ট্রেড ব্যালেন্স ও চলতি হিসেবের ভারসাম্য পরিস্থিতির উন্নতি তবু ডলার সঙ্কট যাচ্ছে না-কারণ পেছনের আনসেটেল্ড দায় আর পেন্ট আপ ডিমান্ড। একাত্তরকে একথা বলেছেন অর্থনীতিবিদ ড. আহসান আহসান মনসুর।
তার মতে, রাজস্ব সংস্কারে আসল বাধা বেনিফিশিয়ারি গ্রুপ-করাপ্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ট্যাক্স অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং ব্যবসায়ী মহল। দেশে অনৈতিকভাবে অর্জিত সম্পদ বেড়ে গেলে এই ব্ল্যাক মানিই ভোগের জন্য বিদেশে পাচার হয়।
একাত্তরকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সরকার শুধু এখন ব্যবসাবান্ধবই নয়, ব্যবসায়ীরাই পরিচালনা করছে সরকার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জুলিয়া আলম।
জুলিয়া: ২০২৩ সালের অর্থনীতি নিয়ে স্বয়ং আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। চলতি বছরের তিন মাস হতে চলে গেলো। আপনি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে কোথায় দেখতে পাচ্ছেন?
ড. আহসান মনসুর: দেখুন ২০২৩ সাল নিয়ে পৃথিবীর সব দেশেই সরকার এবং জনগণ দুশ্চিন্তায়ই আছে। করোনা কমার পর ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধের এক বছর পার হয়েছে। আমাদের সমস্যাটা আমি মনে করি পৃথিবীর অন্য দেশের চাইতে একটু ভিন্ন। আমরা ডলার ক্রাইসিসের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি-এটা নতুন। আগে আমরা ব্যাংকে যেতাম এলসি খুলতাম-যে কেউ আমদানি করতে পারতো টাকা থাকলেই। ফলে হাজার হাজার আমদানিকারকের বাজার ছিলো প্রতিযোগিতামূলক। কিন্তু ডলার সংকটে আমদানিকারকরা টাকা নিয়ে আসছে তাকে ডলার দেওয়া যাচ্ছে না। ধরুন, চিনির কথাই যদি বলি, চিনির আমদানি যে পরিমাণ দরকার, ততখানি আমদানির এলসি খোলার ডলার নেই। ফলে সরবরাহের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এই জিনিসটা আমরা প্রতিটা আইটেমেই দেখতে পাচ্ছি শুধু খাদ্য পণ্যে নয়। সরকার থেকে বলা হচ্ছে যে আমাদের রপ্তানি বেড়েছে। আরএমজি যারা এক্সপোর্ট করে তারা বলে রপ্তানি বেড়েছে কারণ দাম বেড়েছে পরিমাণে কিন্তু বাড়ে নাই। কাঁচামালের দামও বেড়েছে আমারতো কোন লাভ হয়নি। ডলার সংকটে সরকারও পর্যাপ্ত কয়লা এবং জ্বালানি তেল আমদানি করতে পারে নাই। ফলে বিদ্যুৎ কেন্দ্র অনেকগুলো বন্ধ করা ছিল এবং সরকারকে বাধ্য হয়ে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। কারণ সরকারের পক্ষে যে পরিমাণ সাবসিডি দিতে হতো এটা সহজ নয়। বাজেটে সাবসিডির পরিমাণ ছিল ৮২ হাজার কোটি টাকা। সেটা প্রায় তখনকার হিসেবে ধরলে ১০ বিলিয়ন ডলার। প্রচুর টাকা আইএমএফ এর প্রোগ্রামের আড়াই গুণ। পরে যখন হিসেব করা হলো মধ্য ফিসক্যাল ইয়ারের মাঝামাঝি এসে এটা হয়ে গেল ১৬০ থেকে ১৮০ হাজার কোটি টাকা- অর্থাৎ ডবল। ডবল যদি হয়ে যায় তার মধ্যে এক্সচেঞ্জ রেট যদি অ্যাডজাস্ট করি ১০০ টাকা হিসেবেও ধরি তাহলে ১৮ বিলিয়ন ডলার বা ১৬ বিলিয়ন ডলার হয়ে যায়। মানে দশ বিলিয়ন ডলারটা ১৬ থেকে ১৮ বিলিয়ন ডলার হয়ে যায়। অর্থাৎ সরকারের ঘাড়ে আরও বোঝা চেপে গেছে। ফলে সরকারের পক্ষেও এটা বহন করা সম্ভব ছিল না। আমি ডিউ সিম্পেথি টু সিটিজেন, নাগরিকদের বলছি সরকারেরটাও বুঝতে হবে। সরকার সঙ্গতকারণে বিদ্যুৎ ও তেলের দাম বাড়িয়েছে। সব কিছুর দাম বাড়িয়েছে। এটা ছাড়া কিন্তু আমাদের অর্থনীতির ভারসাম্যটা ফিরিয়ে আনতে পারবো না। অবশ্য এটার ইম্প্যাক্ট ভোক্তার উপর চাপ ফেলবে। অর্থাৎ যে টাকা সরকার ভোক্তার জন্য সাবসিডি দিতো, সেটা আবার নিয়ে নিচ্ছে। ফলে সেটি ভোক্তাকে ব্যক্তি পর্যায়ে ফ্যামিলির বাজেট থেকে দিতে হচ্ছে। বিদ্যুতের টাকা, বাস ভাড়ায় এবং আরো অনেক জায়গায় এক্সট্রা টাকা এগুলো সব দিতে হচ্ছে। আর রিকশাচালকও তো দাম বাড়িয়ে দিয়েছে- কেউ তো আর বসে নেই। মধ্যবিত্ত কিন্তু এক্সট্রা আয় করতে পারছে না। এই জায়গাটাতেই মধ্যবিত্তের টানাপোড়ন। আমার শঙ্কা হচ্ছে এই সংকট এখনই যাবে না। অন্তত আরো ছয় মাস থেকে এক বছর চলতে পারে বা চলবে।
জুলিয়া: বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইপিবির হিসেবে রেমিটেন্স বাড়ছে, রপ্তানি আয় বাড়ছে। কিন্তু বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে আস্থা ফিরছে না কেন?
ড. আহসান মনসুর: দেখুন বহি:বাণিজ্যে যখন হিসেব করা হয়- একটা হচ্ছে রপ্তানি, একটা রেমিটেন্স। এই দুটো থেকে আমরা প্রধানত আয়টা করি। আরেকটা হচ্ছে আমদানি ব্যয়। আয় আর ব্যয়ের মধ্যে যে পার্থক্য সেটা কিন্তু কমে আসছে এবং সরকারের ভাষ্য সঠিক। কারেন্ট একাউন্ট ডেফিসিট কমে আসছে, ট্রেড ব্যালেন্স কমে আসছে এগুলো পজেটিভ সাইন নো কোয়েশ্চেন। কিন্তু ডলার সংকট যাচ্ছে না কেন? সেটা হলো যে আমার অনেকগুলো পেমেন্ট যেগুলো আনসেটেল্ড হয়ে আছে, অর্থাৎ দায়বদ্ধ কিন্তু পরিশোধ করতে পারছি না। ব্যাংকগুলো এলসি খুলে ফেলেছে, এলসির মাল চলে আসছে সবই হয়ে গেছে কিন্তু টাকা দেওয়া হয়নি দিতে হবে। সেই বাকি টাকা কত আমরা জানি না। হয়তো কয়েক বিলিয়ন ডলার হবে। দুই নম্বর হচ্ছে যে যেটা আমি আগে বলছিলাম অনেকেই ডলারের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছে। মানে আমাকে যদি ডলার দেওয়া হয় আমি ব্যাপকভাবে আমদানি করব। যেহেতু আমার ডলার নাই আমি কি করবো ঘোরাঘুরি করছি ব্যাংক টু ব্যাংক চেষ্টা করছি কেউ যদি আমাকে দেয়। সেটা দিয়ে আমি এলসিটা খুলবো। যখনই ডলার প্রাপ্যতা কিছু শুরু হবে তখন এই লোকগুলো বাজারে চলে আসবে। তখন আবার ডলার সংকট কিছু থাকবে। ইমিডিয়েট চলে যাবে না এদের ডিমান্ড মিটাতে হবে। যেসব অনিষ্পন্ন দায় রয়ে গেছে সেটা মেটাতে হবে। পেন্ট অফ ডিমান্ড যেটা আমরা খুলবো কিন্তু খুলতে পারছিনা সেটা মেটাতে হবে এবং সেই সাথে আমাদের কিছু শর্ট টার্ম ডেবট আছে প্রাইভেট সেক্টরে ১৭ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ। সেটাও মেটাতে হবে আংশিকভাবে হলেও মেটাতে হবে। এই তিনটা জিনিস কিন্তু আমার পেমেন্ট সাইটে আমাকে অস্থিতিশীল করে রাখছে এবং এই জিনিসটা যেতে সময় লাগবে, রাতারাতি যাবেনা। বাংলাদেশের ফাইন্যন্সিয়াল একাউন্ট সারপ্লাস থাকে সবসময়। গত বছর ছিল ১৩.