কোরবানির চামড়া বাণিজ্যে এক অপ্রতিরোধ্য সিন্ডিকেট আছে ট্যানার্স এসোসিয়েশনের ভেতরে। পতিত সরকার আমলে শক্তিশালী হওয়া সিন্ডিকেটটি ভাঙতে পারলো না অন্তর্বর্তী সরকারও। ফলে এবারও কাঁচা চামড়ার ব্যাপক দরপতন হয়েছে। বঞ্চিত হচ্ছেন লাখ লাখ দুস্থ, অসহায় ও অসচ্ছল মানুষ।
সবশেষ ২০১৪ সালে রমরমা ছিলো কোরবানির পশুর চামড়ার বাজার। সেবার একটি বড় চামড়া বিক্রি হয় চার হাজার টাকারও বেশি দামে। গত এক দশকে সবকিছুর দাম বেড়েছে বহুগুণ। কিন্তু চামড়ার দাম না বেড়ে উল্টো কমেছে। বাজারে দ্বিতীয় কোনো পণ্য পাওয়া যাবে না, যেটির দাম এভাবে কমেছে। আর এতে সাময়িক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। আর দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত এতিম, দুস্থ ও অসচ্ছল মানুষ।
চামড়ার দাম পরিকল্পিতভাবে কমানো শুরু হয় ২০১৫ সাল থেকে। দাম নির্ধারণে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সমন্বয়ের পরিবর্তে চালকের আসনে বসে সরকার। এতে ভারসাম্য হারায় বাজার।
হাইড এন্ড স্কিন মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি সট টিপু সুলতান বলেন, ২০১৫ সালের পর থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ট্যারিফ কমিশন দাম সমন্বয় করে রেট দিয়ে দেয়। কিন্তু এর ভেতর সমন্বয় না থাকলে এই সমস্যা হবেই।
আড়তদারদের দাবি, সরকার নির্ধারিত মূল্য অনুসরণ করেই ট্যানারিতে চামড়া বিক্রি করতে হয় তাদের। মূল্য সংযোজন ও রপ্তানি প্রণোদনা ও ডলার আয়ের সুযোগ দুটোই ট্যানারির হাতে। তারাই প্রকৃত লাভবান। ট্যানারি মালিকদের ব্যাংক ঋণ সুবিধাও দেয়া হচ্ছে ধারাবাহিকভাবেই।
মানুষের ক্ষোভ সামাল দিতে চামড়ার দাম বাড়ানো শুরু করে পতিত সরকারই। তারই ধারাবাহিকতায় এবারও বাড়ানো হয় দাম। বেধে দেয়া হয় সর্বনিম্ন দাম, কিন্তু বাজারে কোনো প্রভাব নেই। বহুবছর পর এবার কাঁচা চামড়া বা ওয়েট ব্লু করে রপ্তানির অনুমতি দেয়া হলেও তার বিরোধিতা করছে ট্যানার্স এসোসিয়েশন।
ট্যানার্স এসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সট সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, কাঁচা চামড়া রপ্তানি করলে স্থানীয় শিল্প কীভাবে চলবে? সেক্ষেত্রে আরও যাচাইবাছাই করা উচিত ছিলো। আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার দাম কম। ট্যানারিগুলো কমপ্লাইন্স হলে এ দুরবস্থা হতো না।
প্রতিবেশি দেশ ভারতে বাংলাদেশের চামড়ার চাহিদা ব্যাপক। ট্যানারদের চাপে দেশটিতে চামড়া যাওয়া ঠেকাতে তৎপর থাকের আইনশৃঙ্খলা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী। শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এসবের নিয়ন্ত্রক ট্যানারদের সিন্ডিকেট। ২০১৩ সাল থেকে একই ব্যক্তি ট্যানার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি। বাকি শীর্ষ পদগুলোতেও ঘুরেফিরে কজন। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সব বড় ব্যবসায়ী সংগঠনে পরিবর্তন এলেও এখানে নেতৃত্ব যেন অপ্রতিরোধ্যে।