খাল উদ্ধারে সিটি করপোরেশন, পানি প্রবাহ বন্ধে ওয়াসা!

নদী আর খালকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিলো যে শহর ঢাকা সেই শহরে এখন জলাশয়ের দেখা মেলাই ভার। দখল আর দূষণের কবলে রাজধানীর শিরা-উপশিরার মত বয়ে চলা খালগুলো যতই সরু হচ্ছে ততই ধুকছে নগরীর পানি নিষ্কাশনের প্রক্রিয়া। বর্ষায় জলাবদ্ধতাই শুধু নয়, খালের আবর্জনার স্তূপ অসুস্থ করে তুলছে চারপাশের পরিবেশকেও।

এরকম যখন অবস্থা তখন তখন গত ডিসেম্বরে রাজধানীর ভাটারার সুতিভোলা খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। একসময় বাড্ডা, হাতিঝিল হয়ে এই খাল প্রবাহিত হতো কারওয়ানবাজার পর্যন্ত। গেলো ৪০ বছরের দখল আর দূষণে প্রায় নিশ্চিহ্ন হতে বসেছিলো এই খাল।

সুতিভোলা খাল সংস্কার করে হাতিরঝিল এবং তুরাগ নদের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে ঢাকা উত্তর সিটির। খাল পুনঃখননের ফলে ধীরে ধীর যখন পানি প্রবাহ ফিরে শুরু করেছে তখন পাশেই সমুদ্রখালের পানি প্রবাহ বন্ধ করে নেয়া হচ্ছে ওয়াসার পাইপ।

ওয়াসার এই প্রকল্পের কারণে সুতিভোলা আর সমুদ্রখালের পানিপ্রবাহ ফেরাতে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সব আয়োজন ব্যর্থ হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম।

বুধবার সুতিভোলা খালের ওয়াকওয়ে নির্মাণ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন মেয়র। যদিও ওয়াসা বলছে, নতুন করে পরিকল্পনা করবেন তারা।

মেয়র জানান, পানির প্রবাহ ঠিক রাখা না গেলে সব আয়োজনই ব্যর্থ। যদিও ওয়াসার কর্মকর্তা বলছেন, পানির পাইপ আরো গভীরে নেবার পরিকল্পনা করবেন তারা।

মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, যদি পাইটপ নিচে নামানো না হয় তাহলে খালের গতিপথ আমরা নিজেরাই গল টিপে হত্যা করে ফেললাম।

ওয়াসার প্রকল্প পরিচালক ওয়াহিদুল ইসলাম মুরাদ বলেন, পাইপ গভীরে নিতে যে স্পেশাল ফিটিংস লাগবে সেটার জন্য দুই-তিনমাস সময় লাগবে। এই সময়ের মধ্যে অন্য কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে জুন-জুলাই নাগাদ কাজ করে ফেলবো।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এমন সমন্বয়হীনতার কারণে ব্যর্থ হয় প্রকল্প আর নষ্ট হয় অর্থ।

 নগর পরিবকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবীব বলেন, আজকে মেয়র আসলেন বলে, যদি না আসতেন, ওয়সার লোকককে উপস্থিত করতে না পারতেন তাহলে সমাধানটা হতো না। দেখেন ছোট ছোট করে বড় অর্জনকে বিসর্জন দিচ্ছি। এই যে দখল যারা করেছে, তারা কিন্তু আশপাশে ঘুরছে। মনে করে যে, পার পেয়ে যাব। আমি মনে করি এই প্রকল্প সেই ধারণাটা প্রতিষ্ঠিত করুক যে, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

এর আগে সুতিভোলা খালের সাত কিলোমিটার অংশ জুড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন উত্তরের মেয়র।

মেয়র আতিকুল ইসলাম জানান সুতিভোলা খালা, সমুদ্র খালসহ মোট ২৯ কিলোমিটার খালের চারপাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে পর্যায়ক্রমে। প্রাথমিকভাবে সুতিভোলা খালের সাত কিলোমিটার অংশে ওয়াকওয়ে নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে যার দায়িত্বে থাকবে সেনাবাহিনী। দুটি ধাপে থাকবে হাটা পথ, গাছের সারি থাকবে খেয়া ঘাটও। চলতি বছরের মধ্যে শেষ হবে কাজ। এটি হবে ঢাকার প্রথম মডেল খাল।

চলতিবছরের মধ্যেই সেনাবাহিনী তত্ত্বাবধানে এই কাজ শেষ হবে বলে আশা করেন মেয়র।