৭ বিলিয়ন ডলার তার আগে ১৪ বিলিয়ন ডলার, এই বছর এটা নেগেটিভ এক বিলিয়নের উপরে। অর্থাৎ আমি ১৪ থেকে মাইনাস ওয়ানে চলে এসেছি। তার মানে এই যে ১৫ বিলিয়ন ডলার গ্যাপ হয়ে গেল- পেমেন্ট গ্যাপ। ফলে যারা আমাদের টাকা দিত শর্ট টাম বড় ঋণের জন্য তারা এখন বলছে বাংলাদেশের জন্য লিমিট কমিয়ে দিলাম। অর্থাৎ তারা যদি ৫০০ মিলিয়ন ডলার দিত একটা বড় ব্যাংক বাংলাদেশকে এখন দিবে ২০০ মিলিয়ন ডলার। তাহলে আমার টাকা শর্টেজ হয়ে গেল। ওই ফাইন্যান্স দিয়েই তো আমি এলসি খুলতাম। এখন ওই ফাইন্যান্স না আসা পর্যন্ত আমার কিন্তু ওই আগের অবস্থায় আমি যেতে পারব না। এই জিনিসটা কিন্তু অনেকে বোঝেনা,আলোচনায় আনে না বা জানে না। কিন্তু এই সমস্যাটা অনেক বড় সমস্যা। ব্যক্তি খাতে প্রতিষ্ঠান যখন একটা ইন্ডাস্ট্রি করে তখন সে দুই বছরের জন্য লোন নিয়ে থাকে। দুই বছর মেশিনারিজ এর জন্য লোন নিয়ে থাকে পরে শোধ করে দেয়। তারা এখন আর লোন পাচ্ছে না। ফলে তার আমদানিটা কি হবে। এই সমস্যা গুলো এখন প্রকট হয়ে দেখা দিচ্ছে। একটা জিনিস যে রেপুটেশন লস করতে সময় লাগে না। রিগেন করতে অনেক সময় লাগে।
জুলিয়া: আইএমএফ এর প্রথম কিস্তি অনুমোদন হয়ে যে তহবিল আমাদের রিজার্ভে যোগ হয়েছে এতে দেশের আর্থিক সংকট কতটুকু সমাধান হলো?
ড. আহসান মনসুর: আমি প্রথমেই বলবো যে আইএমএফ এর ভূমিকাটা হচ্ছে একটা ক্যাটালিস্ট রোল অর্থাৎ এর সংস্পর্শে অন্যান্য জিনিস অনুঘটক অন্যান্য জিনিস ঘটবে সেটা পজিটিভলি আমাদের আউটপুটটাকে ইনফ্লুয়েন্স করবে। আইএমএফের লোন এমন কোন বড় পরিমাণ না। সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার আর আমরা সাবসিডি দেই ১০ বিলিয়ন ডলার কাজেই এটা কিন্তু ইট সেল্ফ ইজ নট এ বিগ এনাফ। যে জিনিসটা দরকার সেটা হলো আই এম এফ এর এই লোনের সাথে একটা পলিসি প্যাকেজ থাকে। সেই পলিসি প্যাকেজটাকে কার্যকর করতে হবে। তারা বলছে ব্যাংকিং খাতকে সুসংগঠিত করতে হবে, ব্যাংকিং খাতে নন-পারফর্মিং লোনগুলো কমিয়ে আনতে হবে ৫% প্রাইভেট ব্যাংকে এবং সরকারি ব্যাংকে ১০% নামাতে হবে। যদি সরকার করতে পারে স্যালুট টু দা গভর্মেন্ট। কিন্তু পারবে কিনা সেটা নিয়ে আমি সন্দিহান। আইএমএফ যেটা বলেছে ঠিকই বলেছে এটা করতে পারলে আমাদের জন্য বিশাল একটা পটভূমির পরিবর্তন হবে। কিন্তু এটাই চ্যালেঞ্জ। সেকেন্ড যে শর্ত বাংলাদেশের ট্যাক্স টু জিডিপি রেশি পৃথিবীর সবচেয়ে কম- আমাদের মাত্র সাড়ে ৭%, ভারতে ১৯% আর উন্নত দেশগুলোতে হচ্ছে ৩৫-৪০% । তো আমাদের সাড়ে সাত পার্সেন্ট নিয়ে দেশ কীভাবে চালাবো। ন্যাচারালি আইএমএফ বলছে প্রতিবছর হাফ পার্সেন্ট করে একটু একটু করে আগানো হোক। আমরা হিসেব করে দেখেছি এই হাফ পার্সেন্ট করতে গেলে সরকারকে বেশি রাজস্ব আদায় করতে হবে ৬০-৭০ বিলিয়ন টাকা এক্সট্রা। তিন বছরের এই প্রোগ্রামে প্রায় ২ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে হবে অতিরিক্ত রাজস্ব। এটা বিশাল চ্যালেঞ্জ। সরকার কি পারবে আমরা দেখার অপেক্ষায় আছি।
জুলিয়া: আপনি যেটা বললেন সরকার আসলেই দায়বদ্ধ-এটা করতেই হবে!
