বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) বেঁধে দেয়া দরকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রায় ৯ টাকা বেশিতে ডলার কেনাবেচা করছে মানি এক্সচেঞ্জগুলো। তারা বলছে, বেশিতে কিনতে হচ্ছে বলেই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আর বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, মানি এক্সচেঞ্জগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা আছে এবং তা মেনেই ব্যবসা করতে হবে। তবে, মুদ্রাবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন বাফেদার ডলার রেট নির্ধারণেই গলদ আছে।
বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার অ্যাসোসিয়েশন বাফেদার নির্ধারিত দর হলো ডলার ক্রয় করতে হবে ১১৪ টাকা ৫০ পয়সায় আর বিক্রয় ১১৬ টাকায়।
কিন্তু বাফেদার দর না মেনে, মানি এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো ডলার কেনাবেচা হচ্ছে ৮ থেকে সাড়ে ৮ টাকা বেশিতে! তারা কিনছে ১২৩ টাকা পর্যন্ত আর বিক্রি করছে ১২৪ টাকায়।
মানি এক্সচেঞ্জগুলোর যুক্তি, বাফেদার বেধে দেয়া রেটে ডলার কিনতে পারছেন না তারা, তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মানা যাচ্ছে না।
স্ট্যান্ডার্ড মানি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান শরীফ হাসানুল বাহার তুষার বলেন, এই রেটের ওপর কোনো কিছু সম্ভব না। ব্যবসার চেয়ে এখন হয়রানিই বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বাফেদার মতো মানি এক্সচেঞ্জের জন্যও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা আছে এবং তা মেনেই তাদের ব্যাবসা করতে হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক বলেন, মানি এক্সচেঞ্জের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা আছে। বাফেদার যেমন আছে, বাফেদা কত টাকায় ক্রয় করবে, কত তাকায় বিক্রি করবে। আবার মানি এক্সচেঞ্জে যেহেতু তারা ক্যাশ ডিল করে, তাই একটা বেশি রেট নির্ধারণ করা আছে। সুতরাং ওই রেটের মধ্যেই তারা কেনাবেচা করে। আমাদের তথ্যে সেটাই আছে।
আর্থিক খাতের এই বিশ্লেষক মনে করেন, বাফেদার ডলার রেট নির্ধারণেই গলদ আছে। এটি হওয়া উচিত বাজারভিত্তিক।
ব্যাংক ও আর্থিক খাত বিশ্লেষক ফারুক মঈনউদ্দীন বলেন, প্রথম কথা বাফেদা কী ব্যবস্থা নেবে, কিংবা রেট নির্ধারণ করার ব্যাপারে বাফেদার কী আইনগত ভিত্তি আছে? আইনগত ভিত্তি না থাকলে বাফেদা কী ব্যবস্থা নেবে? যে রেট ঠিক করছে সেটা কীসের ভিত্তিতে ঠিক করছে?
তিনি আরও বলেন, আমরা জানি, ডলার কিংবা সুদের হার, যায় হোক না কেন এটা বাজার নির্ধারণ করবে। কোনো প্রতিষ্ঠান কিংবা সংগঠন ঠিক করে দেবে, সেটা আসলে অর্থনীতির সাথে যায় না। সুতরাং ব্যবস্থা নেয়ার কোনো আইনগত ভিত্তি তাদের নেই।
আর্থিক খাতের এই বিশ্লেষক বলেন, শুধু মানি এক্সচেঞ্জ নয় বাফেদার রেট মানছে না অনেক ব্যাংকও। তবে বাফেদার কেউ এ নিয়ে বক্তব্য দিতে চান না।
উন্নয়ন বরাদ্দ কমলো ১৮ হাজার কোটি টাকা
পণ্যের স্বল্পতা নেই, দামে স্বস্তি আনার চেষ্টা হচ্ছে: টিটু