কোয়ান্টাম কম্পিউটারের দৌড়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলো জাপান

কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির দৌড়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলো জাপান। বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ফুজিৎসু এবং রিকেন গবেষণা ইন্সটিটিউট যৌথভাবে তৈরি করেছে জাপানের দ্বিতীয় কোয়ান্টাম কম্পিউটার।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার জাপানের দ্বিতীয় কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির ঘোষণা দিয়েছে দেশটির এই দুই প্রতিষ্ঠান।

কোয়ান্টাম কম্পিউটার হলো এমন একটি কম্পিউটার যা কোয়ান্টাম (কণা) কলাকৌশলকে কাজে লাগিয়ে কাজ করে। যেকোনো সাধারণ কম্পিউটার, এমনকি সর্বাধুনিক সুপার কম্পিউটারের চেয়েও দ্রুত গতিতে গণনা করতে পারে এ কম্পিউটার। 

ফুজিৎসুর কোয়ান্টাম ল্যাবরেটরির প্রধান শিনতারো সাতো সাংবাদিকদের বলেন, এটি প্রথম বা দ্বিতীয় ধাপ, আমাদের এখনও অনেক দূর যেতে হবে। 

ফুজিৎসু এবং রিকেনের তৈরি কোয়ান্টাম কম্পিউটার। ইমেজ- নিপ্পন।

এই কম্পিউটার সিস্টেম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্ষমতা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি চিকিৎসা, শিক্ষা, অর্থনীতি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং মহাকাশ গবেষণাকে নিয়ে যেতে পারে সর্বোচ্চ পর্যায়ে।    

সুপার কম্পিউটারের চেয়ে দ্রুত গণনার লক্ষ্যে কোয়ান্টাম গণনায় ফোটন এবং ইলেকট্রনসহ কোয়ান্টার সাথে সুনির্দিষ্টভাবে যুক্ত ভৌত ধারণা প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। সফলভাবে প্রয়োগ করা হলে, এই প্রযুক্তি সমাজের জন্য বিপুল সম্ভাবনাময় হতে পারে বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা। 

এর আগে গেলো মার্চ মাস থেকেই রিকেন জাপানের প্রথম কোয়ান্টাম কম্পিউটার ব্যবহার করে আসছে। সংস্থাটি বলছে, তাদের তৈরি দ্বিতীয় কম্পিউটারটিরও সমমানের গণনা সক্ষমতা রয়েছে। 

ফুজিৎসু এবং রিকেন প্রত্যাশা করছে, তাদের প্রযুক্তি আর্থিক খাত এবং ওষুধ উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে।

একইসাথে কোয়ান্টাম গণনার একটি মূল উপাদান কোয়ান্টাম বিট চিপের কার্যকারিতা উন্নত করার লক্ষ্যে একত্রে কাজ করা অব্যাহত রাখবে ফুজিৎসু এবং রিকেন। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারের ব্যবহারিক প্রয়োগের উন্নয়নও ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠান দু'টি।

তবে এই দৌড়ে শুধু জাপান একা নয়, চীন-যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি রাশিয়াও এগিয়ে রয়েছে। নিজেদের মতো গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ। এমনকি গুগল, মাইক্রোসফটের মতো বড় বড় টেক জায়ান্টও কোয়ান্টাম গবেষণায় খরচ করছে কোটি কোটি ডলার।    

বিজ্ঞানীরা বলছেন, কোয়ান্টাম কম্পিউটার মানুষের ক্ষমতাকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যাবে, যা মানুষ আগে কল্পনাও করতে পারেনি।