চড়া মূল্যস্ফীতি ও কম মজুরিতে সবচেয়ে বেশি চাপে পোশাক শ্রমিকরা

সাড়ে চার বছরের চড়া মূল্যস্ফীতি আর কম বেতন বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি চাপে পোশাক শ্রমিকরা। একই বিপদে অন্যখাতের কর্মীও। ফলে, নতুন মজুরি বৃদ্ধির আলোচনায়, বিষয়টি আমলে রাখার পরামর্শ তাদের। শুধু তাই নয়, সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা, পরিবহন, বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য খাতেও চান বাড়তি নজরদারি। বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু মজুরি বাড়ানোই সমাধান নয়। বরং সমান্তরালে গুরুত্ব দিতে হবে সার্বিক ব্যবস্থাপনায়। 
 
পোশাক শ্রমিক পারুল সপরিবারে থাকেন রামপুরা হাজিপাড়া এলাকায়। গার্মেন্টসে কাজ শুরুর ২৫ বছরে এসে তার মাসিক মূল বেতন দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৯শ টাকায়। এতে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি জীবনমানে। কেননা, আয়ের প্রায় পুরোটাই চলে যাচ্ছে ঘরভাড়া আর ওষুধের পেছনে। ফলে ছুটিরদিনের খাবারেও ভরসা চাষের কই মাছ।
 
শুধু পোশাক কর্মী পারুল নয়, চাহিদা থাকলেও মাছ-মাংসসহ আমিষ কেনার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলছেন দেশের বড় জনগোষ্ঠী। বাজারে সেই ছাপ স্পষ্ট। এমন পরিস্থিতির মূলে রয়েছে চড়া মূল্যস্ফীতি।
 
বিবিএসের হিসাবে, বর্তমানে সার্বিক মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৮ শতাংশের কাছাকাছি। বিপরীতে মজুরি বৃদ্ধির হার কম। তবে বাস্তব পরিস্থিতি আরও কঠিন। 
 
বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক বলেন, পোর্ট ঠিক না থাকলে ইকোনমিতে কস্ট বেড়ে যায়। বিদ্যুৎ ঠিক না থাকলে ইকোনমিতে কস্ট বেড়ে যায়। গ্যাস ঠিক না থাকলে ইকোনমিতে কস্ট বেড়ে যায়। সুতরাং ডিসেম্বরের মধ্যে ইকোনমিকে এক ধরনের পুশ করতে হবে। এবং এই পুশ করার দুটো বুদ্ধি, একটা হচ্ছে প্রাইভেট সেক্টরকে পুশ করা, আরেকটা হচ্ছে গভমেন্ট নিজে তার অক্টিভিটি বাড়ানো।
 
নিত্যপণ্যের চড়া দামের পেছনে রয়েছে স্থানীয় উৎপাদনে বাড়তি খরচ, আমদানিতে উচ্চ শুল্ক আর পরিবহন ও বাজারের অব্যবস্থাপনা।