দেশে প্রতি একশ' শ্রমিকের মধ্যে ৩০ জনই অদক্ষ। দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের নিয়েও দক্ষ শ্রমিকের হার ৪ শতাংশের কম। রোববার এক প্রতিবেদনে এমনটা জানিয়েছে বিআইডিএস।
গবেষণা সংস্থাটির প্রধান ড. বিনায়ক সেন বলেন, অদক্ষ শ্রমিক দিয়ে অর্থনীতির টেকসই উন্নয়ন হবে না। তবে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, দক্ষতা বাড়ানোর আগে প্রয়োজন কর্মসংস্থান।
বাংলাদেশে কৃষি শিল্প সেবা খাত মিলিয়ে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত এখন প্রতি ১০০ জনের ৮৫ জন মানুষ।
যারা প্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করছেন প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে পড়াশোনা আর কর্মের কোন মিল না থাকায় বেশিরভাগই অদক্ষ অবস্থায় কাজে যোগ দিচ্ছেন, দক্ষতা বাড়ানোর খুব একটা সুযোগ মিলছে না।
দেশের দশটি খাতের ১,১৩৮টি প্রতিষ্ঠানের সাত হাজারেরও শ্রমিকের ওপর জরিপ চালিয়ে বিআইডিএস জানালো, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে না পারলে মধ্য আয়ের ফাঁদে পড়বে বাংলাদেশ।
বিআইডিএস-এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. কাজী ইকবাল বলেন, শ্রম বজারে মিসম্যাচ বলতে বলা হয়েছে, যে পরিমাণ দক্ষ শ্রমিক দরকার তা পাওয়া যাচ্ছে না।
বিশেষ করে ম্যানেজার ও প্রফেশনালদের মধ্যে ঘাটতি সবচেয়ে বেশি। কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, তৈরি পোশাক শিল্প এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পে উচ্চ পর্যায়ে দক্ষ লোকের ব্যাপক ঘাটতি আছে।
আবার কোথায় অষ্টম শ্রেণি পাশ কর্মীর দরকার হলে দরখাস্ত আসছে মাস্টার্স পাশের। আবার কোথায় বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী দরকার হলে সেখানে পাওয়া যাচ্ছে না।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে আন্ডার কোয়ালিটি গ্যাপ আছে ৭১ শতাংশ। আবার চাকরি প্রার্থীদের অযোগ্যতা আছে ৮৩ শতাংশ। তবে নিম্ন পর্যায়ের শ্রমিকদের মধ্যে দক্ষতার ঘাটতি কম।
যত উপরের দিকে উঠা যায় ততই দক্ষতার ঘাটতি বেশি হচ্ছে। আর শ্রমিকদের মধ্যে কর্মক্ষমতা কম। এক্ষেত্রে সবার উপরে অবস্থানে সিঙ্গাপুর আর বাংলাদেশের অবস্থান নিচ থেকে চতুর্থ।
বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেন বলেন, শ্রম বাজারে সঠিক মজুরি প্রশিক্ষণের আকাঙ্ক্ষাকে বাড়িয়ে দেয়। শ্রম বাজারে মজুরির সঙ্গে প্রশিক্ষণ মেলাতে হবে।
আগামী ১০ বছরে শ্রমিকের যে চাহিদা হবে সে অনুযায়ী এখন থেকে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এছাড়া বিদেশে শ্রমিকদের আরও দক্ষ করে পাঠাতে হবে।
অন্য বক্তারা বলেন, শিল্প কারখানাগুলোতে অদক্ষ শ্রমিক যেমন উৎপাদন কমাচ্ছে তেমন প্রযুক্তির বিকাশেও নিজেদের মানাতে পারছে না। ফলে সংকটও বাড়ছে।
শ্রমিকের মজুরি প্রশিক্ষণের আগ্রহ বাড়িয়ে দেয় উল্লেখ করে ড. বিনায়ক সেন জানান, কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের নায্য মজুরির সাথে প্রশিক্ষণ মেলাতে না পারলে এগুনো যাবে না।
তবে শ্রমবাজারে দক্ষতা বাড়ানোর চেয়ে মানুষের সংখ্যা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন পরিকল্পনামন্ত্রী। তার মতে, উন্নয়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে নয়।
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘আমি মনে করি সুশাসনের আগে উন্নয়ন জরুরি। কেননা দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ দু’বেলা খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং সঠিক বিচার চায়।
এগুলো থাকলেই তারা খুশি। এজন্য আগে উন্নয়ন করতে হবে। পাশাপাশি সুশাসনের বিষয়টি নিশ্চিত করা দরকার বলেও মনে করেন এই মন্ত্রী।
বিদ্যুতের সমস্যা বেশিদিন থাকবে না বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এ দেশে আজীবন বিদ্যুৎ ছিল না। বিদ্যুৎ আওয়ামী লীগ সরকার দিয়েছে। বর্তমানে মানুষের একটু অসুবিধা হচ্ছে। তবে এ সমস্যা বেশি দিন থাকবে না। এটাকে আবার কেউ কেউ ইস্যু বানাতে চায়।
একাত্তর/এসি