হুবহু মানুষের মুখের ভাব অনুকরণ করতে পারে যে রোবট

কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির প্রকৌশলীরা একটি রোবট বানিয়েছেন, যা হুবহু মানুষের মুখের ভাব অনুকরণ করতে পারে।

গবেষকরা বলেছেন, এই রোবট মানুষ এবং রোবটের মধ্যে অমৌখিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।

‘ইমো’ নামের এই রোবটটি মানুষ এবং রোবটের মধ্যে নতুন এক মাত্রা যোগ করবে বলে দাবি ওই প্রকৌশলীদের। তারা বলছেন, ইতিমধ্যই কিছু কথোপোকথনও যুক্ত করা হয়েছে, যা ইমোর কাজগুলো সহজেই বুঝতে সাহায্য করবে।

এর আগে বেশ কিছু রোবট চ্যাট জিপিটির সাহায্যে মৌখিক যোগাযোগ করতে পেরেছিলো। কিন্তু সেই রোবটগুলোর ভঙ্গি প্রকাশের ক্ষেত্রে কিছুটা কমতি ছিলো।

emo1

গবেষকরা মনে করছেন, ইমো নামের এই রোবটটি অন্য রোবটের মতো কথা বলতে না পারলেও মুখের ভঙ্গি বা ইঙ্গিত দিয়ে সহজেই যোগাযোগ করতে পারবে মানুষ কিংবা রোবটের সাথে। 

সায়েন্স রোবটিক্সে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ইমো মানুষের অভিব্যক্তি অনুমান করতে পারে এবং একই সাথে তাদের অনুকরণও করতে পারে। এমনকি অনুকরণ করার প্রায় আটশ’ ৪০ মিলি সেকেন্ড আগেই কোনো ব্যক্তির আসন্ন হাসির পূর্বাভাসও দিতে পারে রোবট ইমো।

গবেষণাটির প্রধান লেখক ইউহাং হু জানান, যান্ত্রিকভাবে অভিব্যক্তিপূর্ণ মুখ তৈরি করা বেশ জটিল ছিলো। এছাড়া প্রাকৃতিক এই মুখের ভঙ্গিমা প্রকাশ করানোর বিষয়গুলো সময়সাপেক্ষ ছিলো। কারণ ২৬টি অ্যাকচুয়েটর তৈরি করাই ছিল মূল চ্যালেঞ্জ।

emo2

এআই মডেল দ্বারা চালিত রোবটগুলো আরও উন্নত ও জটিল হয়ে উঠছে। কিন্তু প্রযুক্তিতে সবকিছু নতুন সংযোজন ও সবকিছু আরও সহজ করে তোলা সময়সাপেক্ষ।

ইউহাং হু বলেন, আমরা পরবর্তী ধাপে মৌখিক যোগাযোগের মাধ্যমটি আরও উন্নত করবো। এবং ইমোকে আরও স্বাভাবিক কথোপকথনে নিযুক্ত করাই এখন মূল লক্ষ্য।

ইমো রোবটটি মানুষের মতোই মুখের ভাব প্রকাশে ২৬টি অ্যাকচুয়েটর ব্যবহার করে এবং এটি সিলিকনের তৈরি একটি মাস্ক দিয়ে আবৃত। প্রাণবন্ত মিথস্ক্রিয়া এবং চোখের যোগাযোগের জন্য এটির চোখে উচ্চ-রেজোলিউশন ক্যামেরা রয়েছে।