শ্রমিক কল্যাণে ট্রেড ইউনিয়নকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বাংলাদেশেও এর কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কাউন্সেলর স্টিভেন ইবেলি।
একাত্তরকে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের শ্রম খাতে বড় ধরনের সংস্কার চায় যুক্তরাষ্ট্র।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র। গত অর্থবছরে (২০২২-২০২৩) অর্থবছরের দেশের মোট রপ্তানির ১৭ শতাংশই হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। আর প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে রয়েছে তৈরি পোশাক।
যুক্তরাষ্ট্রও নিজেদের বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সবচেয়ে বড় ক্রেতা বলে মনে করে। যা ফুটে উঠলো কাউন্সেলর স্টিভেন ইবেলির কথাতেও।
তিনি বলেন, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা সম্পর্ক। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অন্যতম। কেউ কেউ হয়তো বলবেন সবচেয়ে বড়, আমিও বলবো সবচেয়ে বড়; কিন্তু অনেকেই বলবেন অন্যতম বড় ক্রেতা।
‘অবশ্যই বাংলাদেশি রপ্তানির সবচেয়ে বড় গন্তব্যই যুক্তরাষ্ট্র। তার মধ্যে বেশিরভাগই তৈরি পোশাক,’ যোগ করেন তিনি। বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য ট্রেড ইউনিয়ন দরকার বলেও মনে করেন স্টিভেন ইবেলি।
বলেন, আমরা শ্রম ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংস্কার চাই। যেকোনো গবেষণাতেই আপনি দেখবেন, শিল্প প্রতিষ্ঠানে যদি শ্রমিক ইউনিয়ন থাকে, তারা কর্মীদের জন্য বেশি মজুরি আদায় করতে পারে।
‘যুক্তরাষ্ট্রেও যদি দেখেন, ইউনিয়নভুক্ত শ্রমিকরা বেশি আয় করেন। কারণ, সবাই মিলে দরকষাকষির সুযোগটা তৈরি করে দেয় ইউনিয়নগুলো। আর তাতে শ্রমিকরাই উপকৃত হয়,’ মত দেন এই কাউন্সেলর।
শ্রমিকদের আটক এবং তাদের সাথে দুর্ব্যবহারে তার দেশ যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন এবং বাংলাদেশের ভালোর জন্যও শ্রমিকদের ইউনিয়নের অধিকার থাকা উচিত বলেও জানান তিনি।
বলেন, শ্রমিকরা খুবই কঠোর পরিশ্রম করে। তাদের সবচেয়ে ভালোটা পাওয়ার কথা, ভালো আচরণও পাওয়ার কথা। কিন্তু আমরা যখন শ্রমিকদের গ্রেপ্তার ও আটকের কথা শুনি বা ইউনিয়ন বহির্ভূত আচরণ দেখি, এটা আমাদের ভাবায়।
‘কাজেই আমরা অবশ্যই আরো সংস্কার চাই। আমরা চাই, শ্রমিকরা ইউনিয়নভুক্ত হোক। কারণ, এটা শুধু শ্রমিকদের জন্যই মঙ্গলজনক নয়, গোটা বাংলাদেশের জন্যই সর্বোপরি ভালো,’ যোগ করেন স্টিভেন ইবেলি।
আর ইউনিয়ন আছে এমন কারখানায় উৎপাদন বেশি ভালো হয় দাবি করে এই কাউন্সেলর, ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস শ্রমিক কল্যাণে যেসব কাজ করছে, তারও বর্ণনা দেন।
বলেন, শ্রমিকদের জন্য বাংলাদেশে মার্কিন দূতাবাসে সাহায্যকেন্দ্র ও লেবার অ্যাটাশে আছে। তারা বেসরকারি খাতের শ্রমিকদের জন্য দারুণ কাজ এবং সেতু হিসেবে কাজ করে।
‘তারা শ্রমিকদের পরামর্শ দেয়। বাংলাদেশে শ্রমিক অধিকার কীভাবে নিশ্চিত করা ও এগিয়ে নেয়া যায়, সেই বিষয়টি নিয়েও কাজ করে,’ যোগ ইবেলি।
তিনি আরো বলেন, শ্রমিকের কল্যাণ হলে, শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্যই এটা মঙ্গলজনক হবে।
মুক্ত বাণিজ্যে বাংলাদেশ-চীনের সহযোগিতা বাড়বে: সচিব 