দূষণে বিষাক্ত হয়ে উঠছে রাজধানীর বাতাস

অপরিকল্পিত উন্নয়ন, লক্কড়ঝক্কড় যানবাহনের কালো ধোঁয়া আর উন্মুক্ত নির্মাণ কাজ, এসব কারণে বিষাক্ত হয়ে উঠছে রাজধানীর বাতাস। ধুলাবালির আস্তরণে মানুষের চেহারাও বদলে যাচ্ছে। নিজের অজান্তেই শরীরে ঢুকছে বিষাক্ত বায়ু। পরিবেশ সুরক্ষায় কেউ মানছে না আইনকানুন। বন, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, শুধু অভ্যন্তরীণ দূষণ নয়, ট্রান্সবাউন্ডারি দূষণও এখন ভাবিয়ে তুলছে।

ধুলায় ধূসর চারদিক। ধূলার আস্তরে নিমিশেই হারিয়ে যাচ্ছে যানবাহন।প্রতিটি নিশ্বাসে দেহে ঢুকছে বিষ। কোনো ভাবেই যেন বন্ধ করা যাচ্ছে না দূষণের মাত্রা। 

রাজধানীর গাবতলি মোড় ও বেড়িবাঁধ এলাকা। উন্মুক্তভাবে চলছে ছয় লেন সড়কের কাজ। যত্রতত্র ফেলে রাখা হয়েছে নির্মাণ সামগ্রী। যানবাহন চলাচল করলেই ধূলায় অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে পুরো এলাকা। মানুষের কথা ভাবারও যেন কেউ নেই এই শহরে। 

বেরিবাঁধের পাশেই উন্মুক্তভাবে বিক্রি হচ্ছে ইট, সুরকি, পাথরসহ নির্মাণ সামগ্রী। ট্রাকে লোড-আনলোডের সময় ক্ষুদ্র ধুলা কণা মিশে যাচ্ছে বাতাসে। খোলা স্থানে শুকনো পাতা, খড় পুড়িয়ে দূষণকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। পোড়ানো বর্জ্যের ধোয়া দূষণের মাত্রাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে কয়েকগুণ। 

পুরানো আর লঙ্করঝক্কর গাড়ি সড়কে চলাচল নিষেধ থাকলেও কেউ তা মানছে না। এসব গাড়ির কালো ধোয়া ছড়িয়ে পড়ছে চারিদিকে। দূষণ ছড়াচ্ছে ইটভাটাও। বায়ু দূষণের কারণগুলো চিহ্নিত হলেও নিয়ন্ত্রণে কোন ব্যবস্থাই নেয়া হচ্ছে না। এমনকি দূষণরোধে উন্নয়ন প্রকল্পে যে অর্থ বরাদ্দ থাকে তাও ঠিকমতো ব্যবহার করা হয় না। 

বন পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়কমন্ত্রী বলেন, এসব উৎস ছাড়াও ৩৭ ভাগ বায়ু দূষণ হচ্ছে ট্রান্সবাউন্ডারির মাধ্যমে। তবে যে কেউ শহরে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করে পরিবেশ দূষণ করলে শাস্তি পেতে হবে। 

বন পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়কমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, পরিবেশ এবং উন্নয়ন, অনেকেই মনে করেন এটা সাংঘর্ষিক। তবে এখন উন্নয়নের সাথে আরেকটা শব্দ আমরা যোগ করেছি, সেটা হচ্ছে টেকসই উন্নয়ন। সুতরাং পরিবেশ ও উন্নয়নের একটা ভারসাম্য থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আইন সবার জন্য সমান। এখানে কোনো ছাড় নেই। কোনো প্রতিষ্ঠান সরকারি, বেসরকারি বা আধাসরকারি হতে পারে, আমরা সেটা দেখবো না।     
সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের অভাবে নগরবাসীর ভাগ্য জুটছে না বিশুদ্ধ বায়ু।