মাতারবাড়ি তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্র বন্দর। এই বন্দরকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়িকে হংকং এর মতো শহরে পরিণত করা হবে; জানালেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।
নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী আশা করছেন, জ্বালানি তেল বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এই বন্দর এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। প্রতিবেশী দেশগুলোর পণ্য আনা নেয়ার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পণ্য নিয়ে আসা যে কোন বড় জাহাজকেই গভীর সমুদ্রে অপেক্ষায় থাকতে হয়। কারণ মাদার ভেসেল নামে পরিচিত এসব বড় জাহাজ বন্দর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। তাই ছোট ছোট জাহাজে পণ্য খালাস করে বন্দরে আনতে হয়।
বন্দরে কন্টেইনার জটের কারণে অনেক সময় বড় জাহাজকে গভীর সমুদ্রে দিনের পর দিন অপেক্ষায় থাকতে হয়। এতে বেড়ে যায় জাহাজ খরচ। আর সেই বাড়তি খরচ যুক্ত হয় পণ্যের দামে। খরচ বাড়ার কারণে হোঁচট খেতে হয় অনেক উদ্যোক্তাকে।
এই সঙ্কটের সমাধান দিতে যাচ্ছে মাতারবাড়ির একমাত্র গভীর সমুদ্র বন্দর। এখানে থাকা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা আমদানিকে কেন্দ্র করেই মূলত এই বন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে সরকার। এই বন্দরকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়িকে হংকংয়ের মতো শহরে পরিণত করার স্বপ্ন দেখছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।
তিনি জানান, এই ধরনের পোর্ট পুরো অর্থনীতিকে চাঙা করে দিতে পারে। আমাদের জিডিপিতে প্রায় ১ শতাংশ যোগ হবে এখানে থেকে।
এই জেটির কাছেই ধলঘাটে প্রায় ১ হাজার ৩১ একর এলাকাজুড়ে নির্মাণ করা হচ্ছে গভীর সমুদ্র বন্দর। এই বন্দর জ্বালানি তেল বাণিজ্যেও অবদান রাখবে।
নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, তেল বাণিজ্যে যাতে এ বন্দরটা ব্যবহার করা যায়- আমরা সে প্রস্তাব পেয়েছি।
এই সমুদ্র বন্দর পাল্টে দিতে পারে দেশের অর্থনীতির চিত্র। আর ভূ-রাজনৈতিক কারণে প্রতিবেশী দেশগুলোর পণ্য আনা নেয়ার ক্ষেত্রেও অন্যতম এক হাবে পরিণত হতে পারে বন্দরটি।
অর্থনীতিবিদ খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, নেপাল হয়ে ভুটানেরও পণ্য পরিবহন, ভারত উত্তর অঞ্চলের রাজ্যগুলোর পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি চীনের পণ্যও পরিবহন করা যেতে পারে এই বন্দরে।
নির্ধারিত সময়ে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় কাজ শেষ করতে পারলে ২০২৬ সালের মধ্যেই পূর্নাঙ্গ রূপ পাবে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর।