মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে গেল ফেব্রুয়ারি থেকেই পুরো বিশ্বে বিরাজ করছে অস্থিরতা। এর প্রভাব পড়েছে আকাশপথে বিমান চলাচলেও। নিরাপত্তা শঙ্কা ও জ্বালানি সংবরাহ ব্যাহত হওয়ায় আকাশচুম্বী হয়েছে জ্বালানির দাম। যার ফলে, চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে দুবাইয়ের বিমান সংস্থা এমিরেটস এয়ারলাইনের নিট মুনাফা কমেছে ৬৬ শতাংশ। বছরের প্রথম ছয় মাসে সংস্থাটির নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৩.৩ বিলিয়ন দিরহাম বা ৯০৩ মিলিয়ন ডলারে।
সংস্থাটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে তাদের মোট রাজস্ব ১৩ শতাংশ কমে ৫৬.৯ বিলিয়ন দিরহামে দাঁড়িয়েছে। যদিও, কার্গো ব্যবসার শক্তিশালী অবস্থান ও বিভিন্ন বাজারে টেকসই ভ্রমণ চাহিদার কারণে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে এমিরেটস।
কার্যক্রম ও যাত্রী সংখ্যায় প্রভাব
মূলত, যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট আকাশপথের নিষেধাজ্ঞা, ফ্লাইট বিলম্ব, বাতিল এবং পথ পরিবর্তনের ফলে বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এর প্রভাব পড়েছে সরাসরি যাত্রী পরিবহনেও। বছরের প্রথমার্ধে এমিরেটস মোট ২ কোটি ১৮ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ কম। এছাড়া, উড়োজাহাজগুলোর আসন পূর্ণ থাকার হার বা সিট ফ্যাক্টর ৭৯.৫ শতাংশ থেকে নেমেছে ৭২ শতাংশে।
জ্বালানির উচ্চমূল্য ও ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ
যুদ্ধের প্রভাবে জেট ফুয়েলের দাম যুদ্ধ-পূর্ববর্তী স্তরের প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছে গেছে। ফলে, হেজিং থেকে প্রাপ্ত লাভ বাদে জ্বালানি খরচ গত বছরের তুলনায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে, জ্বালানি মূল্যের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কৌশল থেকে অর্জিত ৭.১ বিলিয়ন দিরহামের মুনাফা ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।
সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ এমিরেটস তাদের নেটওয়ার্কের ৯১ শতাংশ জুড়েই কার্যক্রম পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। সংকট মোকাবিলায় নিজেদের শক্তিশালী নগদ অবস্থান (৫৪.১ বিলিয়ন দিরহাম) এবং সংরক্ষিত তহবিলের ওপর ভরসা রাখছে প্রতিষ্ঠানটি।