অপেক্ষার পালা শেষ। অক্টোবরেই আসছে বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেট গেমিংঅ্যাপ- হাউজ্যাট-মুশি দ্য ডিপেন্ডাবল।
শুক্রবার (১ অক্টোবর) বিকেলে অ্যাপটির উদ্বোধন করবেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকা ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম। ৬০লাখ টাকার বিশাল অংকের প্রাথমিক বিনিয়োগ নিয়ে তৈরি অ্যাপটিতে কাজ করেছেন কেপিসি এন্টারপ্রাইজ এবং টারটেল সলিউশনসের আটজন দেশী প্রোগ্রামার। প্রায় পাঁচমাস ধরে চলে এর নির্মান কাজ। উদ্বোধনের পর টানা দুই সপ্তাহ চলবে অফলাইন মনিটরিং। ১৫ অক্টোবর থেকে এনড্রয়েড প্লাটফর্ম এবং ডিসেম্বর থেকে আইওএস প্লাটফর্মে উঠবে গেমিং অ্যাপটি।
অ্যাপটির উদ্যোক্তা কাজী সাজেদুর রহমান জানান, বিশ্বকাপ খেলতে দেশ ছাড়বেন ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম। যাবার আগেই উদ্বোধনের কাজটি শেষ করতে চান তিনি। এজন্যই পহেলা অক্টোবর দিনটিকেই বেছে নেয়া হল। গেমিং অ্যাপটি চালু হবার সাথে সাথে এর ফেসবুক পেইজে ইউজার ফিডব্যাক ক্যাম্পেইন চলবে। উদ্যোক্তা জানান, যারা গেমটি খেলবেন তারা “হাউজ্যাট-মুশি দ্য ডিপেন্ডাবল” এর পেইজে প্রতিক্রিয়া ও পরামর্শ জানাতে পারবেন। তাদের পরামর্শগুলো বিবেচনায় নিয়েই নিয়মিত গেমিং অ্যাপটিকে আপডেট করা হবে।
কি আছে এই গেমে:
মুশফিকুর রহিমের লিজেন্ডারী ইমেজকে প্রাধান্য দিয়েই গেমিং অ্যাপটি তৈরি। সে হিসেবে বলা যায় তিনিই এর ব্র্যান্ড এম্বাসিডর। লোগো থেকে জার্সি, মাঠ থেকে ড্রেসিংরুম সবখানেই পাওয়া যাবে হুবহু বাস্তবের মুশফিকের উপস্থিতি। সাথে আছে হাইডেফিনেশন গ্রাফিক্সে তৈরি মুশফিকের নিখুঁত অ্যাভাটার। যিনি গেমটি ডাউনলোড করলেন, তিনি ভার্চুয়াল মাঠে নিজেই হয়ে উঠবেন মুশফিকুর রহিম। ক্রিকেটের প্রায় সবধরনের ব্যাটিং স্ট্রোক এবং বোলিং অ্যাকশান এখানে যুক্ত করা হয়েছে। তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মোডিউল এখানে আছে। জেনারেল মোড, মাল্টিপ্লেয়ার মোড এবং লেজেন্ডারি মোড।
জেনারেল মোডের বৈশিষ্ট্য হল এখানে একজন ইউজার বেছে নিতে পারবেন প্রতিপক্ষ দেশ; যার বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে খেলবেন তিনি। মাঠে নামবেন মুশফিক হয়ে। এক্ষেত্রে তিনি বেছে নিতে পারেন পছন্দের টুর্নামেন্ট, খেলার মাঠ। আছে দিন-রাতের ম্যাচ, আবহাওয়া, টস, রিভিউ সিস্টেম, থার্ড আম্পেয়ারের সিদ্ধান্ত এবং ধারাভাষ্যকারের বর্ণনা; সবমিলে শতাধিক অপশন আর ফাংশন। ঘরে বসে মাঠের অনুভূতি দেবার জন্য যুক্ত করা হয়েছে হাইডেফিনেশন গ্রাফিক্স।
গেমটির মাল্টিপ্লেয়ার মোডে লাইভ স্ট্রিমিংয়ের সুযোগ আছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অনলাইনে থাকা বন্ধুদের নিয়ে এখানে চার বা আটজনের টিম তৈরি করা যাবে। তারা নিজেদের মধ্যে ফ্রেন্ডশিপ ম্যাচ বা টুর্নামেন্ট খেলতে পারবে এবং চাইলে সেটা সরাসরি নিজের ফেসবুক বা ইউটিউব থেকে লাইভ স্ট্রিমিং করতে পারবে।
তবে হাউজ্যাট-মুশি দ্য ডিপেন্ডাবলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় মোড হল লেজেন্ডারি মোড। ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম তার ক্যারিয়ারে এমন অনেক ম্যাচ খেলেছেন যেখানে তিনি প্রায় হেরে যাওয়া ম্যাচটি একাই জিতিয়ে এনেছেন। লেজেন্ডারি মোডে একজন ইউজার এমন একটি জায়গা থেকে খেলা শুরু করবেন যেখান থেকে জিতে আসা বেশ কঠিন। কঠিন সেই চ্যালেঞ্জটি মাথায় নিয়ে তাকে মুশফিক হয়ে মাঠে নামতে হবে। রিয়েলটাইম ক্রিকেটের সাথে মিল রেখেই ভার্চুয়াল জগতের জন্য তৈরি এই গেমটি খেলা যাবে অনলাইন-অফলাইন দুই মাধ্যমেই। হাউজ্যাট-মুশি দ্য ডিপেন্ডাবল” এর উদ্যোক্তা সাজেদুর রহমান জানান, মানুষের আগ্রহ সম্পর্কে ধারণা পেতে এর একটি বেটা ভার্সন গুগল অ্যাপস্টোরে আপলোড করা হয়। ফলাফল, মাত্র ২৪ঘন্টায় এক লক্ষ ৬০হাজারের বেশী সাবস্ক্রিপশন জড়ো হয়; এক সপ্তাহে ৫০লক্ষ বার খেলা হয়েছে গেমটি।
কেন মুশফিকুর রহিম?
