বাংলা একাডেমির বইমেলায় কয়েকজন ব্যক্তির বিতর্কিত প্রকাশনাকে কেন্দ্র করে দর্শনার্থীদের ক্ষোভ ও প্রতিরোধ সঠিক হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি সচিব খলিল আহমদ।
তিনি বলেন, মেলায় তাদের উপস্থিতি প্রতিরোধ করা ছিল যুক্তিসঙ্গত। নীতিনৈতিকতাহীন প্রকাশনার বিপক্ষে জনগণের এই প্রতিবাদকে আমরা সম্মান করি।
শনিবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কপোর্রেশনে (এফডিসি) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র আয়োজিত ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জীবদ্দশায় এন্ড্রু কিশোরের মতো গুণী গায়ককে সম্মানীত করতে না পারায় প্রধানমন্ত্রী কষ্ট পেয়েছেন জানিয়ে খলিল বলেন, এখন থেকে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবদ্দশায় তাদের অবদানের স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সঙ্গীত নিয়ে যারা একুশে পদক পেয়েছেন তারা একজন আরেকজনের সমালোচনা করবেন না, বিরুদ্ধে যাবেন না। যাদের অবদান আছে তাদেরও পরবতীর্তে স্বীকৃতি দেয়া হবে। বর্তমান তরুণ প্রজন্ম বই পড়া অপেক্ষা টিকটক ও ফেইসবুকের পেছনে বেশি সময় ব্যয় করে যা জ্ঞানভিক্তিক সমাজ বিনির্মাণে সহায়ক নয়।
তিনি জানান, কলকাতা বইমেলায় অর্ধেকেরও বেশি দর্শনার্থী বই কিনে থাকে। গুণগত প্রকাশনাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বাংলা একাডেমিতে তরুণ লেখকদের প্রশিক্ষণ পুনরায় শুরু হচ্ছে। কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও রচনা সামগ্রীকে সংরক্ষণ এবং জনগণের নিকট এই সংক্রান্ত তথ্য উম্মুক্ত করার জন্য নজরুল জাদুঘর তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া মনিষী যাদুঘর, সঙ্গীত জাদুঘর ও ভাষা জাদুঘর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
‘মানসম্পন্ন প্রকাশনাই পারে একুশের বইমেলাকে সার্থক করতে’ শীর্ষক ছায়া সংসদে শরিয়তপুরের মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিতার্কিকদের পরাজিত করে ঢাকার সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিতার্কিকরা চ্যাম্পিয়ন হয়।
প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন- ড. এস এম মোর্শেদ, জোসিন্তা জিনিয়া, সাংবাদিক জিয়াউল হক সবুজ, সাংবাদিক পার্থ সঞ্জয় ও সাংবাদিক সাদিয়া চৌধুরী। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।