অনলাইন বুকিংয়ের আড়ালে এমএলএম ব্যবসা, হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা!

অতিথি ডটকম নামের একটি অনলাইন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে এমএলএম বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। একটি অ্যাপ রেজিস্ট্রেশনের নামে সারাদেশে প্রায় বিশ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। রাজধানীর পুলিশ প্লাজায় অফিস খুলে সন্দেহজনক এমন লেনদেন করছে প্রতিষ্ঠানটি। 

গুলশান পুলিশ প্লাজার টাওয়ার ওয়ান ভবনের আট তলার অফিসটি অতিথি ডটকমের। বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে হোটেল গাড়ি এমনটি বিমানের টিকিট বুকিং দেয়ার মাধ্যম এটি। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে অনলাইন বুকিংয়ের আড়ালে প্রতিষ্ঠানটি যুক্ত এমএলএম ব্যবসায়। 

গুগল প্লে স্টোরে গিয়ে দেখা যায় অতিথি ডটকমের অ্যাপটি ডাউনলোড করার পর আর এটির ভেতরে প্রবেশ করা যায় না। কারণ প্রবেশ করতে লাগবে রেজিস্ট্রেশন। রেজিস্ট্রেশন ও প্রতিষ্ঠানের এজেন্ট ট্রেনিংয়ের নামে দিতে হবে আড়াই হাজার টাকা। কিন্তু কেন? 

অতিথি ডটকমের মানব সম্পদ বিভাগের সৈয়দ মহিউদ্দিন বলেন, সিস্টেমটা এমএলএম না। এমএলএমের মতোই। ব্যবসার অনেক ধরন আছে।  

অতিথি ডটকমের এই কর্মকর্তা জানান মাত্র ছয় মাসের এই প্রতিষ্ঠানে এখন পর্যন্ত বিশ হাজার মানুষ এজেন্ট হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করেছে। যাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে নতুন এজেন্ট তৈরির কৌশল শেখানো হচ্ছে। একেকজন নতুন এজেন্ট যুক্ত করার জন্য মিলবে পাঁচশ' টাকা। এভাবে যে যত বেশি এজেন্ট নিয়োগ করাতে পারবে সে ততো বেশি টাকা পাবে। 

অতিথি ডটকমের জেনারেল ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম সোহাগ বলেন, এজেন্ট বানালে কমিশন আছে। যে ২৫০০ টাকা ট্রেনিং ফি আছে, সেখান থেকে পাঁচশ' টাকা কমিশন দেয়া হবে। 

অতিথি ডটকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এর আগে ডেসটিনির সাথে যুক্ত ছিলেন। জানা গেছে প্রতারণার মামলার আসামি মো. জামাল নামের একজনের পরিকল্পনায় নতুন করে তারা এই ব্যবসা শুরু করেন। যদিও আইনে বলা আছে ই কমার্স বা কোন ডিজিটাল মাধ্যমের আড়ালে এমএলএম ব্যবসা করা যাবে না। 

অতিথি ডটকমের এমডি সাইফুল ইসলাম সোহেল বলেন, ডেসটিনির মাঠ পর্যায়ে আমার কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছিলো। ওখানে আমি পিএসডি হিসেবে ছিলাম। কাজ করতে করতে আমার একটা অবস্থান তৈরি হয়েছিল।    

পুলিশ প্লাজার দায়িত্বরত কর্মকর্তা জানান এমএলএম ব্যবসা করবে জানলে এই প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দিত না পুলিশ প্লাজা কর্তৃপক্ষ। 

অতিরিক্ত ডিআইজি ড. শোয়েব রিয়াজ আলম বলেন, আমি আগে জানতাম না, আপনার থেকে শুনে এরইমধ্যে ওসির সাথে কথা বলেছি। ওসি লোক পাঠিয়ে চেক করবে। দরকার হলে অভিযোগও করা হবে। সত্যতা পেলে ওসি অবশ্যই আইনি অ্যাকশন নেবেন। 

পুলিশ প্লাজায় বেআইনি কোনো বাণিজ্যের সুযোগ নেই বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।