নবজাতক শিশু কেন কান্না করছে, তা শনাক্ত করতে পারে এমন একটি অ্যাপ তৈরি করেছেন ফিলিস্তিনের কিশোরী লায়ালি খতিব। আর্টিফিশিয়ার ইন্টেলিজেন্স বা এআই ব্যবহার করে অ্যাপটি জানাতে পারে, শিশু ক্ষুধায়, ব্যথায়, ঘুমানোর জন্য নাকি ভেজা ডায়পারের কারণে কান্না করছে।
শুধু তাই নয়, শিশুর অস্বস্তি সাথে সাথেই কিভাবে দূর করা যায় সে বিষয়েও পরামর্শ দেবে। ফলে এই অ্যাপের সহায়তা নিয়ে সহজেই শিশুর পরিচর্যা করা যাবে বলে মনে করছেন এই নির্মাতা। তবে সেই সঙ্গে অ্যাপের সঙ্গে নিজস্ব বুদ্ধিমত্তাও কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
যমজ দুই শিশু আর নবজাতক ভাইয়ের সাথে থাকে গিয়ে দিনের বেশিরভাগ সময়ই কানে আসে কান্নার শব্দ। আর তাতেই মনোযোগ দেন ফিলিস্তিনি কিশোরী লায়ালি খতিব। শিশু কেন কান্না করে তা ঘুরতে থাকে তার মাথায়। তার ওপর এ নিয়ে মায়ের যন্ত্রণাও নজরে পড়ে তার।
ভাই বোনের কান্নার শব্দ ব্যবহার করেও মাত্র ১৫ বছর বয়সী বানিয়ে ফেলেছেন দারুণ এক কার্যকরী অ্যাপ ‘মাদারহুড’। মজার বিষয় হল, এই অ্যাপ শিশুর কান্নার সঠিক কারণ শনাক্ত করতে সহায়তা করছে।
লায়ালি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বানানো অ্যাপের মাধ্যমে শিশুর কি প্রয়োজন, সে কেন কাঁদছে তা বোঝা যায়। ফলে সহজেই তার প্রয়োজন মিটিয়ে কান্না বন্ধ করা সম্ভব হয়।
পশ্চিম তীরের জেনিনের উপকণ্ঠের বাসিন্দা লায়ালি জানান, অ্যাপটির ব্যবহারও খুব সহজ। তিনি বলেন, শিশু কান্না শুরু করলে অ্যাপটি ওপেন করে কান্না রেকর্ড করতে হবে। তারপরই কান্নার শব্দ অ্যাপে রেকর্ড হলেই সেখানে কারণ ও প্রতিকার পাওয়া যাবে।
লায়ালি জানায় ২০১৯ সালে মাদারহুড গাইড অ্যাপ্লিকেশানটি তৈরির কাজ শুরু করেন। তার দাবি, অ্যাপটির তথ্য ৯৩ শতাংশ নির্ভুল। তবে, এই কাজটি এত সহজ ছিল না। এই অ্যাপ বানানোর পথে এসেছে নানা বাধা। লায়ালি বলেন, অনলাইন ক্লাস অনুসরণ করে শিখেছেন কোডিং। এছাড়া, অ্যাপটি তৈরিতে ব্যবহার করেছেন ওপেন সোর্স ওয়েবসাইটও।
তিনি বলেন, অন্য যে কোন অ্যাপ থেকে এটি একেবারেই আলাদা। কারণ আমি কারোরটা অনুকরণ করে এটা বানাইনি। নিজের মাকে সাহায্য করার চিন্তা থেকেই অ্যাপটি বানানো। এখন এতে বিভিন্ন ভাষার অপশন যুক্ত করার চেষ্টা করছি।
এটিকে আরও বেশি ব্যবহার উপযোগী করে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার আশা করছেন লায়ালি। এমনকি এর উন্নত সংস্করণে শিশু প্রতিবন্ধ কি না তাও নির্ণয় করতে পারবে অ্যাপটি।