ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি পোস্ট সাময়িকভাবে মুছে দেওয়া ও সীমাবদ্ধ করার ঘটনায় ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটা। সংস্থাটির চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলান এক বিবৃতিতে কোম্পানির পক্ষ থেকে এই অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন।
কাপলানের নেতৃত্বে মেটার শীর্ষ কর্মকর্তাদের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ভারতের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব এস ক্রিশ্নানসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ৪৫ মিনিটের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। বৈঠকেই প্রধানমন্ত্রী মোদীর পোস্ট সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে আলোচনা হয় এবং মেটা তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ক্ষমা প্রার্থনা করে।
গত ২৩ জুলাই কাকরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) অনলাইন প্রতিবাদের উত্তাল মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরাসরি ক্যামেরার সামনে বক্তব্য রেখে একটি উল্লম্ব ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। পোস্ট করার কিছুক্ষণের মধ্যেই ভিডিওটি মেটা মালিকানাধীন ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম থেকে রহস্যজনকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়। যদিও পরবর্তীতে তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়।
মেটা কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে একটি কারিগরি ত্রুটি হিসেবে উল্লেখ করে ব্যাখ্যা দিয়েছিল। তবে ভারত সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় মেটার এই সাফাইকে অপর্যাপ্ত ও অসন্তোষজনক বলে প্রত্যাখ্যান করে।
যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রধান ও ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবে এই ঘটনার জন্য সরাসরি মেটাকে দায়ী করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, দেশের প্রধানমন্ত্রীর একটি ভিডিও মুছে দেয়া কোনো সাধারণ ইন্টারমিডিয়ারি বা মধ্যস্থতাকারী মাধ্যমের কাজ হতে পারে না; এটি একজন প্রকাশকের মতো আচরণ।
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, মেটা প্রধান মার্ক জাকারবার্গকে তিন দিনের মধ্যে ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।
ভারতে মেটার বিশাল বাজার রয়েছে। ব্যবহারকারীর সংখ্যার দিক থেকে ভারতই তাদের বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাজার, যেখানে শত কোটি মানুষ প্রতিদিন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন।
ভারতের সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো মূলত সরকারের নীতি পর্যালোচনা করে এবং সরকারি কর্মকর্তা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের তলব করে জবাবদিহি করার ক্ষমতা রাখে। তবে এই কমিটি সরাসরি কোনো আর্থিক জরিমানা, আইনি সুরক্ষা বাতিল বা মামলা করার নির্দেশ দিতে পারে না। দেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী মেটার বিরুদ্ধে পরবর্তী যেকোনো প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার এখতিয়ার কেবল ভারত সরকার ও আদালতের হাতেই রয়েছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি