেশ্যে পাস বাড়ান। জেসুস বল নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলেও প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল চলে আসে করিম আদেয়েমির পায়ে, যিনি জোরালো শটে চতুর্থ গোলটি নিশ্চিত করেন।
নিজের নামের পাশে গোল পাওয়ার দারুণ সুযোগ পেলেও ১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল গোলশূন্যভাবেই মাঠ ছাড়েন। খোদ গোল পেলে কিলিয়ান এমবাপ্পের রেকর্ড ছোঁয়ার হাতছানি থাকলেও সামগ্রিক খেলায় তাঁর চোখধাঁধানো অ্যাসিস্ট ও পাসিং দক্ষতা ইস্তাম্বুলের দর্শকদের মোহগ্রস্ত করে রাখে। তুর্কি দুর্গে বার্সার এই রকেটগতির জয় ইউরোপের ফুটবল মঞ্চে তাদের সেরা ফর্মেরই এক জোরালো ঘোষণা দেয়।