উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রাতে ফুটবলের আসল উন্মাদনা আর চমকপ্রদ নাটকের এক নিখুঁত কোলাজ দেখল পুরো বিশ্ব! বায়ার্ন মিউনিখের ঘরের মাঠে পিছিয়ে পড়েও ডেক্লান রাইসের শেষ মুহূর্তের দেবদূতের মতো আবির্ভাবে ২-২ গোলে সমতায় খেলা শেষ করেছে আর্সেনাল। অন্য ম্যাচে স্প্যানিশ পরাশক্তি রিয়াল মাদ্রিদ ৪-১ গোলের উড়ন্ত জয়ে আরবি লাইপজিগকে চূর্ণ করলেও, ইতালির ডেরা কোমোতে একই ৪-১ ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয়ে চরম লজ্জার মুখ দেখেছে ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
জার্মানির আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় আর্সেনালের শুরুটা ছিল ভীষণ আশঙ্কাজনক। ম্যাচের ১০ মিনিটের মাথায় চোট পেয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়েন বুকাও সাকা। তবে এই ধাক্কা সামলে ২৫ মিনিটে বুক কাঁপানো লং বলে এবেরেচি ইজে ভিএআরের সবুজ সংকেতে গানারদের এগিয়ে নেন। বায়ার্ন জবাব দিতে বেশি দেরি করেনি, ৩৫ মিনিটে কেইনের বাড়ানো থ্রু বল ধরে দুর্দান্ত শটে রায়াকে পরাস্ত করেন অলফনসো ডেভিস।
দ্বিতীয়ার্ধে ৬১ মিনিটে ইউরিয়েন টিম্বারের হ্যান্ডবলের সুবাদে পাওয়া পেনাল্টি থেকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজের ৫৮তম গোলটি করে বায়ার্নকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন কেইন। আর্সেনালের জন্য যখন পরাজয় স্পষ্ট, ঠিক তখনই ৮২ মিনিটে ভিক্টর জ্যোকেরেসের সাথে বক্সের ভেতরে চমৎকার 'ওয়ান-টু' পাস খেলে বায়ার্নের জাল কাঁপিয়ে আর্সেনালকে অলৌকিক ড্র উপহার দেন ডেক্লান রাইস।
সান্তিয়াগো বার্নাবেউতে রেয়াল মাদ্রিদ ৪-১ গোলের ব্যবধানে জিতলেও ম্যাচের আসল নায়ক ছিলেন গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। ম্যাচের শুরুতে রোমুলো ও এনকুনকুর দুটি নিশ্চিত গোল সেভ করে দলকে রক্ষা করেন তিনি। ৪৩ মিনিটে বার্নার্দো সিলভার ট্যাপ-ইনে খোলে রেয়ালের গোলের খাতা।
বিরতির পর কিলিয়ান এমবাপ্পের হেডে তৈরি হওয়া বল থেকে গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন আর্দা গুলের। ৮৩ মিনিটে এমবাপ্পে নিজে এক দৃষ্টিনন্দন বাঁকানো শটে গোল করেন। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ইয়ান দিওমান্দে ব্রা হিম দিয়াজের ক্রস থেকে নেওয়া চোখধাঁধানো ভলিতে ৪-১ ব্যবধানের বিশাল জয় নিশ্চিত করেন।
তবে রাতের সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারি ঘটেছে উত্তর ইতালিতে! নিকো পাজের তাণ্ডবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ৪-১ গোলের লজ্জা উপহার দিয়েছে কোমো। খেলার দ্বিতীয় মিনিটেই কার্লিং শটে কোমোকে এগিয়ে নেন পাজ, এরপর আরও একটি গোল বানিয়ে দেন এবং একক প্রচেষ্টায় দারুণ এক ফিনিশিংয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি তুলে নেন। ইনজুরি টাইমে জিরকজি ইউনাইটেডের হয়ে একটি গোল শোধ করলেও তা শুধু ব্যবধানই কমিয়েছে।
ইউরোপের অন্যান্য ম্যাচেও চলে গোলের মিছিল। দশ জনের ইন্টার মিলান ১-০ গোলে হারিয়েছে শাখতার দোনেৎস্ককে। অ্যাস্টন ভিলা ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছে নরওয়ের ভাইকিংকে। গ্যালাতাসারে ৪-২ গোলে হারায় লিলেকে, আর রিয়াল বেতিস ১-০ গোলে হারিয়েছে ফেইনুর্দকে। তবে বড় চমক দেখিয়েছে এলএএসকে, লিসবনে গিয়ে পর্তুগিজ পরাশক্তি স্পোর্টিংকে ৩-২ গোলে হারিয়ে অঘটন ঘটিয়েছে তারা।
চলতি মৌসুমে টানা তিন ম্যাচের তিনটিতেই জিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান দখলে রেখেছে প্যারিস সেন্ট জার্মেইন, অ্যাস্টন ভিলা, রেয়াল মাদ্রিদ, লিভারপুল এবং রিয়াল বেতিস।