গ্রিসের এথেন্সে যেন এক পুরোদস্তুর থ্রিলার নাটক সাজিয়ে রেখেছিল স্বাগতিক এএকে এথেন্স। তবে শেষ অঙ্কে গিয়ে সব আলো কেড়ে নিলেন সেই ফেদেরিকো ভালভার্দে। ইনজুরি টাইমের শেষ মুহূর্তে তাঁর ট্রেডমার্ক ‘রকেট’ শটে ভর করে এএকে এথেন্সকে ৩-২ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বে জয়ের শতভাগ ধারা বজায় রাখল রিয়াল মাদ্রিদ। প্রথম চার ম্যাচের চারটিতেই জিতে ১২ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করলো মরিনহোর শীর্ষ দল।
এদিন আর্দা গুলারকে বেঞ্চে রেখে ডেনজেল ডামফ্রিজকে শুরুর একাদশে সুযোগ দেন কোচ মরিনহো। আক্রমণে ইয়ান দিওমান্দে ও ভিনিসিউস জুনিয়র দুজনকেই এক সঙ্গে নামানো হয়। তবে রিয়ালের সাবেক তারকা লুকা জভিচকে নিয়ে নামা এ একে এথেন্স শুরুতেই চমকে দেয় গ্যালাকটিকোদের। ম্যাচের ১৫ মিনিটের মাথায় জভিচের বাড়ানো বলে বক্সের বাইরে থেকে কাট-ইন করে মার্ক কুকুরেয়াকে ফাঁকি দিয়ে কাছের পোস্টে থিবো কুর্তোয়াকে পরাস্ত করেন আবু বাকারি কোইতা।
১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে রিয়াল। প্রথমে ভিনিসিউসের ক্রসে বেলিংহামের ছোঁয়ায় বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। তবে পাঁচ মিনিট পরেই ভুল শুধরে নেন এই ইংলিশ তারকা; দারুণ এক ব্যাকহিলে বল জালে পাঠিয়ে রিয়ালকে ১-১ সমতায় ফেরান বেলিংহাম। সমতায় ফিরলেও এথেন্সের জমাট রক্ষণের সামনে বেশ হাঁসফাঁস করতে দেখা যায় রিয়ালকে। কিলিয়ান এমবাপের বাড়ানো বলে গোল করার সহজ সুযোগ নষ্ট করেন কুকুরেয়া, আর এমবাপের নিজস্ব এক জোরালো শটও অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। রিয়ালের লিড নেওয়া যখন সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই কাউন্টার অ্যাটাক থেকে কোইতার পাস থেকে থিবো কুর্তোয়ার পায়ের নিচ দিয়ে বল জালে জড়িয়ে রিয়াল সমর্থকদের স্তম্ভিত করে দেন এথেন্সের স্তাভ্রো পিলো (২-১)।
পিছিয়ে পড়ে পয়েন্ট হারানোর শঙ্কায় পড়ে যাওয়া রিয়ালকে ম্যাচে ফেরান পুরো ম্যাচে কিছুটা নিষ্প্রভ থাকা ডেনজেল ডামফ্রিজ। ডান প্রান্ত থেকে তাঁর নিখুঁত ক্রস ধরে দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে স্কোরলাইন ২-২ করেন কিলিয়ান এমবাপে। গোল করেই ডামফ্রিজের দিকে আঙুল উঁচিয়ে উদযাপনে মাতেন ফরাসি তারকা।
তবে আসল নাটক তখনও বাকি ছিল। নির্ধারিত সময় পার হয়ে যোগ করা সময়ে এথেন্সের ডিফেন্সকে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে ২৫ গজ দূর থেকে দূরপাল্লার এক বিধ্বংসী শটে বল টপ কর্নারে জড়িয়ে দেন ফেদেরিকো ভালভার্দে। তাঁর এই চোখধাঁধানো গোলেই ২-৩ ব্যবধানের রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ। চার ম্যাচে চার জয়ে রিয়ালের ঝুলিতে এখন ১২ পয়েন্ট, আর সমপরিমাণ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ৩০ নম্বরে নেমে গেছে এ একে এথেন্স।