গেল একমাসে অন্তত ১০ জন জনপ্রিয় কন্টেন্ট নির্মাতার পেজ হ্যাক হয়েছে। হারিয়ে যাওয়া পেজ ফিরে পেতে খরচ হচ্ছে বড় অংকের টাকা। কেউ কেউ শিকার হয়েছেন ব্ল্যাক মেইলেরও।
কামরুন নাহার ডানা সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত- ‘ডানা ভাই জোস’ নামে। জনপ্রিয় এই কন্টেন্ট ক্রিয়েটর কিছুদিন আগে একসাথে হারিয়েছেন নিজের ফেসবুক পেজ ও প্রোফাইল। যেখানে তার ফলোয়ার ছিলো ১০ লাখেরও বেশি।
একাত্তরকে তিনি জানান, একটি চক্র তার কন্টেন্টগুলোকে নিজেদের দাবি করে ফেসবুকের কাছে রিপোর্ট করতে থাকে। ফলাফল তার পেজটি বেহাত হয়ে যায়। এরপর সেই চক্রই তাকে মেইলের মাধ্যমে ২ হাজার ডলার দাবি করে। নয়তো পেজ কেড়ে নেয়ার হুমকি দেয়। সাথে অশ্লীল ভাষায় স্ট্যাটাস দিয়ে চলছে সাইবার বুলিং।
কামরুন নাহার ডানা বলেন, আমার পেজ হ্যাক করার পর আমাকে মেইল করে বলা হলো- ২০০০ ডলার দিতে হবে। যদি টাকা না দেই আমাকে দাঁড়াতে দেবে না। এখন আমি এই ধরনের সমস্যায় যদি সরকারের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতাই না পাই, তাহলে আমি ট্যাক্সটা কেনো দিবো।
আরেক কন্টেন্ট নির্মাতা সৌমিক আহমেদ। সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত মুখ। ঢাকা গাইজের অন্যতম সদস্য। ফেসবুক পেজ নিয়ে তাকেও পোহাতে হয়েছে ভোগান্তি। তিনি জানান, সরকারের বেঁধে দেয়া ১০ শতাংশ ট্যাক্স দিতে তার আপত্তি নেই। কিন্তু সে তুলনায় সুরক্ষা তো দিতে হবে।
সৌমিক আহমেদ বলেন, যদি আপনারা কর আরোপ করে এটাকে ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে পরিচিত করেন, তাহলে অন্যান্য ইন্ডাস্ট্রিকে যেমন সুযোগ দেওয়া হয়- তেমন সুযোগ এই ইন্ডাস্ট্রিকেও দেয়া উচিত।
এই কন্টেন্ট নির্মাতারা জানান, ফ্রিল্যান্সারদের যেভাবে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়, তাদের ক্ষেত্রে সেটি হচ্ছে না। অথচ তাদের কাছ থেকেই কর নিচ্ছে সরকার। বেসিসের সভাপতি বলছেন যেহেতু কন্টেন্ট নির্মাতারা দেশে ডলার আনছে তাই তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।
বেসিসের সভাপতি রাসেল টি আহমেদ বলেন, কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের সাথে আমরা বসতে চাই। আমরা তাদের বিষয়ে কাজ করতে চাই।
তবে ফেসবুক পেজের সুরক্ষার জন্য ব্যক্তিগত জায়গা থেকে সচেতনতার কথা জানান, প্রযুক্তিবিদরা।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, কোন লিংক পেলেই সেখানে ক্লিক করা যাবে না। তাছাড়া যাদের বুস্ট করতে দেয়া হচ্ছে- তাদের জাতীয় পরিচয় পত্রসংগ্রহ করে রাখা উচিত।
এক্ষেত্রে পেজের নিরাপত্তার স্বার্থে একাধিক এডমিন না রাখা এবং এডিটিং প্যানেল বা বুস্টিংয়ের দায়িত্ব অপরিচিত কাউকে না দেয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
ফ্রিল্যান্সারদের আয়ের উৎসে কর দিতে হবে না