নিউইয়র্কে শামীমের বই নিয়ে প্রকাশনা উৎসব

লেখক, সাংবাদিক ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা শামীম আল আমিনের নতুন বই ‘নির্বাচিত গল্প তোমার অসীমে’ নিয়ে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো বর্ণাঢ্য একটি অনুষ্ঠান। নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের জুইশ সেন্টারে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সমবেত হয়েছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনেরা। ডায়াসপোরা নামের সদ্য আত্মপ্রকাশ করা অসাধারণ একটি সংগঠন এই প্রকাশনা উৎসবের আয়োজন করে।  

এবারের বাংলা একাডেমির অমর একুশে বইমেলায় বইটি প্রকাশ করেছে অনিন্দ্য প্রকাশ। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন ধ্রুব এষ। ৩০টি গল্পের বইটিতে ভূমিকা লিখেছেন খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। ভীন্ন ভীন্ন প্রেক্ষাপট থেকে লেখা গল্পগুলোকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে একটি মলাটে। এর মধ্যে আছে গভীর প্রেম, কখনো বিরহ। আছে পরাবাস্তব ভালোবাসা। গল্পগুলো লিখতে গিয়ে কখনো সমাজের রুঢ় বাস্তবতা; অলিক কল্পণার আশ্রয় নিয়েছেন লেখক। আবার সমাজে ঘটে যাওয়া নিষ্ঠুর ঘটনাও উঠে এসেছে গল্পে। এসেছে বিশ্বজোড়া অস্থিরতার চিত্র; বেদনা কিংবা হতাশা। গল্পের বিষয়ের ভীন্নতাই বইটির সৌন্দর্য্য। বইটি পাঠ করতে গিয়ে পাঠক এক মলাটে বিচিত্র স্বাদ পাবেন বলে বক্তারা অনুষ্ঠানে বলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শামীম আল আমিনের গল্প বলার ধরণ, সহজ সরল ভাষায় যাপিত জীবনকে উপস্থাপন করার দক্ষতাই লেখক হিসেবে তাকে স্থায়ী একটি আসন করে দেবে। পাঠক প্রিয়তায় তিনি এগিয়ে যাবেন, সবার প্রত্যাশা ছিল এমনই।  


অনুষ্ঠানে কথা বলেছেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক পূরবী বসু, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ, সাংবাদিক ফজলুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা ও শিল্পী তাজুল ইমাম, সাপ্তাহিক বাঙালির সম্পাদক কৌশিক আহমেদ এবং অনিন্দ্য প্রকাশের প্রকাশত আফজাল হোসেন। বিশিষ্ট নাট্যশিল্পী শিরীন বকুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডা. প্রতাপ দাস ও ধন্যবাদ জানান নাট্যশিল্পী এজাজ আলম। বিশিষ্টজনদের মধ্যে শিল্পী বাশিরুল হক, ভাস্কর আকতার আহমেদ রাশা এবং সাংস্কৃতিক সংগঠক ফরিদা ইয়াসমিন প্রতিক্রিয়া জানান।

তবে অনুষ্ঠানটি শুরু হয় বইটির নাম গল্প 'তোমার অসীমে' পাঠ করার মধ্য দিয়ে। বিশিষ্ট নাট্যশিল্পী এ শরিফ হোসেন এবং আবৃত্তি শিল্পী শুক্লা রায় গল্পটি পাঠ করেন। এসময় রবীন্দ্রনাথের 'তোমার অসীমে' গানটি গেয়ে শোনান সুপ্রিয়া চৌধুরী। তিন শিল্পীর অদ্ভূত মনমুগ্ধকর পরিবেশনায় ভীন্ন মাত্রা যুক্ত করে ভায়োলিনের বাদন ও শিল্পী তাজুল ইমামের পেইন্টিং। গল্পটির পরিবেশনার ভীন্নতা মানুষের অন্তরকে ছুঁয়ে যায়। 

অনুষ্ঠানে চমৎকার একটি প্রেমের কবিতা আবৃত্তি করেন গোপন সাহা। আর শেষ পর্বে প্রেমের গান দিয়ে সবার মন ভরিয়েছিলেন রাজীব ভট্টাচার্য। কিবোর্ডে রিপন মিয়া এবং তবলায় স্বপন দত্তের পরিবেশনা ছিল চমৎকার।

বৃষ্টিমুখর সন্ধ্যা রীতিমতো দূর্যোগে রূপ নিয়েছিল। দিনের কর্মব্যস্ততা শেষে, নিউইয়র্কের জ্যাম ঠেলে এরপরও সেখানে সমবেত হয়েছিলেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সুধী। সেখানে ছিল লেখকের বই বিক্রিরও ব্যবস্থা। ছিল চা চক্র। সবমিলিয়ে জমজমাট এই অনুষ্ঠানটি রূপ নেয় এক মিলনমেলায়। অনুষ্ঠানে সার্বিক সহায়তা দিয়েছিল বাংলা ট্রাভেলস।


একাত্তর/এআর