চার্জার ফ্যান-লাইটের বাজারে রীতিমতো অরাজকতা!

তীব্র গরম আর লোডশেডিং শুরুর পর থেকেই রীতিমতো অরাজকতা চলছে, চার্জার ফ্যান ও লাইট এবং আইপিএস’র বাজারে। 

অতি প্রয়োজনীয় এই তিন পণ্য কিনতে এখন হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন ক্রেতারা। হঠাৎই এই তিন পণ্যের আকাশচুম্বী চাহিদা হওয়ায় দুই থেকে তিনগুণ লাভে তা বিক্রি করছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। 

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বলছে, লোডশেডিংকে পুঁজি করে অনৈতিক মুনাফা করলে কঠোর হবে তারা। 

অবশেষে সে অনুযায়ী অভিযানে নামলো ভোক্তা অধিকার। গেল ১১ ফেব্রুয়ারি নবাবপুরে ২৪৫০ টাকায় আমদানি করা ১৬ ইঞ্চির ডিফেন্ডার ব্র্যান্ডের চার্জার ফ্যান জুনের ৪ তারিখে ৬ হাজার ২০০ টাকায় পাইকারি বিক্রি করেছেন মিডিয়া হোম অ্যাপ্লায়েন্স নামে এই প্রতিষ্ঠান। ফলে এক লাখ টাকা জরিমানা গুনতে হয় প্রতিষ্ঠানটিকে।

মিডিয়া হোম অ্যাপ্লায়েন্সের সেলস ম্যানেজার লিটন বলেন, বাজার থেকে যে দামে কেনা হয়, তার চেয়ে এক-দুইশ’ টাকা বেশি দামেই সাধারণত তারা বিক্রি করেন। বাজারে অতিরিক্ত চাহিদার কারণে আমদানিকারকের কাছ থেকে তাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

খুচরা বাজারে এসব ফ্যান এখন বিক্রি হচ্ছে সাড়ে সাত থেকে আট হাজার টাকায়। চার্জার লাইট আর আইপিএস’র দামও লাগাম ছাড়া।

অভিযান টের পেয়ে ঝটপট দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যান আমদানিকারকরা। এরপর নাসির রেজা নামের এই ফ্যান আমদানিকারককে খুঁজে বের করে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। 

ন্যাশনাল ফ্যান হাউজের সত্ত্বাধিকারী নাসিম রেজা জানান, শুধু তারা নন, সবাই এটা করছে। তাই তারাও করছেন। 

নবাপুরের আর রহমান মার্কেটের দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা করার পরও মার্কেট কমিটির সভাপতি আসিফ রেজা বললেন, তারা ‘চোর-চোট্টা’ নন।

আরও পড়ুন: ৮৫ টাকার পেঁয়াজ একলাফে ৫০

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মন্ডল বলেন, এমন কারসাজি করে ভোক্তা ঠকালে কাউকে ছেড়ে দেবেন না তারা।

অভিযানের সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেন যারা, তাদের বিরুদ্ধেও নিয়মিত অভিযান চলবে বলেও জানান এই ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তা। 

একাত্তর/জো