মৌসুমের শেষ পর্যায়ে আলুর সংকটকে পুঁজি করে সর্বোচ্চ মুনাফা আদায়ের খেলায় নেমেছে মুন্সিগঞ্জের হিমাগার কেন্দ্রিক ব্যসায়ীরা। ৪০ টাকার আলু হিমাগারেই দফায় দফায় হাতবদলে দাম উঠছে সর্বোচ্চ ৬০ টাকা। ফলে বাজারে গিয়ে আরেক দফা বেড়ে ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে আলু। হিমাগার কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, গুটিকয় মজুতদারের কারসাজিতেই এখন জিম্মি আলুর বাজার।
গেলো মার্চ এপ্রিলে আলুর বীজ রোপণের পর ভারি বৃষ্টিতে নষ্ট হয় বীজতলা। ফলে বিক্রির জন্য রাখা বিপুল আলু এবার ব্যবহার হয় বীজ হিসেবে। উৎপাদনও কমে যায় তিন ভাগের দুই ভাগ। উৎপাদন ঘাটতি আর বীজ হিসেবে আলু খরচ হয়ে যাওয়াতেই এবার বাজারে আলুর সংকট।
কিন্তু এই সংকটই যেন লটারি হয়ে উঠেছে ব্যাপারীদের কাছে। হিমাগারে থাকা আলুই হাত বদল হচ্ছে কয়েক দফা। লাভের অঙ্ক যোগ করে এক ব্যাপারি আলু বিক্রি করছেন আরেক ব্যাপারির কাছে। অর্থাৎ কোল্ড স্টোরেজেই হাত বদল হয়ে বাড়ছে আলুর দাম।
মুন্সিগঞ্জের আলু চাষি শাহজালাল জানান, চলতি বছরের লোকসান আর উৎপাদন খরচ বাড়তি থাকাসহ আলুর সর্বোচ্চ দাম হতে পারে ১৫০০ টাকা মণ। সেটি যে পর্যায় পৌঁছেছে তা মাত্রাতিরিক্ত।
কৃষক পর্যায় এ বছর গড়ে আলু কেনা হয়েছে ১৭৫০ টাকা ৫০ কেজির বস্তা। এর সাথে হিমাগার ভাড়া যুক্ত হচ্ছে ২৪০ টাকা। শ্রমিক ও পরিবহনসহ বস্তাপ্রতি সর্বোচ্চ খরচ ৬০ টাকা। সবমিলে বস্তা প্রতি দাম হতে পারে সর্বোচ্চ ২০০০ টাকা। অর্থাৎ কেজি প্রতি ৪০ টাকা। অথচ এখন হিমাগারেই কেজি প্রতি দাম দাঁড়াচ্ছে ৫৮ থেকে ৬০ টাকা। সংকটের সুযোগে কেজিতে ২০ টাকা লাভ করছেন হিমাগার কেন্দ্রিক ব্যাপারীরা।
যদিও বাড়তি এ লাভকে স্রষ্টার আশীর্বাদ হিসাবে দেখছেন ব্যাপারীরা।
গেলো মার্চে মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সাথে বৈঠকে এবার আলুর সর্বোচ্চ দাম ৪৩ টাকা বলে দাবি করেছিলেন জেলার ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা। সেই ওয়াদা ভুলে এখন তারাও অনৈতিক এমন মুনাফাকে বরং অধিকার হিসেবেই দেখছেন।
মুন্সিগঞ্জ জেলা আলু চাষি ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, মালের দাম বাড়ে কখন? চাহিদা যখন বেশি হয় তখনই দাম বাড়ে। আমরা চাহিদা অনুযায়ী সাপ্লাই দিতে পারছি না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হিমাগার কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, গুটিকয় মজুদদারের কারসাজিতেই জিম্মি আলুর বাজার।
বাজারে নতুন মৌসুমের আলু আসার আগে এই সংকট কাটছে না। কেননা কোল্ডস্টোরগুলোতে এখন বেশিরভাগ আলুই বীজ হিসেবে সংরক্ষিত।