পবিত্র ঈদুল আজহা শেষে রাজধানীজুড়ে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমে শতভাগ সফলতার দাবি করেছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। দুই সিটির প্রশাসকেরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নগরের অধিকাংশ বর্জ্য অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। তবে পশুর হাটের বর্জ্য যথাসময়ে পরিষ্কার না করায় গাফিলতির অভিযোগে ইজারাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।
রোববার (৩১ মে) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএসসিসি প্রশাসক আব্দুস সালাম।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, রাজধানীবাসীর আন্তরিক সহযোগিতায় আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নগরের অধিকাংশ বর্জ্য অপসারণ করতে সক্ষম হয়েছি। এবারের ঈদে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকা থেকে প্রায় ৩৬ হাজার টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। নগরের কোথাও এখনো বর্জ্য পড়ে থাকলে তা দ্রুত সিটি করপোরেশনের হটলাইনে ফোন করে জানানোর জন্য নাগরিকদের আহবান জানান তিনি।
পশুর হাটের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আব্দুস সালাম বলেন, হাটের বর্জ্য পরিষ্কার করার দায়িত্ব ছিরো ইজারাদারদের। কিন্তু তারা সেই কাজ না করায় সিটি করপোরেশনকে নিজস্ব জনবল দিয়ে হাট পরিষ্কার করতে হয়েছে। এই গাফিলতির কারণে সংশ্লিষ্ট ইজারাদারদের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে জামানতের পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে।
এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক জানান, বর্জ্য অপসারণে তারাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। ডিএনসিসির পশুর হাট ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের গাফিলতি পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে দায়িদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
দুই সিটি করপোরেশনের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, এবারের ঈদুল আজহায় রাজধানী ঢাকা থেকে মোট প্রায় ৫৫ হাজার টন কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। দুই সিটির পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিরলস পরিশ্রমে দ্রুত সময়ে নগরী আগের রূপে ফিরেছে বলে দাবি প্রশাসনের।
