লন্ডনের ঐতিহাসিক ‘লন্ডন প্যালাডিয়ামে’ ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত সম্মাননা ব্যালন ডি’অর ২০২৬ সংস্করণের বিজয়ী ঘোষণার আর মাত্র ২৪ ঘণ্টারও কম সময় বাকি। যত সময় গড়াচ্ছে, বিশ্বসেরার এই দৌড় ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনাও তত তুঙ্গে পৌঁছাচ্ছে। এবারের ট্রফির মূল দাবিদার হিসেবে আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছে তিন তারকা- স্পেনের ১৯ বছর বয়সী বিস্ময় বালক লামিনে ইয়ামাল, ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপে এবং ইংলিশ গোলমেশিন হ্যারি কেইন।
ইতিমধ্যেই নিজেকে সেরা দাবি করে সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে পড়েছেন ফরাসি বিশ্বকাপ বিজয়ী এমবাপ্পে এবং বার্সেলোনার তরুণ তুর্কি ইয়ামাল। তবে মাঠের মতোই নীরব কিন্তু বিধ্বংসী মেজাজে শান্ত থেকে নিজের পারফরম্যান্স দিয়েই কথা বলতে পছন্দ করছেন হ্যারি কেইন।
ফরাসি ডাটা অ্যানালাইসিস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘আভিসিয়া’-র প্রকাশ করা তথ্যানুযায়ী, ২০২৫-২৬ মৌসুমের সেরা ফুটবলার হিসেবে ব্যালন ডি’অর জেতার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন লামিনে ইয়ামাল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হিসেবে ইয়ামালের জয়ের সম্ভাবনা ২৩ শতাংশ। ২১ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন হ্যারি কেইন এবং ১৯ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে আছেন এমবাপে ও গত আসরের (২০২৪) বিজয়ী রদ্রি। আশ্চর্যজনকভাবে ১৮ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে তালিকার পঞ্চম স্থানে জায়গা ধরে রেখেছেন রেকর্ড ৮ বারের বিজয়ী লিওনেল মেসি। উল্লেখ্য, এই এআই প্রতিষ্ঠানটি গত ২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী উসমান দেম্বেলেসহ শীর্ষ ৫ জনের নাম নিখুঁতভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল।
তবে এআই ইয়ামালকে এগিয়ে রাখলেও, বেটিং বাজার বা বুকমেকারদের শতভাগ আস্থা হ্যারি কেইনের ওপর! বাজিকরদের মতে, কেইনের ব্যালন ডি’অর জেতার সম্ভাবনা প্রায় ৭০ শতাংশ।
কার মাথায় উঠবে বর্ষসেরার এই মুকুট, তা নিয়ে ফুটবল দুনিয়া এখন দ্বিধাবিভক্ত। আতলেতিকো মাদ্রিদের কোচ দিয়েগো সিমেওনে ও ইতালির সাবেক তারকা মার্কো মাতেরাজ্জির মতে, ৩৮ বছর বয়সেও দুর্দান্ত খেলা লিওনেল মেসির হাতেই যাওয়া উচিত ৯ম ব্যালন ডি’অর। অন্যদিকে জুড বেলিংহাম তাঁর জাতীয় দলের অধিনায়ক হ্যারি কেইনের কঠোর পরিশ্রম ও সততার প্রশংসা করে তাঁর জয়ের পক্ষে মত দিয়েছেন। আর ইংলিশ তারকা অ্যান্থনি গর্ডন তাঁর বার্সা সতীর্থ ইয়ামালের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে তাঁকে সম্পূর্ণ অন্য লেভেলের খেলোয়াড় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
একক পরিসংখ্যানের দিক থেকে কিলিয়ান এমবাপে ও হ্যারি কেইনের পারফরম্যান্স ছিল এক কথায় অবিশ্বাস্য। লা লিগায় ২৫ গোল এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১৫ গোল করার পাশাপাশি বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটও জিতেছেন এমবাপে। অন্যদিকে, হ্যারি কেইন গত মৌসুমে করেছেন চোখধাঁধানো ৭৩টি গোল, যা ২০১১-১২ মৌসুমে মেসির ৮২ গোলের পর ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি।
তবে মূল ধাক্কাটা এখানেই! ব্যক্তি হিসেবে পরিসংখ্যান পাহাড়সম হলেও দলগত বড় কোনো ট্রফি জিততে পারেননি এমবাপে বা কেইন। এমবাপে ক্লাব বা জাতীয় দলের হয়ে কোনো শিরোপাই পাননি, আর কেইন বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে বুন্দেসলিগা জিতলেও ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান দিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।
ঠিক এই জায়গাতেই বাজিমাত করছেন ১৯ বছর বয়সী লামিনে ইয়ামাল! যদিও ইনজুরির কারণে তাঁর ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান খুব একটা আহামরি ছিল না, তবে স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জয় এবং বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা শিরোপা ঘরে তুলেছেন তিনি। ব্যালন ডি’অরের বিগত ১৯ বছরের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কেবল চারজন বিজয়ী বড় কোনো মেজর ট্রফি (বিশ্বকাপ, ইউরো, কোপা আমেরিকা বা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ) ছাড়া এই ট্রফি জিততে পেরেছেন।
সুতরাং, বড় টুর্নামেন্টের ট্রফি জেতার এই সোনালী রেকর্ড সম্পূর্ণভাবেই ইয়ামালের পক্ষে কথা বলছে। যদি সত্যি সত্যিই তাঁর মাথায় এই মুকুট ওঠে, তবে ১৯৯৭ সালে ২১ বছর বয়সে ব্রাজিলের 'দ্য ফেনোমেনন' রোনালদোর গড়া কনিষ্ঠতম বিজয়ী হওয়ার রেকর্ড ভেঙে দেবেন ১৯ বছরের এই তরুণ স্প্যানিশ রাজপুত্র!
বাংলাদেশের দর্শকেরা অনুষ্ঠানটি সরাসরি দেখতে পারবেন অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম DAZN এবং ব্যালন ডি’অরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। তবে সম্প্রচার দেখতে নিবন্ধন বা সাবস্ক্রিপশন প্রয়োজন কি না, তা সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মে যাচাই করে নেয়া ভালো। বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা থেকে শুরু হবে রেড কার্পেটের আয়োজন। এতে অংশ নেবেন বিশ্ব ফুটবলের তারকা খেলোয়াড় ও অতিথিরা। মূল পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শুরু হবে রাত ২টায়।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা-গোল ডটকম