অপেক্ষার পালা শেষ! এখন থেকে ট্রেনে চড়ে যাওয়া যাবে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে। শনিবার সকালে বহুল অপেক্ষার ১০২ কিলোমিটার দীর্ঘ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে দেশের পর্যটন কেন্দ্রের সঙ্গে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের মধ্যে রেল যোগাযোগ স্থাপন হবে। তবে উদ্বোধনের পর ১ ডিসেম্বর থেকে এই রুটে শুরু হবে বাণিজ্যিক ট্রেন চলাচল।
চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে পর্যটন নগরী কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথ সরকারের অগ্রাধিকার একটি প্রকল্প। শনিবার সকাল ১১টার সময় নতুন নির্মিত দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন এবং কক্সবাজারে দেশের প্রথম আইকনিক রেলস্টেশন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এরপর সেখানে সুধীজনদের সাথে মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প ও গভীর সমুদ্রবন্দরসহ ১৪টি প্রকল্প উদ্বোধন করবেন তিনি। পরে মাতারবাড়িতে জনসভায় ভাষণ দেবেন। ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে যুক্ত হবে।

নতুন রেলপথের অর্থায়ন:
• ২০১০ সালে ১ হাজার ৮৫২ কোটি টাকার প্রকল্পটি প্রথম অনুমোদন।
• ট্রান্স এশীয় রেলপথের সঙ্গে সংযুক্ত হতে ব্রডগেজ রেলপথ করতে প্রকল্প সংশোধন করা হয় ২০১৬ সালের ১৯ এপ্রিল।
• জমি অধিগ্রহণসহ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ১৬ হাজার ১৮২ কোটি টাকা।
• চট্টগ্রামে দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০.৮৩১ কিলোমিটার এবং রামু হতে মিয়ানমারের কাছে গুমধুম সীমান্ত পর্যন্ত আরো ২৮.৭৫২ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করা হয়।
• এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ব্যয় দাঁড়ায় ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।
• চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (সিআরইসি) ও দেশীয় তমা কনস্ট্রাকশন কোম্পানি এবং চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি) ও দেশীয় ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড পৃথক দুই লটের কার্যাদেশ পায়।
• ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল শেখ হাসিনা তার সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

রেলপথ নির্মাণ এবং উন্নয়ন
• এ রেলপথ সিঙ্গেল লাইন ডুয়ালগেজ। মিটারগেজ ও ব্রডগেজ দুই ধরনের ট্রেন চলতে পারবে।
• দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইনের আওতায় ৩৯টি বড় আকারের সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।
• দোহাজারী থেকে চকরিয়া এবং চকরিয়া থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথে ৩৯টি ব্রিজ ও আন্ডারপাসসহ ২৫১টি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে।
• বিভিন্ন শ্রেণির ১৪৪টি লেভেলক্রসিং নির্মাণ করা হয়েছে।
• হাতিসহ বন্য প্রাণি চলাচলের জন্য আলাদা আন্ডারপাস করা হয়েছে। 
রেলস্টেশন
• কক্সবাজারে তৈরি হয়েছে ঝিনুকের আদলে ছয়তলা আইকনিক দৃষ্টিনন্দন রেলস্টেশন। এটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২১৫ কোটি টাকা।
• দোহাজারী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, হারবাং, চকরিয়া, ডুলাহাজরা, ইসলামাবাদ এবং রামু রেলস্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে।
• এসব স্টেশনে রয়েছে কম্পিউটার বেইজড ইন্টারলক সিগন্যাল সিস্টেম এবং ডিজিটাল টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেম।
রেল চলাচল
• প্রথমে চট্টগ্রাম থেকে দুই জোড়া এবং ঢাকা থেকে এক জোড়া ট্রেন আসা-যাওয়া করবে। তিনটি ট্রেনই আন্তঃনগর।
• ঢাকা থেকে যে ট্রেনটি কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছাড়বে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে। আর কক্সবাজারে পৌঁছাবে ৬টা ৩০ মিনিটে। পর্যায়ক্রমে এই রুটে আরও ট্রেন বাড়বে।
রেল ভাড়া
• আগামী ১ ডিসেম্বর হতে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে বাণিজ্যিক ভাবে চালু হচ্ছে ট্রেন। পাশাপাশি কমিউটার ও মেইল ট্রেনও চালু হবে।
• সর্বনিম্ন ভাড়া নন এসি মেইল ট্রেন ১৮৮ টাকা। সর্বোচ্চ ভাড়া এসি বার্থে ১ হাজার ৭২৫ টাকা।
বিজয় সরণিতে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী