তরঙ্গ নিলামে রেকর্ড ১০ হাজার কোটি টাকার স্পেক্ট্রাম বিক্রি

মাত্র ৩০ মিনিটেই সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি তরঙ্গ বিক্রি করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি)। এই তরঙ্গ বিক্রির ফলে দেশে মোবাইল ফোনের গ্রাহকরা আরও উন্নত সেবা পাবেন বলে জানিয়েছে বিটিআরসি।

পঞ্চম প্রজন্মের প্রযুক্তি বা ফাইভ-জি সেবার তরঙ্গ নিলাম বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে শুরু হয়। দুপুর ১২টার মধ্যেই ১০ হাজার ৬৪১ কোটি টাকা মূল্যের তরঙ্গ বিক্রি হয়ে যায়।

প্রথম রাউন্ডে তিন হাজার ৩৬০ কোটি টাকায় দুই হাজার ৬০০ ব্যান্ডের ৬০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ কিনেছে গ্রামীণফোন। একই পরিমাণ তরঙ্গে কিনেছে রবি আজিয়াটা। 

এই মোবাইল ফোন প্রতিষ্ঠানটি দুই হাজার ৬০০ ব্যান্ডের ৬০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ ক্রয় করেছে তিন হাজার ৩৬০ কোটি টাকায়। আর বাংলালিংক দুই হাজার ৩০০ ব্যান্ডের ৪০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ কিনেছে দুই হাজার ২৪১ কোটি টাকায়।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটক এক হাজার ৬৮০ কোটি টাকায় ৩০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ ক্রয় করেছে। দুই হাজার ৩০০ ব্যান্ডের এই তরঙ্গ ক্রয় করেছে টেলিটক।

বিটিআরসির স্পেক্ট্রাম বিভাগের কমিশনার ও নিলাম পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ নিলামের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন। ‘স্পেক্ট্রাম অকশন-২০২২’ শীর্ষক নিলামে প্রতি মেগাহার্টজ তরঙ্গের ভিত্তিমূল্য ধরা হয় ১৫ বছরের জন্য ৬ মিলিয়ন ডলার।

এবারের নিলামের জন্য ২.৩ এবং ২.৬ গিগাহার্টজ ব্যান্ড নির্ধারণ করা হয়। নিলাম অনুষ্ঠিত হয় ১৮ ব্লকে। প্রতি ব্লকে ছিল ১০ মেগাহার্টজ করে তরঙ্গ। নিলামের জন্য ২২০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ নিলামের জন্য ছিল। এর মধ্যে ১৯০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ নিলামে বিক্রি হয়।

গ্রামীণফোন ও ররি অজিয়াটা সর্বোচ্চ ৬০ মেগাহার্টজের তরঙ্গ ইতোমধ্যে কিনে ফেলায় যে তরঙ্গ বাকি আছে তা কেনার সুযোগ পাবে বাংলালিংক ও টেলিটক।


বিটিআরসি আশা করছে, এই তরঙ্গ নিলামের মাধ্যমে সরকারের উল্লেখযোগ্য আয়ের পাশাপাশি বিদ্যমান মোবাইল ফোর জি সেবা সম্প্রসারণ ও এর মানোন্নয়ন এবং বাংলাদেশে মোবাইল ফাইভজি সেবা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেছেন, তরঙ্গের অভাবে গ্রাহকে যথাযথ সেবা দিতে পারছে বলে অভিযোগ করে আসছিলো মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানিগুলো। এবার পর্যাপ্ত তরঙ্গ দেয়া হয়েছে। ফলে গ্রাহক সেবার মান বাড়বে। আর বিষয়টি কড়া নজরে রাখবে বিটিআরসি। 

ডাক ও টেলিযোগাযাগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব খলিলুর রহমান, বিটিআরসি চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদারসহ অপারেটর কোম্পানিগুলোর নির্বাহী কর্মকর্তারা নিলাম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: বিচারহীনতার সংস্কৃতি শুরু করে জিয়া, একই পথ ধরে খালেদা: প্রধানমন্ত্রী

নিলামে অংশগ্রহণকারী চার কোম্পানিকে বসানো হয় চারটি টেবিলে। এর মধ্যে ১ নম্বর টেবিলে বাংলালিংক, ২ নম্বর টেবিলে রাষ্ট্রায়াত্ত অপারেটর টেলিটক, ৩ নম্বর টেবিলে রবি এবং ৪ নম্বর টেবিলে ছিলো গ্রামীণফোন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার নিলামের দিনটাকে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, নিলাম অনুষ্ঠান পেছানোর জন্য আমাকে নানাভাবে অনুরোধ করা হলেও আমি দৃঢ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলাম, মুজিব শতবর্ষের শেষ দিনে হলেও এটি আয়োজন করা হবে। আজ সেই দিন। তিনি বলেন, মোবাইল অপারেটরগুলো যে তরঙ্গ ছিল আজ থেকে তা সবার দ্বিগুণ হয়ে গেলো। ফলে গ্রাহক এখন থেকে মানসম্মত সেবা পাবে, এটা আশা করা যায়।

বর্তমানে দেশে ফোরজি সেবা চালু আছে। ফাইভজি চালু হলে ইন্টারনেটের গতি কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকের মাধ্যমে দেশে পরীক্ষামূলকভাবে ফাইভ জি সেবা চালু হয়।


একাত্তর/আরএ