ড. আহসান মনসুর: হ্যাঁ, সাইনিং লেটারে তারা প্রতিজ্ঞা করেছে আমরা এটা করব। এটা আমাদের লক্ষ্য তোমাদের সহায়তা নিয়ে।
জুলিয়া: এ ধরনের সংস্কারের কথা আপনারা বারবার বলেছেন, আপনি বলেছেন আরো অনেক অর্থনীতিবিদ অনেকবার বলেছে। তখন সরকার হয়তো সেভাবে কানে নেয়নি। এখন একপ্রকার বাধ্য হয়েই হয়তো সরকারকে আমাদের রাজস্ব খাত এবং আর্থিক খাত সংস্কার করতেই হবে। একটু জানতে চাই আপনি কি এই সংস্কারের শুরুর কোন সম্ভাবনা দেখছেন?
ড. আহসান মনসুর: এখন পর্যন্ত দেখিনি। সরকারের কিন্তু সদিচ্ছার অভাব নাই কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে অপরাগতা দেখতে পাচ্ছি। মুখে বলছে যে করবো এবং করতে চাই সরকারের সব দলিলে সুস্পষ্ট। আমরাও বলছি করা দরকার না করলে সরকারের বিপদ হবে, দেশের বিপদ হবে। সরকার কিন্তু কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয় নাই। শুধু লিপ সার্ভিস হয়েছে।
জুলিয়া: কেন এই অপারগতা! সরকার বুঝতে পারছে এবং জানছে আপনারাও বলছেন কি করা দরকার এবং বলছেন সদিচ্ছার অভাব নাই। তাহলে সমাধানগুলো আসলে কোথায় গিয়ে আটকে যাচ্ছে। কি মনে হয়?
ড. আহসান মনসুর: সমস্যার দুটো তিনটা জায়গা আছে যেখানে বাধা আসে এবং সংস্কারে বাধা আসবেই কারণ স্ট্যাটাসটিতে অনেক বেনিফিশিয়ারী আছে, যারা সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে, কর দিতে হচ্ছে না অল্প কিছু টাকা ঘুষ দিয়ে ম্যানেজ করা যায় সুতরাং ব্যবসায়ী মহল, করাপ্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ট্যাক্স অ্যাডমিনিস্ট্রেশন তাদের সাথে আঁতাত হয়ে আছে। ফিল্ড লেভেলের অফিসাররা খুব আরামে আছেন এবং তাদের আর্থিক উন্নতি হচ্ছে। তারা সংস্কার করার কথা বললে মুখে বলবে কিন্তু কাজ করতে দিবে না। এনবিআর এর অনীহা আছে সংস্কারে। রাজস্ব বোর্ডে বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ে। তাদেরকে যদি কম্পিউটার দেওয়া হয় সিস্টেম ডেভেলপ করার জন্য যার মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন হবে পেমেন্ট হবে. সবকিছুই অটোমেটেড হবে। তারা কম্পিউটারকে ব্যবহার করে শুধু ওয়ার্ড প্রসেসিং পারপাসে- চিঠি লেখার জন্য আর কিছু না। এই যে শত শত কোটি টাকার কম্পিউটার কিনে দেওয়া হল প্রোজেক্টের আন্ডারে ভ্যাট অনলাইন সেটার ব্যবহার কি শুধু চিঠিপত্র লেখালেখির জন্য? কোন অটোমেশনই আসলে সেভাবে হয় নাই।
জুলিয়া: এভাবেও শুনেছি যে মেশিন যে পরিমাণ দরকার সেই বাজেট নাই!