হাউজ্যাট-মুশি দ্য ডিপেন্ডাবল” এর উদ্যোক্তা সাজেদুর রহমান জানান; বেশ কয়েকটি কারণে মুশফিকুর রহিমের এখানে যুক্ত হওয়া। প্রথমত, সম্পর্কটি বহু পুরোনো আর এই গেমটি নিয়ে মুশফিকের আগ্রহ। জিম্বাবুয়ে সফরের ব্যস্ততার মাঝেও তিনি এমওইউ স্বাক্ষর করে দেশে পাঠিয়ে দেন। এছাড়া মুশফিকের ১কোটি ৩০লাখের বেশী ফেসবুক ফলোয়ার, ১৪লাখের বেশী টুইটার ও ১৩ লাখের বেশী ইস্টাগ্রাম ফলোয়ার গেমটাকে পৌঁছে দেবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। পাশাপাশি এই গেমিং অ্যাপের ব্যবসায়ীক লভ্যাংশ যাবে মুশফিকুর রহিম ফাউন্ডেশনেও। সাথে সম্ভব হবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সাথে বিশ্বকে আরো বেশী সম্পৃক্ত করা। বাইরের দেশে লেজেন্ডদের নিয়ে একাধিক গেম আছে, যেমন শচীন টেন্ডুলকারকে নিয়ে শচীন সাগা, ব্রাইন লারাকে নিয়ে আছে ব্রাইন লারা ক্রিকেট, অস্ট্রেলিয়াতে ম্যাথু হেডেইনকে নিয়েও আছে গেমিং অ্যাপ। সে বিবেচনায় বাংলাদেশেও ক্রিকেটের লেজেন্ড এরইমধ্যে তৈরি হয়েছে, যাদের মধ্যে মুশফিকুর রহিমও একজন। গেমিং অ্যাপের সাথে এই ক্রিকেটারের যুক্ত হওয়ার এটাও একটা বড় কারন।
আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া:
হাউজ্যাট-মুশি দ্য ডিপেন্ডাবল- গেমিং অ্যাপটির খবর পৌঁছে গেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রীর কাছেও। কথা দেন নিজেই এই গেমিং অ্যাপটির উদ্বোধনে থাকবেন। জুনাইদ আহমেদ পলক একাত্তরকে বলেন, অল্পদিনের মধ্যেই বাংলাদেশে বিলিয়ন ডলারের গেমিংয়ের বাজার তৈরি হবে এবং লক্ষাধিক তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান হবে। এজন্য এরইমধ্যে আইসিটি ডিভিশন দেশের ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ল্যাব স্থাপনের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তাও দিচ্ছে। দেশে এখন চাকুরী খোঁজা প্রজন্ম থেকে চাকুরী দাতা প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে জানিয়ে পলক বলেন, সবক্ষেত্রেই উদ্ভাবন আর উদ্ভাবনী ধারণা দিয়ে এই শিল্পকে যে জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন উদ্যোক্তরা, সেটা আসলেই অনুপ্রেরণাদায়ক। তরুনদের উপর ভর করেই মাত্র ১২ বছরে শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে দেশ এখন মেধা ও প্রযুক্তি নির্ভর অর্থনীতির জগতে প্রবেশ করেছে বলে মনে করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী।
গেমিং অ্যাপটির উদ্বোধনে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং মুশফিকুর রহিমের পাশাপাশি থাকবেন বাংলাদেশ ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট আমিনুল হাকিম। থাকবেন গেমিং অ্যাপটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কেপিসি এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান কাজী সাজেদুর রহমান এবং টারটেইল সলিউশনস।
একাত্তর/টিএ