আর্জেন্টিনার ফুটবল কিংবদন্তি ডিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনার সেই স্মৃতিবিজড়িত জন্মভিটেতে এখন প্রতি সপ্তাহে শত শত মানুষের ভিড় জমে। তবে, এই ভিড় ফুটবল উন্মাদনার জন্য নয়, বরং প্লাস্টিকের পাত্র ভরে খাবার সংগ্রহ করার জন্য। ক্ষুধার্ত মানুষের পেটে দুই মুঠো খাবার তুলে দিতেই বাড়িটি পরিণত হয়েছে লঙ্গরখানায়। সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল এক রান্নাঘর, তৈরি হয় স্যুপসহ নানা খাবার।
রাজধানী বুয়েনস আইরেসের উপকণ্ঠে অবস্থিত দরিদ্র জনপদ ভিলা ফিওরিতোর এই বাড়িটি এখন আর ২০২০ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ম্যারাডোনার পরিবারের মালিকানাধীন নেই। তবে, গত এক মাস ধরে এর বর্তমান মালিক বাড়ির উঠানটি একদল স্বেচ্ছাসেবককে ব্যবহার করতে দিয়েছেন। সেখানে তারা চুলা জ্বালিয়ে প্রতিবেশীদের জন্য রান্নাবান্না করেন।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মারিয়া তোরেস বড় দুটি পাত্রে স্ট্যু নাড়ছেন, আর বাকিরা আলু ছালানো এবং মুরগির মাংস কাটার কাজে ব্যস্ত। বাড়ির সামনের দেয়ালে আঁকা একটি ম্যারাডোনার ম্যুরালের পাশে লেখা রয়েছে- ‘ঈশ্বরের ঘর’।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী আর্জেন্টিনায় দারিদ্র্যের হার কমতির দিকে। ২০২৪ সালের প্রথমার্ধে যখন প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই পেসোর ব্যাপক অবমূল্যায়ন করেন এবং মুদ্রাস্ফীতি আকাশচুম্বী হয়, তখন দারিদ্র্যের হার ছিল ৫২.৯ শতাংশ। অথচ ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে তা কমে ৩১.৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধের পরিসংখ্যান আগামী মঙ্গলবার প্রকাশিত হবে।
ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব আর্জেন্টিনার সমাজবিজ্ঞানী এদুয়ার্দো দোনজা বলেন, যদিও দারিদ্র্যের হার খুবই উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে, তবুও আর্জেন্টিনার এখন কৃষি খাতের মতো পুঁজি-নিবিড় খাতের চেয়ে খনিজ শিল্পের মতো শ্রম-নিবিড় খাতে আরও বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন।
মাসিক মুদ্রাস্ফীতি ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ার ফলেই দারিদ্র্যের এই হ্রাস ঘটেছে। মিলেই দায়িত্ব নেওয়ার সময় মুদ্রাস্ফীতি দুই অঙ্কের ঘরে থাকলেও গত ফেব্রুয়ারিতে তা ২.৯ শতাংশে নেমে এসেছে।
তবে মিলেইয়ের কঠোর ব্যয়সংকোচন নীতির কারণে সরকারি খাতের জনবল ব্যাপক হারে হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া পরিবহন ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমিয়ে দেওয়ায় অনেকেই তাদের ক্রয়ক্ষমতা হারিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
অস্থায়ী এই লঙ্গরখানা পরিচালনাকারী যাজক লিওনার্দো ফ্যাবিয়ান আলভারেজ জানান, ছোট ছোট কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভিলা ফিওরিতো ও অন্যান্য এলাকায় খাবারের চাহিদা বাড়ছে। মিলেইয়ের অধীনে নিয়ন্ত্রণমুক্ত বাজার ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী পেসোর কারণে আমদানি করা পণ্য এখন সস্তা।
তিনি বলেন, মানুষ স্বাভাবিকভাবেই তাদের কাজ হারিয়েছে। তারা লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার সংগ্রহ করে এবং আমরা যা দিই তা-ই নিয়ে বাড়ি ফেরে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে আর্জেন্টিনা সরকার ম্যারাডোনার এই জন্মভিটেকে একটি জাতীয় ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে ঘোষণা করেছে।
সূত্র: রয়টার্স