তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অনন্য গল্পকার রাহিতুল ইসলাম

গল্পটা প্রেমের হোক, কিংবা বিচ্ছেদে; সাফল্যের হোক কিংবা প্রতিকূলতার- রাহিতুল ইসলামের লেখায় বরাবরই বিশেষভাবে ফুটে ওঠে দেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ভিন্ন ভিন্ন দিকগুলোর কথা। তার উপন্যাসে নায়ক, নায়িকার মতো আইসিটি শিল্পও সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকে। রাহিতুলের লেখার উপজীব্য কখনও ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার, কখনও টেলিমেডিসিন সেবা, কখনও আবার ই-কমার্স ব্যবসা। বিষয় নির্বাচনে এভাবেই বছরের পর বছর ধরে নিজের স্বাতন্ত্রতা বজায় রেখে চলছেন তরুণ এই সাহিত্যিক এবং জয় করে যাচ্ছেন পাঠকদের মন।

রাহিতুল তার গল্প-উপন্যাসগুলোর মাধ্যমে পাঠকদের জানিয়ে থাকেন তথ্যপ্রযুক্তির জগতের জানা-অজানা কথা। তার চিন্তার সবটা জুড়েই আছে দেশের আইসিটি খাত। ইতিমধ্যেই রাহিতুলের ১০টি বই প্রকাশিত হয়েছে, যার বেশির ভাগ লেখা তথ্যপ্রযুক্তির জগত ঘিরে।

তথ্যপ্রযুক্তির জগতের সঙ্গে ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা নিয়ে রাহিতুল বলেন, ‘আইটি সাংবাদিকতা করতে এসে দেখলাম, এই শিল্প খাত নিয়ে মানুষের মধ্যে খুব একটা সচেতনতা তৈরি হয়নি। তাইতো আমি এই বিষয় নিয়ে লিখতে শুরু করি। সাংবাদিকতার বাইরে এসে আমি এখন মৌলিক লেখার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। কয়েকটি বই লিখেছি, আরও কিছু লিখছি। এবারের বইগুলোর নাম- ‘তথ্যপ্রযুক্তির নায়কেরা’ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ‘কল সেন্টারের অপারাজিতা।’ 

নতুন বইগুলো সম্পর্কে রাহিতুল জানান, ‘দেশের তথ্যপ্রযুক্তিতে অবদান রেখেছেন এমন ১০ জন নিয়ে লেখা হচ্ছে ‘তথ্যপ্রযুক্তির নায়কেরা’। এই দশজন ব্যক্তি হচ্ছেন তারাই, যাদের হাত ধরে আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশ। যারা আজকের এই ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রগতির হাল ধরেছিলেন, যাদের অবদানে এগিয়ে যাচ্ছে ভবিষ্যতের ডিজিটাল বংলাদেশ; তাদের গল্প দিন দিন যেন হারিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এই বইটি পড়ে তরুণ প্রজন্ম জানতে পারবে কীভাবে এই খাত এতদূর এগিয়েছে, কীভাবে আমরা পেয়েছি আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশ। ১০ জনের গল্প নিয়ে তৈরি এই বইটি হবে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের একটি ঐতিহাসিক দলিল।’

রাহিতুল ইসলামের লেখা প্রথম উপন্যাসের নাম ‘বিষণ্ন কাঁটাতার’। এরপর তিনি লেখেন ‘আউটসোর্সিং ও ভালোবাসার গল্প’ উপন্যাসটি। এই গল্প একই নামে একটি শর্টফিল্ম নির্মিত হয়েছে। এতে অভিনয় করেছিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা আফরান নিশো ও অভিনেত্রী তানজিন তিশা। মুক্তির পর পরই ব্যাপক প্রশংসিত হয় এই শর্টফিল্মটি, রাহিতুলের গল্প সাড়া ফেলে দর্শকমহলে। এই লেখকের আরেক উপন্যাস ‘চরের মাস্টার কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার’ অবলম্বনে নির্মিত টেলিছবিটিও ভীষণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বেসরকারি টিভি চ্যানেল, ইউটিউব ও ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বঙ্গতে একযোগে এটি মুক্তি পেয়েছিল। রাহিতুলের উপন্যাস ‘কেমন আছে ফ্রিল্যান্সার নাদিয়া?’, ই-কমার্স জগত নিয়ে লেখা গল্প ‘ভালোবাসার হাট বাজার’ ও টেলিমেডিসিন সেবা নিয়ে লেখা ‘হ্যালো ডাক্তার আপা’ নিয়েও টেলিছবি তৈরির কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। তাঁর লেখা অন্য বইগুলো হলো- ফ্রিল্যান্সার সুমনের দিনরাত, কীভাবে গড়বেন ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার, ভালোবাসি ও Freelancing and A Tale of Love (আউটসোর্সিং ও ভালোবাসার গল্পের ইংলিশ অনুবাদ) ইত্যাদি।

রাহিতুল ইসলামের আরেক পরিচয় হলো তিনি তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সাংবাদিক। সাংবাদিকতাতেও রেখেছেন সাফল্যর  ছাপ। লেখক ও সাংবাদিক রাহিতুল তার কাজের জন্য পেয়েছেন বিভিন্ন স্বীকৃতি ও সম্মাননা। তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সাংবাদিকতায় অবদান রাখার জন্য মুঠোফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আইটেল মোবাইল রাহিতুল ইসলামকে দিয়েছে বিশেষ সম্মাননা।

তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বইয়ের লেখক হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন রাহিতুল ইসলাম। ‘আউটসোর্সিং ও ভালোবাসার গল্প’র লেখক হিসেবে তাকে দেওয়া হয়েছে জাতীয় ফ্রিল্যান্সিং অ্যাওয়ার্ড ২০১৯। এছাড়াও তাঁর ঝুলিতে জমা হয়েছে আইসিটি মেলা ২০১৬-এর বিশেষ সম্মানসূচক স্বীকৃতি।  রাহিতুল ইসলামের আগামী দিনের লক্ষ্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি আমার লেখার মাধ্যমে বাংলাদেশের আইসিটি ইন্ডাস্ট্রি কথা দেশ ও দেশের বাইরের মানুষদের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।’

যশোর সদরে রাহিতুল ইসলামের জন্ম, সেখানেই তার বেড়ে ওঠা। কাজ করছেন একটি জাতীয় দৈনিকে আর এখন তার সবটুকু সময়ই শুধু তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংবাদ সংগ্রহ ও এই ক্ষেত্রে নিত্যনতুন গল্পকে নিজের লেখনিতে তুলে ধরা। রাহিতুলের ভাষায়, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য এবং দেশের আইসিটি খাতের উন্নয়নের জন্য আরো অনেক কিছু এখনো করার বাকি। তাই সেই চেষ্টাতেই নিজেকে নিয়োজিত রাখছি নিজের লেখা দিয়ে, নিজের কাজ দিয়ে।’


একাত্তর/এসি