বুকের দুধ খাইয়ে নবজাতক নিয়ে পালান নারী, পরে উদ্ধার

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড থেকে তিন দিন বয়সী নবজাতক চুরির পর তাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

শনিবার দিবাগত রাতে রাজধানী কামরাঙ্গীচরে অভিযান চালিয়ে শিশুটি উদ্ধার ও সরাসরি চুরির ঘটনায় জড়িত নারী নুসরাত তার স্বামীসহ চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

রোববার দুপুরে রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন।

পুলিশ জানায়, গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢামেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রাজমিস্ত্রি হিরণ মিয়া ও সাহানা বেগম দম্পতির পুত্র শিশুর জন্ম হয়। সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হওয়ায় বুকের দুধ পান করাতে পারছিলেন না মা সাহানা। 

একই সময় পাশের ওয়ার্ডে ছিলেন নুসরাত নামে এক নারী। নুসরাতের শিশু ঢামেক কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি ছিল। এসময় হিরণ মিয়া ও সাহানা বেগম দম্পতির নবজাতককে দুধ পান করাতে এগিয়ে আসেন নুসরাত। আর এরই ফাঁকে গত বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) নিজের শিশুকে আইসিইউতে রেখে নবজাতকটি নিয়ে পালিয়ে যান তিনি। 

পুলিশ জানায়, সিসিটিভির ফুটেজ পর্যালোচনা, সোর্স নিয়োগ, বিভিন্নভাবে ছদ্মবেশে তদন্ত করে জানা যায়, নুসরাত নামে ওই নারী শিশুটি নিয়ে পালিয়েছেন। নিশ্চিত হওয়ার পর শনিবার রাতে কামরাঙ্গীচর থানার সহযোগিতা নিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে চুরি যাওয়া নবজাতক আব্দুল্লাহকে উদ্ধার করা হয়। 

শাহবাগ থানার বাবুপুরা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) দেলোয়ার হোসেন বলেন, নবজাতক চুরির সংবাদ শুনে হাসপাতালে গিয়ে কথাবার্তা বলার সময়েই আমার সন্দেহ হয়ে ছিল ওই নারীর ওপর। এ সন্দেহ শুধু আমার নয়, শিশুটির মা, দাদিসহ পরিবারের। বিষয়টি ওই নারীকে বুঝতে না দিয়ে ছদ্মবেশে তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও তার  বাসায় আশপাশে সোর্স লাগানো হয়। 

শিশুটিকে তার মা বাবার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল থেকে এভাবে টানা-হেঁচড়ায় শিশুটি কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বর্তমানে গাইনি ওয়ার্ডে সে মায়ের কাছে রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।

শিশুটির বাবা হিরণ মিয়া বলেন, দুধ খাওয়ানো সেই নারী তার স্বামী, শাশুড়ি ও ননদ গোটা পরিবারই বাচ্চা চুরি ঘটনায় জড়িত ছিলেন।