অবশেষে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে ১০ হাজার ৪০০ টাকা করার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে মালিকপক্ষ। যা, শ্রমিকপক্ষের আনুষ্ঠানিক দাবির অর্ধেক মাত্র। রোববার নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চতুর্থ সভায় এই প্রস্তাব জমা দেয়া হয়। দুই পক্ষের দাবি পর্যালোচনা করে, আগামী মাসের শুরুতে চূড়ান্ত মজুরি ঘোষণার ইঙ্গিত দিয়েছে ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী মোল্লা।
আগেই ঠিক করা ছিলো যে, রোববারের বৈঠকেই বোর্ডের কাছে পোশাক শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি প্রস্তাব জমা দিবে শ্রমিক এবং মালিকপক্ষ। এবার নির্ধারিত সময়েই বোর্ড সভায় হাজির হয়ে শ্রমিক এবং মালিক পক্ষের প্রতিনিধিরা জমা দেন তাদের প্রস্তাব।
শ্রমিক পক্ষের দাবি সপ্তম গ্রেডের এক হেলপার শ্রমিকের পরিবার ২০ হাজার ৩৯৪ টাকা নিম্নতম মজুরি পেলে কোনোভাবে টেনেটুনে চলতে পারবে। কিন্তু মালিকপক্ষ বলছে ১০ হাজার ৪০০ টাকার বেশি নিম্নতম মজুরি দিলে পোশাক শিল্প ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা আছে। তাই এটিই তাদের প্রস্তাব।
মজুরি বোর্ডের কাছে দেয়া লিখিত প্রস্তাবে শ্রমিকপক্ষের সিরাজুল ইসলাম জানান, এখন নিত্যপণ্যের বাড়তি বাজারদর ছাড়াও আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষাসহ সব খাতে খরচ বহুগুণ বেড়েছে। দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ২০১৫ সালে প্রায় ১২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সেখানে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির হার মাত্র ৫১ শতাংশ। অন্যদিকে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া ও ভারতসহ পোশাক খাতে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে ন্যূনতম মজুরি অনেক কম। এসব বিবেচনায় পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার ৩৯৩ টাকা করার প্রস্তাব করেছেন শ্রমিকেরা।
অন্যদিকে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি সিদ্দিকুর রহমান তার লিখিত প্রস্তাবে বলেন, দেশের তৈরি পোশাক খাত করোনার ফলে সৃষ্ট আর্থিক ক্ষতি এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এরপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কাঁচামালসহ অন্যান্য উৎপাদন খরচ যেভাবে বেড়েছে, সে তুলনায় আমাদের উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়েনি।
এর সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ও সুদহার বৃদ্ধির কারণে উন্নত দেশগুলোতে পোশাকের চাহিদা ও বিক্রি কমেছে। এসব কারণে নিকট ভবিষ্যতে পণ্যের মূল্য ভিত্তিক প্রতিযোগিতায় আমাদের বাড়তি চাপে থাকতে হবে। এখন শুরু হয়েছে ইসরাইল-হামাস যুদ্ধ। সব কিছু বিবেচনায় করে ১০ হাজার ৪০০ টাকা মজুরির প্রস্তাব করা হয়েছে।
দুই পক্ষের প্রস্তাব গ্রহণের পর নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী মোল্লা উপস্থিত দুই পক্ষকে উদ্দেশ্য করে বলেন, শ্রমিক পক্ষ চাচ্ছেন ২০ হাজার আর মালিক পক্ষ বলছেন ১০ হাজার ৪০০ টাকা। দুই পক্ষের প্রস্তাবনায় বেশ ফারাক রয়েছে। এই ব্যবধান কমিয়ে আনেন। আরো সাতদিন সময়ে দেয়া হলো।
শ্রমিক ও মালিক পক্ষের প্রস্তাবে সব সময়েই পার্থক্য থাকে বলে জানিয়ে বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির অবস্থা ও শিল্প-উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে সামনে রেখে এই প্রস্তাবনা তৈরি করেছি। তারপরও যখন ব্যবধান কমাতে বলা হয়েছে, তখন চেষ্টা করা হবে।
শ্রমিক ও মালিক পক্ষের প্রস্তাব বিবেচনায় আগামী মাসের প্রথম দিনই চূড়ান্ত হতে পারে পোশাক শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি। এমন ইঙ্গিত মিলেছে মজুরি বোর্ড থেকে।
এদিকে, রোববারও নিম্নতম মজুরি ২৩ হাজার, বেসিক ৬৫ শতাংশ এবং প্রতি বছর ১০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি ও ৭টির পরিবর্তে ৫টি গ্রেডে মজুরি নির্ধারণের দাবিতে বোর্ড কার্যালয় ঘেরাও করে আন্দোলনরত শ্রমিকরা।