সহিংসতা, দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্ব, সর্বোপরি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাকেই ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশিষ্টজনরা। এডিটরস গিল্ড আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে তারা বলেন, নির্বাচন পরবর্তী অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলাই হবে নতুন সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ।
সপ্তাহখানেক পরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা প্রতিরোধ করাকেই মূল চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন এডিটর্স গিল্ডের গোল টেবিল বৈঠকে যোগ দেয়া বিশিষ্ট জনেরা।
নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, ২০০১ সালে নির্বাচন পরবর্তীকালে সংখ্যালঘুদের ওপর যে ভয়াবহ নির্যাতন নেমে এসেছিল, এবার এরকম একটা ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করে কিনা সেটাই দেখার।
দৈনিক সমকালের উপদেষ্টা সম্পাদক আবু সাঈদ খান বলেন, এই নির্বাচনের মধ্যদিয়ে রাজনৈতিক বিরাজমান সংকটটা থেকেই যাবে। নির্বাচন হয়ে যাবে।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, বিএনপির যে রাজনীতি এন্টি আওয়ামী লীগ রাজনীতি, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি। জামায়াতে ইসলামীর এখনও যে প্রভাব সারা বাংলাদেশে এটাকে অস্বীকার করার উপায় নেই।
তারা বলেন, নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের অন্ত:দ্বন্দ্ব নিয়ন্ত্রণে রাখাকেও বড় চ্যালেঞ্জ।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগের ভেতরে আরেক আওয়ামী লীগ হবে না কী হবে? এটা ধরে রাখা খুবই কঠিন। শেখ হাসিনা যতদিন আছেন ততদিন হয়তো ধরে রাখা হবে। কিন্তু আমি যেটা দেখছি, এর পরে আওয়ামী লীগের মধ্যে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা হবে।
জনসমর্থন ধরে রাখতে দুর্নীতি দমন করে সুশাসন নিশ্চিত করা দরকার বলেও মনে করেন তারা।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইমিতিয়াজ আহমেদ বলেন, একটা হলো, কম দুর্নীতি যেসব আছে এটা বন্ধ করা দরকার। বড় দুর্নীতি বন্ধ করা কিন্তু খুব কঠিন। পৃথিবীর বড় বড় দেশে বড় দুর্নীতি বন্ধ হয় না।
এডিটরস গিল্ডের সভাপতি মোজাম্মেল বাবু বলেন, এখনও সুযোগ আছে, যেসব প্রার্থীরা সত্যিই সীমা অতিক্রম করেছেন তাদেরকে কঠোর শাস্তির আওাতায় এনে একটা বার্তা মাঠে পাঠানো এবং পুলিশ প্রশাসনের এখনও সময় আছে নির্মোহভাবে, নিরপেক্ষভাবে কাজ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, তা না হলে এটা নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
নির্বাচন এবং নির্বাচন পরবর্তী সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকলে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে কোন সংকট হবে না বলে আলোচকরা মনে করেন।