ড. আহসান মনসুর: আমি মনে করি যে রাজস্ব খাতে রিফর্ম করার টাকার অভাব নাই। ডেভেলপমেন্ট পার্টনাররা সব টাকা দিয়ে দিবে সরকারকে খরচ করতে হবে না কিন্তু সরকারকে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। এটার জন্য সরকার কঠিন পদক্ষেপ নিবে কিনা এটা একেবারেই ওপর থেকে আসতে হবে, এনবিআর এর পক্ষে এই পরিবর্তন করাটা কোনোমতেই সম্ভব নয়।
জুলিয়া: আপনি আইএমএফের উচ্চ পদে কাজ করেছেন। এর আগেও বাংলাদেশ আইএমএফ থেকে বেশ কয়েকবার ঋণ নিয়েছে। একটু জানতে চাই এবারের ঋণ এবং আগের ঋণের মধ্যে পার্থক্য কি? এবারের ঋণ নিয়ে সমালোচনাটা কী বেশি হল?
ড. আহসান মনসুর: এবারের ঋণ সময়োপযোগী হয়েছে এবং সরকার খুব তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবারের ঋণের শর্তগুলো শক্ত নয় যতটা আমরা আশংকা করেছিলাম। বিশ্বব্যাংকের সাবেক চিফ ইকোনমিস্ট এসেছিলেন ঢাকায় উনি সরকারের প্রশংসা করে বললেন যে সরকার সময় থাকতে সেখানে গিয়েছে। শ্রীলঙ্কা বা পাকিস্তানের মতো বেশি দেরি করে নাই। তবে এটাও ঠিক যে শুধু প্রোগ্রাম করে সময় ক্ষেপণ করে দিলাম এবং প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করলাম না তাহলে সেটা আমাদের কাজে লাগবে না। যেহেতু বাংলাদেশের একটা আন্তর্জাতিক সুনাম আছে আমরা চাই সরকার যেটাই কমিটমেন্ট করেছে সেটাই বাস্তবায়ন করুক।
জুলিয়া: গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ডলারের দামের সাথে তাকার বিনিময় হার ১০৫ টাকা থেকে ১০৭ টাকায় স্থির হয়েছে। আমাদের অর্থনীতির জন্য কি এই হার ঠিক আছে?
ড. আহসান মনসুর: দেখুন আমাদের ডলারের হার ছিলো ৮২ বা ৮৪ সেটা হয়েছে ১০৫ বা ১০৭। এটাই কি সমাধান? বাজার কি বলে? বাজারের মেইন রুল হচ্ছে আমরা অর্থনীতির ভাষায় বলি প্রাইস ডিসাইড বাই মার্কেট অর্থাৎ দামের আবিষ্কার হয় বাজারে। একটা পণ্যের দাম ১০ টাকা হবে নাকি ২০ টাকা হবে সেটা বাজার বলবে-ফিক্সড করে রাখলে কি বাজার ব্যবস্থা হলো? যেটা ভালো সেটা হলো যে আমরা এখনই ছেড়ে দেই ডলার সংকট টা চলে যাবে। তার মানে কি আমার চাহিদাটা কমে আসবে যে ডলার চাহিদা ঐ দামে সে কিনতে পারবে হয়ত এটা ১১২ টাকা হতে পারে আমি জানি না কোথায় গিয়ে ঠেকবে। কিন্তু সেটাই হওয়া উচিত।
জুলিয়া: আইএমএফ বলছে ভর্তুকি কমাতে হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ানোর পর আমরা দেখলাম সরকারও একই সুরেই বলছে যে, আর ভর্তুকি দেওয়া যাবে না। দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা কৌশল কি বিদেশ নির্ভর হয়ে যাচ্ছে? দাম না বাড়িয়ে বিকল্প কি কোন ব্যবস্থা ছিল না?
ড. আহসান মনসুর: প্রথমটায় আসি, যদি আমাদের প্রাইসিং মেকানিজমটা বাজারভিত্তিক থাকতো তাহলে প্রতিনিয়ত দাম কমতো বাড়তো। যদি প্রতিদিন চালের দাম বাড়তে পারে কমতে পারে, ভোজ্য তেলের দাম বাড়তে পারে কমতে পারে, তাহলে আমার জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে পারে কমতে পারে অসুবিধাটা কি। পৃথিবীর সব দেশে জিনিসপত্রের দাম ওঠানামা করছে। একই পেট্রোল পাম্পে সকালে এক দাম বিকালে আরেক দাম। হয়তো ১০ সেন্ট বেশি ৫ সেন্ট কম এরকম উঠানামা করছে। এটা স্বাভাবিক এটাই বাজার। আমাকে অভ্যস্ত হতে দিলে আমি অভ্যস্ত হই। অর্থনীতিকে ওর মত চলতে দিলেই সরকার এর থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। সরকারের ভর্তুকিও দিতে হবে না।
আর যেটা বললেন যে, আমাদের পলিসি কি বহির্মুখী হয়ে যাচ্ছ কিনা সে ব্যাপারে আমি বলব যে সরকারকে, আইএমএফ যে কথাটা বলছে এখানে একটা তথ্যও নতুন কিছু নাই যেটা আমরা বলিনি- আজকে থেকে বলছি না কয়েক বছর ধরে বলছি এবং না শোনার কারণে আজকে আমরা এই ডলার ক্রাইসিস, জ্বালানি সংকটে। কাজেই বাইরের দিকে তাকান কিন্তু ভেতরের কথাটাও শুনুন।
জুলিয়া: সংসদে ঋণ খেলাপিদের তালিকা প্রকাশ হয়েছে- ঋণখেলাপি এখন বড় আলোচনা। কিন্তু পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী একাত্তরকে বলেছেন, বাংলাদেশের খেলাপী ঋণের মাত্রা আসলে খুব বেশি নয়। তার মতে দেশে ব্যবসায়ীর সংখ্যা বাড়ছে অর্থনীতি বাড়ছে তাই ঋণ খেলাপি বাড়ছে। আপনি কী বলবেন?
