সাধারণ মানুষ শান্তি চায়। তাই, টেনেহিঁচড়ে সরকার নামানোর কৌশল হিসেবে অবরোধ কর্মসূচি রাজনীতিতে কাজে আসবে না। পাশাপাশি গণতন্ত্রের যে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে তার জন্যও বিচারের আওতায় আনতে হবে দোষীদের।
শনিবার এডিটর গিল্ড আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন বক্তারা। বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন এডিটরস গিল্ডের সভাপতি ও একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু।
টানা অবরোধের কবলে যখন দেশ, তখন এর লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন 'অবরোধের লক্ষ্য কী, প্রাপ্তি কী' শিরোনামের গোলটেবিল আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা। বলেন, যে দলগুলো সহিংসতার চেষ্টা করছে তাদের মূল লক্ষ্য ক্ষমতা দখল এবং সরকার পতন। জনগণের সমস্যা সমাধান নয়।
সরকারের পতন ঘটিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসতে চায় উল্লেখ করে দৈনিক আমাদের নতুন সময় পত্রিকার ইমিরেটাস এডিটর নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, দুই বছর যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকে, ডা. ইউনূসও যদি দুই বছর বা পাঁচ বছর দেশ চালায় তাতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। আওয়ামী লীগ গেলেই হলো।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি এখনও যদি নির্বাচনে আসে, আওয়ামী লীগকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফারজানা মাহমুদ বলেন, সহিংসতার কারণে বিএনপি মানুষকে টানতে পারছে না। ৯০ এর আন্দোলনে যেরকম হয়েছিল। সেই আন্দোলন করার ক্ষমতাই নেই, কারণ মানুষ তাদের সাথে নেই।
আলোচনায় সাবেক ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, অবরোধের লক্ষ্য হচ্ছে দেশে একটা চরম নৈরাজ্য সৃষ্টি করা। যারা নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে তারা জানে যে তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। ওদের দৃষ্টিতে একটাই প্রাপ্তি, শেখ হাসিনাকে মাইনাস করে দেয়া।
আলোচকরা বলেন, বড় দলগুলোর মধ্যে বিরোধ যতোদিন কমবে না, ততোদিন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে না দেশে। মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধান রাষ্ট্রের মূল নীতি প্রশ্নে দলগুলোকে একমত হতে হবে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইমতিয়াক আহমেদ বলেন, দু'টো বড় দলের মধ্যে বড় আকারে বিরোধ রয়েছে। ৭১ নিয়ে বিরোধ, গণহত্যা নিয়ে বিরোধ, ১৫ আগস্ট নিয়ে বিরোধ, ২১ আগস্ট নিয়ে বিরোধ।
সাবেক মন্ত্রীপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, একটা রাষ্ট্রের মধ্যে এ জাতীয় অসঙ্গতি থাকে। আমাদেরও একেবারে থাকবে না, এমনট না। স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের সংবিধানের যতগুলো সংশোধনী হয়েছে, একাদশ এবং দ্বাদশ সংশোধনী ছাড়া জনগণের ইচ্ছায় কি একটাও সংশোধনী হয়েছে?
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ফারুখ ফয়সাল বলেন, একদিকে বলছে ধর্ম নিরপেক্ষতা, আবার সংবিধানে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে রেখেছি। এটি একটি বড় বিতর্কিত বিষয়।
জনগণকে সাথে নিয়ে ইসিকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব বলেও মত দেন বক্তারা। যেকোনো মূল্যে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের তাগিদ দেন আলোচকরা।
বৈঠকের সঞ্চালক এডিটরস গিল্ডের সভাপতি মোজাম্মেল বাবু বলেন, কীভাবে নির্বাচন কমিশনকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একটা জায়গা তৈরি করে আমরা নির্বাচনের দিকে যাতে পারি। এবং সকল রকম পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে, সিসিটিভির বিকল্প হিসেবে কোটি কোটি মোবাইল ফোন কিংবা অন্য বিকল্পের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করতে চাই। বাংলাদেশ এই ট্রেনটা মিস করতে পারে না।
১৪ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
মানুষের সেবায় যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী