ট্রেনে আগুন জ্বালিয়ে নাশকতাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে সিটি এনএসআই এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
সিটি এনএসআইয়ের ১২ জন এবং র্যাবের ৫০ জন সদস্য রেলওয়ে স্টেশনের নিরাপত্তায় চৌকস নজরদারিতে নিয়োজিত রয়েছেন। তারা সন্দেহভাজন ব্যক্তি এবং তার সঙ্গে বহন করা ব্যাগ তল্লাশি চালাচ্ছেন, যাতে দুষ্কৃতিকারীরা কোনো প্রকারের দাহ্য পদার্থ এবং অবৈধ মালামাল বহন করতে না পারে।
র্যাব বলছে, দুষ্কৃতিকারীরা কোনো অবস্থাতেই যেনো কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায় অবস্থান করতে না পারে সেজন্য সার্বক্ষণিক টহল ও রোবাস্ট পেট্রোল জোরদার করা হয়েছে। গোয়েন্দার মাধ্যমে ট্রেনে আগুন জ্বালিয়ে নাশকতাকারীদের ওপর কঠিন নজরদারি রাখা হচ্ছ।
বৃহস্পতিবার বিকেলে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে রেল যোগাযোগের নিরাপত্তা জোরদার নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, গত ২৮ অক্টোবর হতে ভয়াবহ অগ্নিসংযোগ, গাড়িতে বোমা হামলা ও বিভিন্ন এলাকায় নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী, দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা বিপুল সংখ্যক চাঞ্চল্যকর নাশকতাকারীকে গ্রেপ্তারসহ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ টহলের মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদার ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে দেশের সর্বস্তরের মানুষের নিকট সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁও স্টেশনে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন দেয় নাশকতাকারীরা। পুড়ে যাওয়া একটি বগি থেকে মা-শিশুসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
গেলো ২৮ অক্টোবর বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণার পর থেকে রেলে একাধিক নাশকতার ঘটনা ঘটেছে।
গত ১৩ ডিসেম্বর ভোরে গাজীপুরের শ্রীপুরে রেল লাইন কেটে ফেলায় মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনসহ সাতটি বগি লাইনচ্যুত হয়। নিহত হন একজন। আহত হন ১০ জনের বেশি।
১৬ ডিসেম্বর টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কমিউটার ট্রেনে আগুন দেয় নাশকতাকারীরা। এতে ট্রেনটির দু'টি বগি পুড়ে যায়। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় ট্রেনটির আরেকটি বগি।
এছাড়াও ১৯ নভেম্বর জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী এলাকায় যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের তিনটি বগিতে এবং ২২ নভেম্বর সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা উপবন ট্রেনের একটি বগিতে আগুন দেয় নাশকতাকারীরা।
র্যাব-৩ এর অধিনায়ক বলেন, সম্প্রতি রাজধানী র্যাব-৩ এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় গত ২৮ অক্টোবর হতে বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিকভাবে হরতাল ও অবরোধের নামে সাধারণ মানুষের ওপর বোমা হামলা, গাড়িতে অগ্নি সংযোগ, পেট্রোল বোমা ও ট্রেনে বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এতে করে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস, টাঙ্গাইলে কমিউটার ট্রেনে, মৌলভীবাজারে পারাবত ট্রেনে, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন জ্বালিয়ে দেশের জনসাধারণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে নাশকতা করার অপচেষ্টা চলছে।