ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বন্ধ থাকার প্রায় তিন ঘণ্টা পর পুনরায় জরুরি সেবা চালু হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের আশ্বাসে চিকিৎসকেরা কাজে ফিরলে রাত ১০টা ১৫ মিনিটে হাসপাতালের গেট পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে সার্জারি বিভাগের ডিন অধ্যাপক ডা. নাদিম আহম্মেদকে প্রধান করে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী শনিবারের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
হাসপাতাল ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। চিকিৎসক তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র দিলেও উল্লিখিত ওষুধটি হাসপাতালের সরবরাহে ছিলো না। চিকিৎসক তাকে ওষুধটি বাইরে থেকে কিনে আনতে বললে ওই শিক্ষার্থী কয়েকজন সহপাঠীকে নিয়ে হাসপাতালে ফিরে আসেন এবং ওষুধ না পাওয়ার ইস্যুতে চিকিৎসকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। এর পরপরই নিরাপত্তার কথা জানিয়ে চিকিৎসকেরা জরুরি সেবা বন্ধ করে দেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালের জরুরি গেটে অবস্থান নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেখে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আলটিমেটাম দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। পরবর্তীতে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের আশ্বাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ঢাবি শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে ফেরত পাঠালে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে হাসপাতালের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং রোগীরা চিকিৎসা নিতে পারছেন।
