অচল পায়ে কলেজে না পড়তে পারা অনিকের গল্প

স্বাবলম্বী হয়েছেন তা নয়, তৈরি করেছেন অর্ধশত কর্মসংস্থান। অথচ নিজের অচল এই পায়ের কারণে কলেজে পড়া হয়নি অনিকের। আর্থিক সংকটে প্রতিদিন বসতে হতো বাজারে বইয়ের দোকানে। সফল এই উদ্যোক্তার গল্প থাকছে প্রতিবেদনে।

জন্মগতভাবেই কুষ্টিয়ার অনিক মাহমুদের দুই পা অস্বাভাবিক চিকন আর ছোট। অচল এই পায়ের কারণে ছোট থেকেই তার আশ্রয় হুইল চেয়ারে। তবে অচল পা নিয়ে অনিক যা করেছেন, সক্ষম অনেকেই তা পারেনি। ২০১৭ সালে প্রথম জানতে পারেন গ্রাফিক্স ডিজাইন করে মুক্তপেশা বা ফ্রিল্যান্সিংয়ের কথা। সেবছরই কাজ শুরু, ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস আপওয়ার্ক ডটকমে।

২০১৮ সালে ২৫ ডলারের প্রথম কাজ পান। সময়মতো কাজ শেষ করায় গ্রাহক খুশি হয়ে দেন আরও ১০ ডলার। সাথে পাঁচ তারকা রেটিং। আরেকবার পেয়েছিলেন তিন হাজার ডলারের কাজও।

ফ্রিল্যান্সার অনিক মাহমুদ বলেন, ২০২০ সাল থেকে আমার প্রচুর পরিমাণের কাজ আসতে শুরু করে। আমার তখন একার পক্ষে কাজ করা সম্ভব হচ্ছিলো না।

অনিক মূলত টি-শার্ট ডিজাইন করেন। ইচ্ছে ছিলো, কোনো একদিন তার নকশা করা টি-শার্ট পরবে ইউরোপের মানুষ। বর্তমানে অনিকের প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন ৫০ জন তরুণ। আর, নিজের মাসিক আয় দুই হাজার ডলারের বেশি, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২ লাখ ১৯ হাজার টাকা।

কয়েকজন কর্মী জানান, তারা ফেসবুকসহ অন্যান্য মাধ্যমে অনিকের সম্পর্কে জানতে পেরে তার কাছে কাজ শিখতে এসেছেন।

অনিকের বাবা অধ্যাপক মোজাহার আলী করোনায় মারা যান। দুই ভাইয়ের মধ্যে ছোট অনিকের কঠিন সংগ্রামের কথা একাত্তরকে জানাতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার মা।

অনিকের মা শিরিন আক্তার জানান, তিনি তার ছেলেকে নিয়ে গর্ব করেন।

অনিকের মতো অদম্যদের সাফল্যের খবর পৌঁছে গেছে আইসিটি ডিভিশনে। প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণদেরও চাকরি দাতায় পরিণত করতে চায় সরকার।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, আমাদের জন্য এসব খবর আনন্দের। আমরা যখন এমন খবর পাই, তখন সরকারের পক্ষ থেকেও সহায়তা চেষ্টা করি। আমাদের টার্গেট ২০৪১ সালের মধ্যে এক কোটি শিক্ষার্থীকে ফ্রিলান্সার বানানো।

শুধু হুইল চেয়ারে বসে ডলার আয় করা নয়। বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড, রাইজিং ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডসহ তার ঘরে ঝুলছে দেশবিদেশের নানা সম্মাননা আর স্বীকৃতি আছে অনিকের ঝুলিতে। আর অনিকের পরিকল্পনা, আগামী পাঁচ বছরে তৈরি করবেন আরও অনেক দক্ষ ফ্রিল্যান্সার।