চীনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত কমিউনিস্ট নেতা মাও সে তুংকে নিয়ে তৈরি একটি ট্রো 'মিম' দেখে অবমাননাকর মন্তব্য এবং হাসাহাসি করার অভিযোগে চরম রাজনৈতিক ও আর্থিক বিপাকে পড়েছেন ফরাসি ফুটবল তারকা কিলিয়ান এমবাপে। ফুটবল বিশ্বে নিজের বিশাল প্রভাবের কথা বিবেচনা না করেই, মজা করে চীনা সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি মিম দেখে মাও সে তুংকে ‘চীনা এক ডিকটেটর’ বলে অভিহিত করেন তিনি। এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চীন, যার জেরে একের পর এক চীনা ব্র্যাণ্ড তার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করছে।
ঘটনার সূত্রপাত ফরাসি একটি টকশো ‘দ্য ব্রিজ’-এর ইন্টারভিউ ক্লিপ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর। ফুটবল ফোরাম ‘দংকিউদি’ ফরাসি তারকার এই মন্তব্যকে চীনা জনভাবাবেগে চরম আঘাত হিসেবে চিহ্নিত করার পরই চীনের সোশ্যাল মিডিয়া ওয়েইবোতে বয়কটের ঝড় ওঠে।
ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি তাদের অ্যাপ থেকে এমবাপে সংক্রান্ত কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার পাশাপাশি স্প্যানিশ লা লিগার ম্যাচ সম্প্রচার পুরোপুরি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে, ডেইরি জায়ান্ট মেংনিউ এবং ডংপেং ড্রিংকসের মতো বিলিয়ন ডলারের চিনা ব্র্যান্ডগুলো অবিলম্বে এমবাপের সঙ্গে তাদের বহুমুখী স্পন্সরশিপ চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দেয়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও মন্তব্য করে জানায় যে, জনগণের অনুভূতিতে আঘাত হানলে এমন প্রতিরোধ স্বাভাবিক।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা উপলব্ধি করে দ্রুত ক্ষমা চেয়েছেন এমবাপে। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমার মন্তব্যটি অবিবেচকের মতো হয়েছিল। আমি এখন বুঝতে পারছি এটি চীন এবং বিশ্বের চীনা সম্প্রদায়ের বহু মানুষকে ব্যথিত করেছে। যাদের মনে আঘাত লেগেছে, আমি সবার কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাচ্ছি। পাশাপাশি স্প্যানিশ ফুটবল লিগ ‘লা লিগা’ কর্তৃপক্ষও চিনা ফুটবল ভক্তদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে।
উল্লেখ্য, ১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠা করা মাও সে তুং দেশটির শাসক হিসেবে বিতর্কিত হলেও কমিউনিস্ট পার্টি ও চিনের জনগণের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় একজন জাতীয় প্রতীক। মাও সে তুংকে নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা করা চীনে চরম রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
যদিও এমবাপ্পে আগে এক সাক্ষাৎকারে স্বৈরশাসকদের সঙ্গে নিজের এই কাল্পনিক তুলনাকে অনভিপ্রেত ও সংবেদনশীলতার অভাব বলে উল্লেখ করেছিলেন, কিন্তু অসাবধানতাবশত চিনা সংবেদনশীলতায় স্পর্শ করায় শেষ পর্যন্ত এক বিশাল বৈশ্বিক সংকটে পড়লেন এই তারকা ফুটবলার।
তথ্যসূত্র: বিবিসি