ভোটের সময় সকল রাজনৈতিক দলগুলো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ভোট ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করলেও তাদের নিরাপত্তা দিতে বারবারই ব্যর্থ হয়েছে। তাই সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনরা।
এডিটরস গিল্ড আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় তারা বলেন, এজন্য দরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছার।
শনিবার রাজধানীতে ‘অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রশ্ন’ শীর্ষক ওই গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে সম্পাদকদের শীর্ষ সংগঠন এডিটসর গিল্ড।
সেখানে বক্তারা বলেন, ভোটের সময় সকল রাজনৈতিক দলই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে তাদের ভোট ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করে আসলেও এই সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে সবাই। তাই ভোট এলেই আতঙ্ক বাড়ে সংখ্যালঘু মানুষের।
আলোচনায় অংশ নিয়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট জেড আই খান বলেন, সংখ্যালঘু বলতে আমরা হিন্দুদের বুঝি। সরাসরি বলছি, নির্বাচন এলেই তাদের জন্য আতঙ্কের বিষয়। ভোট দিলেও দোষ। না দিলেও তারা টার্গেট।
ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, বাংলাদেশে রাজনীতির কত গভীরে প্রোথিত হয়ে গেছে ধর্ম। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগও সেখান থেকে বের হতে পারছে না। কিন্তু এটাতো বাস্তবতা যে, এই আওয়ামী লীগ আমলে সংখ্যলঘুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। খুবই দুর্ভাগ্যের বিষয় এগুলোর কোনো বিচার হচ্ছে না।
সংস্কৃতিজন নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, একটা সামাজিক চুক্তি ছিলো। ওই চুক্তিটা আর নেই।’
সংস্কৃতি জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় বরেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছাটা বড় দরকার।
বক্তরা বলেন, শিক্ষার ব্যবস্থার মধ্যে ধর্মান্ধতা প্রবেশ করেছে। তাই, এই বিষয়ে এখনই যদি নজর দেয়া না যায় তাহলে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে সম্প্রদায়িক বিভেদ দূর করা সম্ভব হবে না।
গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ছোট বাচ্চার মাথার মধ্যে যদি শুরুর থেকে ঢুকিয়ে দেই, ও হিন্দু, ও খ্রিস্টান আমি মুসলমান-আমি সর্বশ্রেষ্ঠ। এই জায়গা থেকে সরতে না পারলে হবে না।
সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযুষ বন্দোপাধ্যায় বলেন, সংস্কৃতিচর্চার মধ্যে দিয়েই এটি করা সম্ভব। সংস্কৃতিচর্চার কথা বলতে আমি আরবান সংস্কৃতির কথা বলছি না। এখন ঢাকা…বাংলাদেতশ সব জায়গাটা আরবান হয়ে গেছে। লোকজ সংস্কৃতির চর্চা করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাদেকা হালিম বলেন, ইস্যুটা হচ্ছে- এটাকে অনুভূতির মধ্যে নিয়ে আসা। ধারণ করা। রাজনৈতিকভাবে চর্চা করা।
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সঞ্জীব দ্রং বলেন, সংবিধানে এত সুন্দর সুন্দর কথা লিখলাম। দিনের শেষে গিয়ে আমরা জাতিগত, ধর্মীয় সংখ্যালঘু মানুষের জন্য অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের যে কথা আমরা বলি, সেটা আমরা করতে পারলাম না।
একই সাথে বক্তারা বলেন সংস্কৃতির আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার কোন বিকল্প নেই।
আলোচনার সঞ্চালক এডিটরস গিল্ডে সভাপতি মোজাম্মেল বাবু বলেন, আমরা যদি শুরুটা সাংস্কৃতিক আন্দোলন থেকে করি যার প্রতিপলন শিক্ষায় পড়বে। শিক্ষাক্রম থেকে বই-পুস্তকে পড়বে। সেখান থেকে নতুন প্রজন্ম শিক্ষিত হবে। সেখান থেকে নতুন রাজনীতি আসবে। যা আন্তর্জাতিক মোড়লদের বিভাজনের রাজনীতি, ধর্মের নামে মানুষকে বিভাজনের রাজনীতি, লিঙ্গের নামে বিভাজনের রাজনীতি, ভোটের রাজনীতি থেকে প্রতিহত করবে। সেটাই হয়তো সর্বোত্তম পথ।