ড. আহসান মনসুর: দেখুন অবশ্যই খেলাপি ঋণের পরিমাণটা বাড়তেই পারে। কারণ অর্থনীতির আকার বাড়ছে এবং আমাদের টোটাল ঋণের যে প্রবাহ সেটাও বাড়ছে। কিন্তু কথাটা হচ্ছে আনুপাতিক হারে কতটা বাড়বে। সরকারি হিসেবে বলা হয় খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাংলাদেশের ৯ থেকে ১০% এর মতো। এটা কি সঠিক? আইএমএফ কিন্তু বলছে এটা ন্যারোলি ডিফাইন্ড নাম্বার। এটার সাথে যোগ করতে হবে আমাদের হাজার হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আটকে পড়ে আছে। অর্থাৎ আমি টাকা দিতে পারছি না ব্যাংক আমার উপর কেস নিয়ে আসছে আর আমি একটা ইনজাংশন দিয়ে দিলাম। হাইকোর্টে রিট করে দিলাম দিয়ে আটকে দিলাম। এই ঋণটা কোনোদিন শোধ হবে না। আজ থেকে ২০ বছর আগে যারা ঋণ নিয়েছে তারা ঋণটা শোধ করছে না দুই পার্সেন্ট করে জমা দিচ্ছে চার পাঁচ বছর পর পর। একটা করে আন্দোলন করে আমাদের রাজনীতিবিদদের ইনফ্লুয়েন্স করে ফেলে এবং রিশিডিউল করার একটা প্ল্যান করে ফেলে এবং দুই পার্সেন্ট পরিশোধ করে দিয়ে আরো পাঁচ দশ বছরের জন্যই এই সুযোগটা নেয়। আইএমএফ বলছে এই টাকাটা তোমরা পাবে না। তাই সব মিলিয়ে যদি ধরা হয় তাহলে আমাদের খেলাপি ঋণ ২৪-২৫ % অর্থাৎ ১০০ টাকার ২৫ টাকাই অনাদায়ি। আমি যদি হংকং এর সাথে তুলনা করি। এটা সাধারণত হয় এক থেকে দেড় পারসেন্ট। সৌদি আরবে আমি কাজ করতাম সেখানে ছিল ১.৪%৷ নন পারফর্মিং অ্যাসেট -এটা হওয়া উচিত এক দুই তিনের মধ্যে। তো এই জায়গাটাতে আমি মনে করি আমাদের কাজ করার আছে।
জুলিয়া: আপনি কি মনে করেন না আমাদের দেশ থেকে যে পরিমাণ টাকা পাচার হয়েছে যদি তা কমানো যেত তাহলে আইএমএফ দ্বারস্থ হতে হতো না।
ড. আহসান মনসুরঃ এমন কোনো উন্নয়নশীল দেশ নেই যেখান থেকে টাকা পাচার হয় না। সব থেকে বেশি পাচার হয় চীন থেকে তারপর ভারত। আমাদের যে পরিমাণ টাকা পাচার হয় সেটা যদি ঠেকাতে পারতাম কারো দ্বারস্থ হতে হত না। শত শত বিলিয়ন ডলার সম্পদ বাইরের দেশে আছে বাংলাদেশিদের। কিন্তু সেই টাকাটা আমরা পাচ্ছি না এবং এই টাকাটা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে কেন? সেটা আপনাকে বিশ্লেষণ করতে হবে। এটার অনেকগুলো কারণ আছে। দেশে যদি অনৈতিক ভাবে অর্জিত সম্পদ বেড়ে যায়। তাহলে যারা এই সম্পদটা অর্জন করেছে তারা এটাকে ভোগ করার জন্য কোথায় নিবে। আমরা জানি যে এখানে ব্ল্যাক মানি অনেক এবং সেই টাকাটা পাচার হচ্ছে। আমাদের ব্যাংক খাত থেকে টাকাটা কোথায় গেছে, সম্পদটা কোথায় গেছে? সিঙ্গাপুরে বড় বড় বিল্ডিং করছে বাঙালিরা পরিচিত ব্যক্তিত্ব তারা এই অর্থ কোথা থেকে পায়। এইগুলো তো সঙ্গত প্রশ্ন কিন্তু এর জবাব পাওয়া যায় না। ভারতের এক ব্যক্তি ১০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে ইংল্যান্ডে চলে গিয়েছিল তাকে ভারত সরকার ধরে নিয়ে আসে এখন সে জেলে। আমরা কি সেটা করেছি? আমাদের কিছু দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে সেটা আমরা ব্যর্থ হয়েছি। সেটা না করতে পারলে টাকা পাচার রোধ করা যাবে না।
জুলিয়া: মূল্যস্ফীতি নিয়ে সরকারের দাবি এবং আমাদের বাজার ব্যবস্থাপনা আপনার কাছে কেমন মনে হয় ?
