‘পাঁচ টাকার লেবু ১৫ টাকা হয় কীভাবে?’

বছর ঘুরে আবার দরজায় কড়া নাড়ছে মাহে রমজান। পবিত্র এই মাসে বিশ্বের শতকোটি ধর্মপ্রাণ মুসলিম রোজা পালন করেন। বাংলাদেশের মুসল্লিরাও এরিমধ্যে রমজানের প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছেন। সোমবারে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেলে পরের দিনটিই হবে প্রথম রোজা।

পবিত্র রমজান সিয়াম সাধনার মাস হলেও, এই সময়ে বাজার হয়ে পড়ে লাগামহীন। তাই মধ্যবিত্তের জন্য একটি উদ্বেগ আর শঙ্কার মাস এই রমজান। প্রতি বছরই দেখা যায় এই সময় নিত্যপণ্যে থেকে করে সাহরি ও ইফতারের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠা ফলমূল, খাবার ও প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তেই থাকে।

তবে এবার বেশ আগ থেকেই সতর্ক সরকার। রমজানে যাতে বাজার স্থিতিশীল থাকে সেজন্য নানা ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন, পুলিশ ও ভোক্তা অধিকারের অভিযানে বাজার স্থিতিশীল থাকবে না। তাই বাজার কমিটির ওপরই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দিতে চান তিনি।

রোববার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে টাউন হল বাজারে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। এ সময় ব্যবসায়ীরাও জানান, মধ্যস্বত্বভোগী, মিল মালিক ও পাইকারি পর্যায়ে দাম নিয়ন্ত্রণ করা গেলে খুচরা বাজার স্থিতিশীল থাকবে। বাজারে অভিযান না করে বাজার কমিটিকেই দায়িত্ব দেয়ার প্রস্তাব দেন ব্যবসায়ীরা।

এ সময় বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, উৎপাদনস্থলের ৫ টাকার লেবু কীভাবে ঢাকায় ১৫ টাকা হয়, তা বোধগম্য নয়। নানা হাত বদলে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এসব নিয়ে মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে। তবে রাতারাতি নয়, কয়েক মাসের মধ্যেই বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে।

রোববার রাত থেকে কারওয়ান বাজারসহ রাজধানীর বেশিরভাগ বাজারে তদারকির জন্য বিশেষ টিম নামবে একথা জানিয়ে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম কিছুটা দাম বাড়লেও কোনো পণ্যের সংকট নেই। পেঁয়াজের সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য সরকার কাজ করছে।

তিনি জানান, আগামী দুই এক দিনের মধ্যে ভারত থেকে পেঁয়াজ আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পণ্য মজুত আছে। কোনো ঘাটতি নেই। চালের বাজারের অস্থিরতা কমেছে। তেলের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। রমজান উপলক্ষে বাজারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ টিম থাকবে। মাংসের দামও ঠিক করে দেয়া হয়েছে।

মন্ত্রিসভার অনুমোদন নিয়ে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা করে আগামীতে পণ্যের দাম বেঁধে দেয়া হবে বলে জানান আহসানুল ইসলাম টিটু। সম্প্রতি আরব আমিরাত ঘুরে আসার অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশটিতে ১৮টি অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের রাষ্ট্রীয় সার্কুলার দিয়ে দিয়েছে, এই পণ্যগুলোর দাম কেউ এ মাসে (রমজান) বাড়াতে পারবে না। আমরা এবার হয়ত পারিনি। আগামী বছর থেকে হবে।

এর আগে সচিবালয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বাজার সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করছেন, কিন্তু বাজারে সেভাবে প্রভাব পড়ছে না- এ বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই যারা রোজার অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আমদানি ও উৎপাদন করেন তাদের সঙ্গে বসেছি। আমদানি এবং উৎপাদন পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে, এটা আমরা নিশ্চিত হয়েছি।