গাজীর কারখানায় আগুন, অস্থির টায়ার বাজার

সম্প্রতি পুড়ে যাওয়া গাজী টায়ারসের উৎপাদন বন্ধ থাকায় অস্বাভাবিক হচ্ছে টায়ারের বাজার। দেশের রিকশা, হালকা যানসহ বিভিন্ন যানের টায়ার বাজারে ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশই নিয়ন্ত্রণ করতো গাজী টায়ারস। প্রায় দুই হাজার মানুষ কাজ করতেন এই কারখানায়। এই মুহূর্তে তাদের জীবন-জীবিকাও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তাই দেশি শিল্প ও শ্রমিকদের রক্ষায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্যোগ আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

গাজী টায়ারসের পুড়ে যাওয়া কারখানায় উৎপাদন হতো রিকশা, ভ্যান, সিএনজিসহ থ্রি-হুইলার, বাস, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানসহ সব ধরনের গাড়ির টায়ার ও টিউব।

কারখানাটিতে বছরে সাইকেল-ভ্যানসহ টায়ারের উৎপাদন হতো ২৫ লাখ পিস। দেশের বাজারে ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশই ছিলো গাজী টায়ারসের নিয়ন্ত্রণে।

গাজী টায়ারস বাস-ট্রাক ও মোটরসাইকেলের টায়ার উৎপাদন করতো বছরে ১৫ থেকে ১৬ লাখ পিস। যা ছিলো মোট চাহিদার ১৫ শতাংশ।

Gazi 4

বাংলাদেশের সিএনজিতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় গাজী টায়ার। যার দাম ভারত থেকে আমদানি করা টায়ারের চেয়ে কম।

গাজী টায়ারসের বড় কাভার্ড ভ্যানের টায়ারের দাম ২৩ হাজার ৫০০ টাকা, আমদানি করা একই মানের টায়ারের দাম পড়ে ৩১ হাজার ৫০০ টাকা।

গাজীর মাঝারি ও ছোট কাভার্ড ভ্যানের টায়ারের দাম ২০ হাজার ৩০০ ও ১৩ হাজার ৯০০ টাকা। আমদানিতে একই মানের টায়ারের দাম পড়ে ২৮ হাজার ৫০০ ও ১৮ হাজার ২০০ টাকা।

এছাড়া গাজী টায়ারসের বাসের টায়ার বিক্রি হয় ১৭ হাজার ৬০০ টাকায়, আমদানিতে লাগে ২০ হাজার ৮০০ টাকা।

gazi

এছাড়া গাজীর মোটরসাইকেলের টায়ার বিক্রি হয় ১৮০০ টাকায় যা আমদানিতে লাগে ৩২০০ টাকা। সিএনজির আমদানি করা টায়ারের দাম পড়ে ২৬০০ টাকা, গাজীর টায়ার পাওয়া যায় ১৮০০ টাকায়।

ব্যবসায়ীরা জানান, দেশে সব ধরনের যানের সবচেয়ে বেশি টায়ার সরবরাহ করতো গাজী টায়ারস। এখন গাজী টায়ারসের সাপ্লাই না থাকায় দেশী ও বিদেশি টায়ার কোম্পানিগুলো কয়েক দফায় দাম বাড়িয়েছে।

সম্প্রতি গাজী টায়ারসের পুড়ে যাওয়া কারখানাটিতে কাজ করতো প্রায় দুই হাজার মানুষ। কারখানাটির বার্ষিক টার্নওভার ছিলো ৪৫০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার। সরকার এখান থেকে ভ্যাট ও শুল্কসহ রাজস্ব পেতো প্রায় ১০০ কোটি টাকা।

গাজী টায়ারসের কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম জানান, রিকশা, ভ্যান ও সাইকেলের ২৪ থেকে ২৫ লাখ টায়ার তারা তৈরি করেন। এবার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো ২৭ লাখ পিসের।

gazi-tayar1

এ অবস্থা দেশীয় শিল্প ও কর্মসংস্থান রক্ষায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দেন ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস্ ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স এসোসিয়েশনের (বারভিডা) সাবেক সভাপতি আব্দুল হক বলেন, এখন আমাদের বেশি টাকা দিয়ে বিদেশ থেকে টায়ার আমদানি করতে হবে। যারা চাকরি করতেন, তাদেরও চাকরি চলে গেলো। তাছাড়া সরকার যে রাজস্ব ও ভ্যাট পেতো তা পাবে না। ব্যাংক যে টাকা বিনিয়োগ করেছে, তাও কিন্তু ফেরত পাবে না। অর্থ্যাৎ সব কিছুতেই লস হলো।

গত ২৫ আগস্ট বিকেলে রূপগঞ্জের রূপসী এলাকায় গাজী টায়ারস কারখানায় লুটপাট শুরু হয়। রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে কারখানাটিতে আগুন দেওয়া হয়।

পরে ফায়ার সার্ভিসের ১২ ইউনিট ২১ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ভবন থেকে ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।

ঘটনার পরদিন ১৭৫ জন  নিখোঁজ রয়েছে বলে স্বজনরা দাবি করে। তবে ১৩৫ জনের একটি নিখোঁজ তালিকা উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা করেছেন।