ড. আহসান মনসুর: সার্বিকভাবে আমাদের বাজার ব্যবস্থাপনায় অনেক ইনইফিসিয়েন্সি আছে। একটা কৃষক হয়তো ১০ টাকায় একটা ফুলকপি বিক্রি করছে। ঢাকায় কারওয়ান বাজার পর্যন্ত আনতে দুটো ধাপ পার হতে হয়। স্থানীয় পাইকারি বাজারে যাচ্ছে। ওখান থেকে ট্রাকে ভাড়া করে নিয়ে যমুনা অথবা পদ্মা ব্রিজ হয়ে খুচরা বাজারে আসছে। আসতে আসতে এখানে কিছু চাঁদাবাজিও হয়। ট্রাকের খরচটা কিন্তু অনেক বেশি। ফলে ওই দশ টাকার ফুলকপি কিন্তু ২০ টাকায় চলে আসছে৷ আবার এখানে আসার পর দেখা যায় হয়তো প্রিজারভেশন আমাদের নাই কোল্ড স্টোরেজ নাই। পৃথিবীর সব দেশে আছে। শুধু আলুর কোল্ড স্টোরেজ আমাদের আছে অন্য কিছুর নাই। এটা না করার কারণে যেটা হয় সিজনে দেখা যায় বাঁধাকপি ফুলকপি পচে যাচ্ছে। ঢাকাতে দাম বেশি। আবার যখন সিজন শেষ হয়ে যায় যেটার দাম ২০ টাকা ছিল সেটার দাম ২০০ টাকা হয়ে যায়। আমাদের ওয়েস্টেজ ফ্যাক্টর বেশি । আমি সিন্ডিকেট বলবো না। এখানে লক্ষ লক্ষ ফার্ম আছে ফার্মারের সংখ্যা হয়তো কোটি। পাইকারের সংখ্যা হয়তো কয়েক লক্ষ। তাদের মধ্যে সিন্ডিকেট করা সম্ভব না। সিন্ডিকেশন কোথায় সম্ভব আমি বলি ভোগ্যপণ্য যেগুলো আমদানি হয় ভোজ্যতেল- এখানে মাত্র পাঁচটা কোম্পানি। তারা তেলটা নিয়ে আসে নিয়ে প্রসেস করে তারা ব্র্যান্ড তৈরি করে বিক্রি করে। সেখানে তারা ব্যাপক লাভ করে। চিনি আপনি যান আমদানি করতে পারবেন না- তারা র’ চিনি নিয়ে আসে প্রসেস করে। এটাও কিন্তু ওই চার-পাঁচজনই করে। এইখানে সরকারকে নজরদারি বাড়াতে হবে। তাদের কিন্তু ডলারের অভাব নাই কারণ তারা ব্যাংকের মালিক সুতরাং তাদের হাতে মার্কেট ম্যানুপুলেশন হয়। আমি মনে করি না চালের বাজারে সরকারের নজর বাড়িয়ে লাভ আছে। এখানে হাজার হাজার উৎপাদনকারী এবং মিলার আছে এখানে তেমন কিছু করার নাই।
জুলিয়া: সরকার ব্যবসাবান্ধব কিন্তু আমদানি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে যে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবসাবান্ধব থাকতে পারছে না। এটি কি অর্থনীতি ব্যবস্থাপনায় সরকারকে স্ববিরোধী করছেনা?
