দেশে প্রথম ডিজিটাল ব্যাংক গঠনের প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় আট প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল ব্যাংক গঠনের প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
নতুন লাইসেন্স পাওয়া ব্যাংক দুটি ছাড়াও আরও তিনটি আবেদনকারীর প্রত্যেককে বিভিন্ন প্রথাগত ব্যাংকের সহায়তায় ডিজিটাল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ছয় মাস মেয়াদে প্রথম দুটি ডিজিটাল ব্যাংকের কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন করা হবে। এই মেয়াদের পর তিনটি ফিনটেক প্রতিষ্ঠানও লাইসেন্স পেতে পারে।
এদিকে, এই লাইসেন্সগুলির অনুমোদনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক নগদ ও কড়িকে এলওআই (লেটার অব ইনটেন্ট) ইস্যু করবে।
এলওআইতে ডিজিটাল ব্যাংকগুলোকে অবকাঠামো স্থাপন এবং সেবা চালু করার জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হবে। ডিজিটাল ব্যাংক কোনো ওভার দ্য কাউন্টার- ওটিসি সেবা দেবে না। এসব ব্যাংকের কোনো ফিজিক্যাল শাখা-উপশাখা কিংবা এটিএমও থাকবে না। এছাড়া সশরীরের লেনদেন সেবাও দেবে না ডিজিটাল ব্যাংক।
ডিজিটাল ব্যাংক পরিচালিত হবে ব্যাংকিং কোম্পানি আইনের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রণীত গাইডলাইন অনুসারে। এর আগে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স পাওয়ার জন্য মোট ৫২টি আবেদন পড়েছিলো।
নগদ ও ‘কড়ি’ ছাড়াও কয়েকটি ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগ ডিজি টেন, ব্র্যাকের উদ্যোগ বিকাশ ও ব্যাংক এশিয়ার উদ্যোগ ডিজিটাল ব্যাংক লিমিটেডও অনুমোদন পেয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক জানান, ডিজি টেন, বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক ও ব্যাংক এশিয়ার ডিজিটাল ব্যাংক লিমিটেড ব্যাংকিং খাতের হওয়ায় তাদেরকে পৃথকভাবে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স নেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
‘ডিজিটাল ব্যাংকিং উইং’ খুলে এ তিন কোম্পানি ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা দিতে পারবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, এ তিন কোম্পানি একটি নীতিমালার মাধ্যমে ডিজিটাল ব্যাংক পরিচালনা করতে পারবে। পরে তাদের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে একটি পৃথক নীতিমালা জারি করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
দেশে বর্তমানে সব মিলিয়ে তফসিলি ব্যাংকের সংখ্যা ৬১টি। নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে ক্যাশলেস লেনদেন ব্যবস্থা চালু করতে গত অগাস্টে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দিতে আবেদন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ১৭ অগাস্ট পর্যন্ত বাড়ানো সময়ের মধ্যে একক ও যৌথভাবে ৫২টি কোম্পানি ব্যাংক পেতে আবেদন করে।
তিনটি কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে প্রাথমিকভাবে নয়টি কোম্পানিকে যোগ্য মনে করা হয়েছে বলে জানান মেজবাউল। ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, সম্ভ্যব্যতা, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ১০০ নম্বরের মধ্যে যেগুলো ৬০ নম্বর পেয়েছে সেগুলোকে তালিকায় রাখা হয়।
এগুলোর মধ্যে একটি কোম্পানি বীমা খাতের হওয়ায় সেটিকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
কে নেই ডিজিটাল ব্যাংকের দৌড়ে?