বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব নয়। তাই তাদের সুষ্ঠুভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোই সরকারের মূল লক্ষ্য। এজন্য মিয়ানমারের সঙ্গে জোড়ালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুল হাসান।
বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খবর বিজ্ঞপ্তির।
এসময় তিনি আরও বলেন, তহবিল সংকটের কারণে গত বছর বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা বাজেট কাটছাঁট করে ৮ ডলারে নামিয়ে এনেছিল জাতিসংঘ। কিন্তু এর ফলে রোহিঙ্গাদের পুষ্টি সংকট বাড়তে থাকায় সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া প্রতিবন্ধী শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও সিঙ্গেল মায়েদের জন্য দেয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ৩ ডলার করে মোট ১৩ ডলার। বাংলাদেশের মত অধিক জনঘনত্বের দেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দান এবং রোহিঙ্গা শিশুদের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সম্বন্ধে বর্ণনা করেন। এ প্রকল্পটি রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন, কর্মসংস্থান নিয়ে কাজ করছে এবং তাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের বিষয়টি নিয়ে বর্তমান সরকার জোড়ালোভাবে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং স্বাগত বক্তব্য দেন (ইএমআরসিপি) প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব) ড. এ.টি.এম. মাহবুব-উল করিম।
তিনি বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজারের উখিয়া এবং অন্যান্য রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিয়ে তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি ২০১৮ সালে শুরু হয় যা চলবে ২০২৪ পর্যন্ত। এ প্রকল্পটি বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য একটি মানবিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প। প্রকল্পের আওতায় উখিয়া এবং টেকনাফ উপজেলার ৩২টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের জীবনমান ও দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে এবং বিধবা মহিলা ও প্রতিবন্ধী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে প্রতি মাসে জনপ্রতি ১০ ডলার করে নগদ আর্থিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির বাংলাদেশ প্রধান মিজ নামিকো মোতোকাওয়া রোহিঙ্গা প্রকল্পে তাদের মূল কার্যক্রম সম্বন্ধে ধারণা দেন। তিনি বলেন, তাদের মূল উদ্দেশ্যই হলো বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে তাদের কর্মক্ষম করে তোলা।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মিজানুর রহমান তার বক্তৃতায় বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে রোহিঙ্গা মহিলাদের জন্ম নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা তৈরি, তাদের বসবাসরত ক্যাম্পে সবুজ বনায়ন এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাথাপিছু খাদ্য সহায়তা বাবদ অর্থের পরিমাণ বাড়িয়েছে জাতিসংঘ। আগে যেখানে প্রত্যেক রোহিঙ্গাকে খাদ্য সহায়তা বাবদ প্রতি মাসে ৮ ডলার করে দেওয়া হতো, এখন থেকে সেখানে দেওয়া হবে ১০ ডলার করে।