পোশাক কারখানা ভাঙচুরের সঙ্গে কোনো শ্রমিক জড়িত নয় বলে মনে করে তৈরি পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি ফারুক হাসান।
পোশাক খাতের ন্যূনতম মজুরি নিয়ে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে কোথাও কারখানা ভাঙচুর হলে তা বন্ধ করে দেওয়ারও কথা বলেছেন বিজিএমইএ সভাপতি।
মঙ্গলবার উত্তরায় বিজিএমইএ ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কাঠামোর হিসাবে বেতন দেওয়া হবে জানিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, নভেম্বরের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হবে। ডিসেম্বর থেকে তা বাস্তবায়ন করবো। সহিংসতা হলে কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হবে।
বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গত এক সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিক বিক্ষোভ করছেন গাজীপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এর মধ্যেই ন্যূনতম মজুরি ১০ হাজার ৪০০ টাকা নির্ধারণের ‘গুজব’ ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি সহিংসতার দিকে গড়ায়।
সোমবার গাজীপুরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। বিক্ষোভ চলাকালে গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় আগুন লাগে। সেখানে প্রাণ যায় আরেকজনের।
মঙ্গলবারও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন শ্রমিকরা।
তাদের অবরোধের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কালিয়াকৈরের মৌচাক বাজার এলাকায় একটি পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালায় শ্রমিকরা।
সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত অবনতি হচ্ছে। তা অনুকুলে না আসা পর্যন্ত মালিকরা চাইলে শ্রম আইনের ১৩ এর ১ ধারায় কারখানা বন্ধ রাখতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, নভেম্বরেই নিম্নতম মজুরি চুড়ান্ত হবে এবং সরকার যা নির্ধারণ করবে সেটাই মালিকরা মেনে নিবেন।
কারও উসকানির ফাঁদে না পড়তেও শ্রমিকদের অনুরোধ করেন বিজিএমইএ সভাপতি।
শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, পোশাক শিল্পের উপর দেশের অর্থনীতি অনেকটা নির্ভরশীল, তাই এখাতে কারখানা বন্ধ হলে কর্মহীন হতে হবে লক্ষ লক্ষ শ্রমিককে।
মালিক সংগঠন বিজিএমইএ বলছে, মজুরি নিয়ে গুজব ছড়িয়ে বহিরাগতরা পোশাক কারখানায় ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে।
শ্রমিক অসন্তোষের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি কত নির্ধারণ করা হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
তিনি শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন, গুজবে কান দেবেন না। পোশাক কারখানার শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১০ হাজার ৪০০ টাকার বেশি নির্ধারণ করা হবে।