সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও ঊর্ধ্বমুখী মসলার বাজার

কোরবানির ঈদের আগে অস্থির চট্টগ্রামের মসলার বাজার। সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও বেড়েছে প্রায় সব ধরনের মসলার দাম।

পাইকারি বাজারে লাগামছাড়া এলাচের দাম। কেজি প্রতি বেড়েছে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত। বেড়েছে দারুচিনি-জিরা-হলুদের দামও। চীনা আদার দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ৩০ টাকা। স্থির নেই পেঁয়াজের বাজারও। মসলার এ মূল্যবৃদ্ধির পেছনে ডলারের দাম বৃদ্ধিকেই যুক্তি হিসেবে দেখাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের মসলার মোকামগুলো ভর্তি নানা রকম মসলা পণ্যে। সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও এর কোনো প্রভাব নেই পণ্যের দামে।

পাইকারি বাজারে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে এলাচের দাম। ২৫০০ টাকার এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৩২০০ টাকায়। সবচেয়ে ভালো মানের এলাচের দাম আরো বেশি, ৩৯০০ টাকা কেজি। জিরা আর দারুচিনির দামও বেড়েছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা।

পেঁয়াজ-আদা-রসুন-হলুদের বাজারেও স্বস্তি নেই। এক সপ্তাহে চীনা আদার দাম বেড়েছে কেজিতে ৩০ টাকা। দেশি আর ভারতীয় পেঁয়াজের দামও পাইকারিতে পাঁচ টাকা বেড়ে গেছে। আর হলুদের দাম বেড়েছে ৩০

ব্যবসায়ীদের দাবি, ডলারের দাম বেড়ে যাওয়া ও এলসি খোলায় জটিলতার কারণেই মশলার দাম বেড়ে গেছে। তবে নিয়মিত বাজার তদারকি হলে এত দাম বাড়তো না বলেও মনে করেন কোন কোন ব্যবসায়ী।

খাতুনগঞ্জ আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ জাহেদী বলেন, এলাচের দাম টন প্রতি যেখানে ১২ থেকে ১৩ হাজার ডলার ছিলো, তা বেড়ে এখন ৩০ হাজার ডলার হয়েছে। এলাচের দাম সে কারণে বেড়েছে।

খাতুনগঞ্জ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাবেক সহসভাপতি সোলায়মান বাদশা বলেন, জেলা পরিষদ মনিটরিং সেল যেসব আছে তারা যদি বাজার মনিটরিং জোরদার করে তাহলে বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

জানুয়ারি থেকে গত পাঁচ মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে লবঙ্গ-এলাচ-জিরা-গোলমরিচ আমদানি হয়েছে এক লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন। যেখানে পুরো গত বছর আমদানির পরিমাণ ছিলো এক লাখ ৮২ হাজার মেট্রিকটন।