ড. আহসান মনসুর: বাংলাদেশ সরকার শুধু ব্যবসাবান্ধব নয় ব্যবসায়ীরাই সরকার পরিচালনা করছে- সেটাও অস্বীকার করে লাভ নাই। সরকার অবশ্যই ব্যবসা বান্ধব-এতে আপত্তির কিছু নাই তবে ভোক্তার স্বার্থটা দেখতে হবে। সরকার ব্যবসা সাপোর্ট করে ব্যবসায়ীদেরও সাপোর্ট করে কিন্তু এখানে ম্যাক্রো ম্যানেজমেন্টে সরকার দীর্ঘ দিন ধরে অনেক কিছুই অবহেলা করেছে। যেটার কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। এটা শুধুমাত্র ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ বা কোভিড এটাকে ব্লেম দিয়ে কিন্তু আমি পার পাব না। একই জিনিস ভারতকে এতো স্পর্শ করল না আপনাকে কেন করলো। কারণ তাদের ম্যাক্রো ম্যানেজমেন্ট ভালো হয়েছে। ভারত আস্তে আস্তে ডলার জমিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের স্টক মার্কেটে ইনভেস্ট করে না বিদেশিরা কারন আমরা ফোর প্রাইস ফিক্সড করে রাখি। আমাদের যারা পলিসি মেকার তাদের ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল মনিটরী সিস্টেম নিয়ে যে ধরনের নলেজ থাকা দরকার সেটার অভাব আছে। আরেকটা জিনিস বর্তমানে আমি যেটা মনে করি ইকোনমি পলিসিতে লিডারশিপের ঘাটতি আছে। ক্রাইসিসের সময় একটা ক্রাইসিস টিম থাকে। এখানে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের লোক থাকে এছাড়া বাহিরে থেকে লোক রাখা দরকার তাদের পরামর্শ দেওয়ার জন্য। এইরকম ম্যানেজমেন্ট টিম দেখছি না। আমাদের এখানে আইএমএফ থেকে একটা চিঠি দিয়ে গেল আমি সাইন করে দিলাম -সেটাতো নট দ্যা রাইট ওয়ে। এই জিনিসগুলো নিয়ে দেশে আলোচনা করা যেত। কিন্তু আমরা সেটা করি নাই। অর্থনীতিবিদরা সমালোচনা করে কারণ আমাদের উদ্দেশ্য কনস্ট্রাক্টিভ সাজেশন দেওয়া যাতে আমাদের দেশের নাগরিকদের উন্নয়ন হয় এবং দেশের ভাবমূর্তি যেন নষ্ট না হয়। আমরাতো দেশের নাগরিক আমরা তো দেশের ভালোই চাই। সরকারের সমালোচনা করা আমাদের উদ্দেশ্য নয় কিন্তু যখন আমরা দেখি পলিসিগত ভুল করছে অথবা পলিসি যেখানে পরিবর্তন করা দরকার সেখানে করছে না তখন সমালোচনা করা প্রফেশনাল ব্যক্তির কর্তব্য।
জুলিয়া: সামনে নির্বাচন, এবছর একটি উত্তেজনাপূর্ণ বছর। এই সময়ে সরকারের পক্ষে দীর্ঘমেয়াদি নীতি নেয়া কি সম্ভব?
ড. আহসান মনসুর: মনে রাখতে হবে সব সময় নির্বাচনের সময় বিনিয়োগ কমে যায় অর্থ পাচার বেড়ে যায়- তখন রাজনীতি আর অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। এটা যদি দীর্ঘ হয় তাহলে দেশে অনেক ইনকাম লস হয়, এমপ্লয়মেন্ট লস হয়। এবারতো পলিটিক্যাল সাইকেলও সরকারের পক্ষে নয় কারণ সব সময় সব সরকার সব দেশেই চায় অর্থনীতির সমস্যাগুলো যেন নির্বাচন আসার আগেই সেটেল হয়ে যায়। এবার দেখলাম তা হচ্ছে না। কারণ আমরা কার্যকর পদক্ষেপ এখনো নেইনি। হ্যাঁ, আইএমএফ এর সাথে প্রোগ্রাম হয়েছে তবে কন্ডিশনগুলো এখনো একটাও বাস্তবায়ন শুরুই হয় নাই। ফলে যেটা হচ্ছে সঙ্কটটি প্রলম্বিত হচ্ছে।
জুলিয়া: আপনাকে ধন্যবাদ
ড. আহসান মনসুর: আপানাকেও ধন্যবাদ
একাত্তর/এসি