‘নির্বাচনের সফলতা নির্ভর করছে ভোট পরবর্তী সুশাসনের ওপর’

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের সফলতা নির্ভর করছে নির্বাচন পরবর্তী সুশাসনের ওপর বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনরা।

শনিবার এডিটরস গিল্ড আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় তারা বলেন, বাংলাদেশ ভূ-রাজনীতির চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। মার্কিন ঝড় এখন থামলেও নিজেদের পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে যেকোনো সময় আবারও সক্রিয় হতে পারে বলে জানান তারা। 

১৯৭১ সালেও মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের বিপক্ষে ছিলো। যার রেশ এখনও রয়েছে উল্লেখ করে বিশিষ্টজনরা বলেন, যে দলই ক্ষমতায় আসুক মার্কিনিরা সবসময় নিজেদের ক্ষমতায়ন এবং যুদ্ধনীতির পক্ষে। 

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবেদ খান বলেন, মার্কিনি ঝড় ১৯৭১ সালেও ছিলো। মার্কিনিদের প্রত্যাখান করা আমাদের উচিত ছিলো। ঝড় বারবার রূপ বদলে আসছে। আমাদের সতর্ক হতে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বসে থাকার দেশ নয়। তারা এখনও সক্রিয়। 

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবেদ খান।

অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে নিজেদের যাচাই করার মধ্যে জনগণের ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, যাচাই এর এই প্রক্রিয়া বুদ্ধিমত্তার। আমেরিকার সমর অর্থনীতির বদৌলতে যা যা করার তাই করে। 

ভোরের কাগজের সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, মুক্তিযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিলো সবচেয়ে নেতিবাচক। পাকিস্তানে এবং মিশরে সকল মানবতার হত্যা হলেও যুক্তরাষ্ট্র কোনো শব্দ উচ্চারণ করেনি। 

তিনি আরও বলেন, যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে সেখানে অনেক বড় শক্তি হারতে যাচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় নৌকা প্রার্থীকে হারানোর জন্য বিএনপি ভোট দেবে।

সাংবাদিক নাজমুল আশরাফ বলেন, রাজনীতিবিদরা বিদেশ নির্ভর। মিডিয়াও তাই করছি। আমরা কি আমাদের সংবাদ নিয়ে আলোচনা করতে পারতাম না। আমেরিকার পররাষ্ট্র নীতি ব্যর্থ। তারা এখন ইজরাইলের ওপর ভর করেছে। চীনকে তারা শক্র ভাবে। ইজরাইল সর্বাধিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। কতটা নিষ্ঠুর অবস্থানে গেলে তারা এমন করতে পারে। আমেরিকার যুদ্ধ নীতি ব্যর্থ। 

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, ভোটাররা কি সংকট কাটিয়ে ভোট দেবে। এবারের নির্বাচনটি অসম্পূর্ণ। ১৪ সালের নির্বাচন সন্ত্রাস হয়েছিল বাসে। এবার ট্রেনে। দুই দল দুই দলকে দোষ দিচ্ছে। দায় কার? সরকার নাশকতা করলে ভোটার যাবে না। তাই সরকারের নাশকতা করার সম্ভাবনা কম।

২০১৩-১৪ সালে অগ্নিসন্ত্রাসের বিচার না হবার কারণে এখনও তার ধারাবাহিকতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচন বিরোধীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেবার কথা বললেও তা বাস্তবে কার্যকর করেনি। 

অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ।

অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ হস্তক্ষেপ আর কাজ করবে না। আমাদেরও পেশাদারিত্ব বাড়ানো দরকার। যখন আমেরিকা বুঝতে পারলো ভারত নেই তার সাথে তখন তারা চাপ কমালো। 

সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী বলেন, শ্রম আইন, গণতন্ত্র এবং নির্বাচনের প্লেন এখন আকাশে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থাপ্পড় খায়, কিন্তু তারা হাল ছাড়ে না। বাংলাদেশের ওপর নতুন করে মার্কিন স্যাংশন আসবে না বলে মনে করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, কিছু দিনের মধ্যে আবার সম্পর্ক ভালো হবে। তারা আমাদের স্বাগত জানাবে। 

বর্তমানে দেশে যে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে তা রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে নয় বলেও মন্তব্য করেন বক্তারা। 

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, ২০১৩, ১৪ সালে অগ্নিসন্ত্রাসের কোন বিচার হয়নি। তাই এখনও তা চলছে। ঘোলাটে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মিস ইনফরমেশনের কারণে। অনেকেই স্যাংশন কবে আসবে বলে দিচ্ছে। কিন্তু ইউএস সরকার কোনো তারিখ বলেনি। 

সমাজকর্মী খুশি কবীর বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে। জনগণ একটা মতামত দিচ্ছে বা দিতে চাচ্ছে। এরপর বিষয় হচ্ছে সংসদ অ্যাকটিভ রাখা। কোন বিল পাশ হবে তা নিয়ে বিতর্ক করবে তা কীভাবে হবে। ভোটার আসবে। কিন্তু ম্যানিপুলেশন যেন না হয়। নেতারা বন্দী না থাকলেও বিএনপি নির্বাচন করতো না। 

তিনি আরও বলেন, মার্কিনিদের বিষয়টি আমরা বিশেষভাবে দেখি। তাদের পররাষ্ট্র নীতিতে সবসময় অন্য রাষ্ট্রের উপর ক্ষমতায়ন বা যুদ্ধের নীতি ছিল। সেটি দলই ক্ষমতায় আসুক।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. জাহিদী সাত্তার বলেন, ৯০ এর যতোই সহিংসতা হোক না কেন অর্থনীতি এগিয়ে গেছে। যে চ্যালেঞ্জ এসেছে তা রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে নয়, দেশের বাইরে থেকে এসেছে। ডলারের অবমূল্যায়নের কারণে রেমিটেন্স বেশি আসছে। তা অবশ্যই শ্রমিকদের দেয়া উচিত। 

এডিটরস গিল্ডের সভাপতি ও একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু।

এডিটরস গিল্ডের সভাপতি ও একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু বলেন, সাংবিধানিক নির্বাচন দিয়ে দেশকে যদি সুশাসন দিতে পারে, মানুষকে শান্তি দিতে পারে, তবেই আওয়ামী লীগ সফল। 

বিএনপি ডাক দিয়েছে, ভোটার না আসলে তারা সফল উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, কিন্তু নাশকতার কোনো জাস্টিফিকেশন হতে পারে না। এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের মানুষের অভ্যুত্থান ঘটতে পারে। নির্বাচন পরবর্তী সুসানের ওপরই নির্ভর করছে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা।