পণ্যের দাম একবার বাড়লে আর কমে না, সেটা চলবে না: বাণিজ্য উপদেষ্টা

বাংলাদেশে পণ্যের দাম একবার বাড়লে আর কমে না- এই ব্যবস্থা আর চলবে না বলে মন্তব্য করেছে অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দেশের পোল্ট্রি খাত সংশ্লিষ্টদের সাথে মতবিনিময় শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, বাজারে জিনিসপত্রের দাম একদম হতাশাব্যাঞ্জক না। লোকজনের জন্য বাজার যেন আরো সুখকর হয় তার জন্য কাজ করছি।

উপদেষ্টা বলেন, নিত্যপণ্যের দাম কমানোর জন্য উৎপাদন খরচ ছাড়াও অন্যান্য ফ্যাক্টর থাকে। বাংলাদেশে কোন জিনিসের দাম বাড়লে সহজে কমতে চায় না, সময় লাগে।

এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ডিম ও মাংস উৎপাদনকারীদের বিদ্যমান সমস্যা ও সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উৎপাদক থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত দামের বিরাট ব্যবধান থাকবে না। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা রয়েছে আমরা বলেছি সেগুলো দেখবো।ট্যাক্স ও ট্যারিফ এর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উৎপাদক পর্যায়ে ১৮৫ টাকার সোনালি মুরগী ঢাকায় ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এমন বিষয়ে উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর এখন থেকে নিয়মিত পণ্যের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করে দিবে। ভোক্তা অধিকার ও প্রতিযোগিতা কমিশন বাজার মনিটরিং করবে। উৎপাদনকারীরা বলেছেন তারা উৎপাদন বাড়াবেন। আবার বিপণনেরও কিছু মিস ম্যানেজমেন্ট রয়েছে সেটা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

জ্বালানি তেলের দাম ইতোমধ্যে কমেছে উল্লেখ করে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ব্যবসায়ীদের বলেছি পরিবহন ব্যয় কমবে-অন্যান্য ব্যয়ও কমবে সেটা আপনাদের উৎপাদিত পণ্যে রিফ্লেক্ট করেন। বাংলাদেশে পণ্যের দাম একবার বাড়লে আর কমে না সেটা চলবে না।

ডিম ও পোল্ট্রি খাতের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে কী করেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মানুষ চেষ্টা করবে একটু বেশি দামে বিক্রি করতে। অনেকেই ইল মাছের মত পিছলে যেতে চেষ্টা করবে। কিন্তু এখন আর সিন্ডিকেট করে ব্যবসা করা যাবে না। ডিমের দাম যা আছে সেখান থেকে আরও কমবে শিগগিরই। কারণ জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। এতে পরিবহন খরচও কমেছে।

এসময় বাণিজ্য সচিব মোহা. সেলিম উদ্দিন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দর, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী, বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মইনুল খান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ. এইচ. এম. সফিকুজ্জামান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. রেয়াজুল হকসহ দেশের পোল্ট্রি খাতের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।